''ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফিরোজ আলম বলেন, ‘এটি একটি গোপনীয় বিষয়''রাবি ইনস্টিটিউট: যে কারণে ৫ জনকে ভাইভা কার্ড দেয়নি!


Published: 2020-12-05 12:22:46 BdST, Updated: 2021-01-27 13:43:13 BdST

রাবি লাইভ: এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিকাল সায়েন্সেসের (আইবিএসসি) কয়েকটি পদে নিয়োগ সিলেকশন বোর্ড বসতে যাচ্ছে আগামী ৮ ডিসেম্বর। আবেদনের জন্য সব শর্ত পূরণ করলেও পাঁচজনকে ভাইভা কার্ড দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই আবেদনকারীরা। তাদের ভাষ্য অজ্ঞাত কারণে ভাইভা কার্ড দেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শুভল এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. রফিকুল ইসলাম ভাইভার কার্ড পেয়েছেন।

বিষয়টি তারা উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. মনজুর হোসেনকে জানিয়েছেন। তবে উপরের দুইজন আবেদনকারীর ঠিকানায় ভাইভা কার্ড পৌঁছালেও আবেদনকারী ড. সারনী আক্তার, ড. মাহবুবুর আলম, ড. মতিউর রহমান, ড. জিয়াউল করিমসহ পাঁচজন কার্ড পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

আবেদনকারী ড. জিয়াউল করিম বলেন, ‘আমি এখন জাপানে অবস্থান করছি। পরীক্ষার তারিখ পড়েছে, অথচ বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। বাংলাদেশে নিজ বাসায় খোঁজ নিয়েছি, সেখানে আমার নামে ভাইভার প্রবেশপত্র পৌঁছায়নি।’

সহযোগী অধ্যাপক পদে একজন আবেদনকারী অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ড. সারনী আক্তারও ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক পদে আবেদন করেন। তার পিএইচডি জাপানে, একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত বিভাগের ফলাফলে প্রথম থেকে সপ্তম স্থান অধিকারীর মধ্যে।

সব যোগ্যতা আছে তবুও তাকে ভাইভার কার্ড পাঠানো হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে চায় প্রশাসন। এই আবেদনকারী আরও বলেন, ‘আমরা যখন জানতে চেয়েছি কেন ইনভাইটেশন পাঠানো হয়নি? তখন ইনস্টিটিউট থেকে বলা হচ্ছে, এশিয়ার ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য নয়।

যদিও বিজ্ঞপ্তিতে এমন কোনো বিষয় উল্লেখ ছিল না। আমাদের প্রশ্ন, আমরা কেন ভাইভার কার্ড পাব না?’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, একটি ফেলো পদ (সহকারী অধ্যাপক) পূরণের লক্ষ্যে প্রথম দফায় ২০১৫ সালের জানুয়ারির ১৭ তারিখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের জানুয়ারির ১৯ তারিখে জন্য নতুন আবেদন চাওয়া হয়। একই তারিখে দুইটি সহযোগী অধ্যাপক পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় ইনস্টিউটটি। ওই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে প্রথম দফায় ছয়জন এবং দ্বিতীয় দফায় ১৮ জন আবেদন করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পূর্বে আবেদনকারীদের নতুন করে আবেদনের দরকার নেই। দ্বিতীয় দফায় বিজ্ঞপ্তিকালে ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের পরিচালক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেন।

এশিয়ার ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য হবে না কেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মনজুর বলেন, ‘ইনস্টিটিউটের সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে নিয়োগের জন্য দুইটি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

প্রথমটিতে এশিয়ার ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য নয় এমন উল্লেখ ছিল। দ্বিতীয় দফায় আবেদনের ক্ষেত্রে এশিয়ার ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য নয় এমন বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। শুনেছি কয়েকজন আবেদনকারীর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভাইভা ইনভাইটেশন পাননি।

তারা দ্বিতীয় দফায় আবেদন করেছেন। তাদের ভাইভার জন্য ইনভাইটেশন কার্ড না পাঠানো অযৌক্তিক।’তিনি বলেন, আমি এখন পরিচালকের দায়িত্বে নেই। ইনস্টিটিউটই ভালো বলতে পারবে কী কারণে, কেন ভাইভার ইনভাইটেশন কার্ড পাঠানো হয়নি।

ইনভাইটেশন কার্ড না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ইনস্টিটিউটের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ড. ফিরোজ আলম বলেন, ‘এটি একটি গোপনীয় বিষয়।

এ ব্যাপারে কোনো কথা বলা যাবে না। তাই কোনো মন্তব্য করার আমার কোনো অধিকার নেই। দুঃখিত এটা নিয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারবো না।’ এক পর্যায়ে তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেন।

ঢাকা, ০৫ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।