হাবিপ্রবির নিয়োগ নিয়ে থেমে নাই ষড়যন্ত্র


Published: 2019-07-11 11:34:23 BdST, Updated: 2019-07-23 11:20:18 BdST

হাবিপ্রবি লাইভঃ আজ দিনাজপুর প্রেসক্লাবে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)’র প্রভাষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম ও একটি মুক্তিযোদ্ধার পরিবার পৃথক দুইটি সংবাদ সম্মেলন করেছে ।

এর আগেও প্রগতিশীল সংবাদ সম্মেলন করেছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই এবং বর্তমান বাংলাদেশ সরকার নিযুক্ত বর্তমান উপাচার্য আসার পর থেকেই তারা সকল বিষয়ে বিরোধিতা করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে আজ সংবাদ সম্মেলনে ড.রমজান আলীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও প্রতিটি রিজেন্ট বোর্ডে স্থায়ী বহিস্কারের বিষয়টি তালবাহানা করে তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয় ।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী গত ৬ তারিখ রিজেন্ট বোর্ডের সভা শেষে বলেছিলেন, রিজেন্ট বোর্ডের সভায় শিক্ষক রমজান আলীর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল । কিন্তু রমজান আলীর বিরুদ্ধে মহামান্য আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় তার স্থায়ী বহিস্কারের বিষয়টি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে ।

তবে, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িক বহিষ্কার থাকবেন ,এ সময় তিনি কোন ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন না । মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় পর বিশ্ববিদ্যালয় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

উল্লেখ্য যে, ড. রমজান আলীর বিরুদ্ধে তার স্ত্রী ২০১৮ সালে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে এনে রাজশাহীতে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন । বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে । সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয় , নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভাগীয় বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকদের নিয়োগ কমিটিতে না রেখে ভিসির পছন্দনীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ কমিটিতে রাখা হয়েছে ।

উদ্যানতত্ত্ব্ব বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে চেয়ারম্যান লিখিত অভিযোগ করেছেন সেটিও বলা হয় । এ ব্যাপারে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষক বলেন, নিয়মানুযায়ী বিভাগের চেয়ারম্যানগণ নিয়োগ কমিটিতে থাকার সুযোগ পান এবং মহামান্য রাস্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে নির্ধারিত কয়েকজন ব্যক্তি ঐ বোর্ডে থাকেন ।
উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান সে হিসেবে উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের নিয়োগ কমিটিতে ছিলেন এরপরেও অধ্যাপক ড. মো.শরীফ মাহমুদ যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পুর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দ্যেশ্যপ্রনোদিত । সিলেকশন বোর্ডের ৬ জন সদস্যের মধ্যে ৫ জন সদস্য একমত হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ৪টি ধাপ( লিখিত, ডেমো ক্লাস, ভাইবা ও একাডেমিক রেজাল্ট) অনুসরণ করে, সর্বোচ্চ নাম্বার প্রাপ্তদেরকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছেন ।

কিন্ত অভিযোগকারী শিক্ষক প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়কে বাদ দিয়ে চতুর্থ অবস্থানে থাকা পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করার জন্য অযৌক্তিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে ব্যার্থ হলে এসব অভিযোগ করেন , যা অনৈতিক ও শিক্ষকসুলভ আচরণের পরিপন্থী। উল্লেখ্য যে, উক্ত অভিযোগকারী শিক্ষক ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রচলিত প্রভাষক নিয়োগের নীতিমালাকে শিথিল করে তৎকালীন বিএনপি-জামাত সরকারের ক্ষমতার দাপটে নিজেই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন ।


সংবাদ সম্মেলনে , সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত একজন অফিসারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগে বলা হয় , সাবেক এই ছাত্র বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করেছেন এবং সে জামাত পরিবারের একজন সদস্য ।

কিন্তু এ ব্যাপারে কোনই দালিলিক প্রমান তারা উপস্থাপন করতে পারেনি তারা। এ ব্যাপারে জানা যায় , দীর্ঘ ৭ বছর ধরে তিনি ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত ছিলেন । এই সময়ে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সহ বিভিন্ন সংগঠনের পদে ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তার বিরুদ্ধে কখনো কেউ এসব অভিযোগ করেনি । কিন্তু ৭ বছর পর আজকে কতিপয় জামাত-বিএনপিপন্থী শিক্ষক তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের স্বার্থে আক্রোশ বশত এসব অভিযোগ করে যাচ্ছেন ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হওয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ি সকলের পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়েছে । সেখানে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কোনই সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উল্লেখ্য যারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই জামাত- বিএনপির রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টটার অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপি জামাত পন্থী সাদা দলের প্যাডে তাদের নাম এখনো আছে। পৃথক একটি সংবাদ সম্মেলনে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা মমিন সরকারের সহধর্মীনি মনিজা বেগম অভিযোগ করেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরির আশায় অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকারকারী তার ছেলে আল মামুন সরকার সেকশন অফিসার পদে আবেদন করেছিল। কিন্তু নিয়োগে সব ধরনের কোটা বিধি মানা হয়নি? এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক জানান , বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে ।

প্রথমস্থান অধিকারকারী একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শিক্ষক পদের জন্য অভিযোগ না করে কর্মকর্তা পদের জন্য অভিযোগ তুলেছেন এটি আমার কাছে আশ্চর্যজনক মনে হচ্ছে । আমার জানামতে কোটা বাতিলের পরিপত্রে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে , ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ শ্রেণি) এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২ শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তার পদটি হচ্ছে ৯ম গ্রেডের । সুতরাং তাদের এমন দাবি কতটুকু যৌক্তিক অনুমেয় ।

ঢাকা, ১১ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।