হাবিপ্রবিতে ছাত্র-শিক্ষক ও দুই কর্মচারী বহিস্কার


Published: 2020-03-20 20:02:28 BdST, Updated: 2020-07-10 18:05:54 BdST

হাবিপ্রবি লাইভঃ দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ৪৮তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ছাত্র-শিক্ষক ও দুই কর্মচারীকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সেই সূত্র থেকে জানাযায়, এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী প্রফেসর ড.মো.রমজান আলীকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত এবং অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের মার্কেটিং বিভাগের লেভেল-৪ সেমিস্টার-২ এর শিক্ষার্থী আলমগীর কবিরকে দুই সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম এবং আবাসিক হল থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়।

এছাড়া রিজেন্ট বোর্ডের ওই সভায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করায় বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী প্রফেসর সৌরভ পাল চৌধুরীর পর্যানোন্নয়ন তিন বছর স্থগিত করা হয়। সেই সাথে হুবহু একই প্রশ্নপত্রে দুই বছর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগে পরীক্ষা কার্যক্রম হতে দুই বছর বিরত রাখা এবং স্বীয় বিভাগের প্রফেসর মো.কুতুব উদ্দিন এর সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেয়া হয়।

একই রুলসে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড.মো.সফিউল আলম (সাবেক) এর টেবিলে আঘাত করে কাঁচ ভেঙ্গে ফেলার অপরাধে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী প্রফেসর মো.আব্দুর রশীদকে ১ জুলাই ২০২০ ইং তারিখে প্রাপ্য বার্ষিক বর্ধিত বেতন স্থগিত রাখা হয়। সেই সাথে শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালকের পদে দায়িত্বে থাকাকালীন ৪ লক্ষ টাকা অগ্রিম গ্রহণ করে তা যথাযথভাবে সমন্বয় না দেওয়ায় পরবর্তী উচ্চতর পদে পদোন্নতি বা পর্যান্নোয়ন স্থগিত করা হয়।

একই সাথে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ তুলে ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রদানের অপরাধে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের জুনিয়র ক্লার্ক কবিতা রায়কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এবং একই রুলসে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র ল্যাব টেকনিশয়ান মো.আমিনুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

এছাড়া এই রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে ১১জন প্রভাষক পদে নিয়োগ এবং অন্যান্য অনুষদের কয়েকটি বিভাগে শিক্ষকদের পদন্নোতি প্রদান করে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা.মো.ফজলুল হক (মুক্তিযোদ্ধা) বলেন, রিজেন্ট বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম। এখানে সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিগণ মেম্বার হিসেবে থাকেন। কেউ তো চায়না কারো শাস্তি হোক। কারণ শাস্তি কথাটাই তো খারাপ। কিন্তু যখন মানুষ অপরাধ করে, তখন তার শাস্তি আরোপ করা হয়। কারন একজন মানুষের অপরাধের কারনে তাকে শাস্তি দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে সতর্ক করে দেয়া হয়। যাতে অন্যরা বুঝতে পারে যে অপরাধ করলে তাকেও এই শাস্তি দেয়া হবে। অপরাধীর অপরাধের শাস্তি হোক এটা সবাই চায়। অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতে হবে, আর এটাই হওয়া উচিত। তা’না হলে অপরাধকারীদের মধ্যে কোন ভয়-ভীতি থাকবে না ফলে অপরাধের মাত্রা এবং বিশৃংখলা আরও বেড়ে যাবে।

উল্লেখ্য যে, রিজেন্ট বোর্ডে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মনোনীত জাতীয় সংসদের দুইজন, সরকার মনোনীত যুগ্ম-সচিব পদ মর্যাদার দুইজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতে সরকার কর্তৃক মনোনীত ৩ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মনোনীত ৩ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ বোর্ডের সদস্য হিসেবে থাকেন।

ঢাকা, ২০ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।