বিয়ের আসরে কনের বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা কথিত বয়ফ্রেন্ডের!


Published: 2019-08-02 01:55:35 BdST, Updated: 2019-08-17 19:12:34 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : ক্লাস এইট পর্যন্ত একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন তারা। এসময় তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কটি যৌন হয়রানির পর্যায়ে চলে যায়। তাই মেয়েকে বখাটে ছাত্রের হাত থেকে বাঁচাতে অন্য স্কুলে নিয়ে ভর্তি করান বাবা তুলা মিয়া। এতেও রক্ষা হয়নি সেখানেও গিয়ে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যেক্ত করতে শুরু করে ওই বখাটে ছাত্র সজীব আহমেদ রকি। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে তার খালার বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানেও গিয়ে যৌন হয়রানি শুরু করে রকি। বাধ্য হয়ে ওই ছাত্রীকে টাঙ্গাইল পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে কিছুদিন আগে ওই ছাত্রীকে ঢাকায় এনে পড়াশোনা করাতে চাইলে রকি আবার তার পিছু নেন। অবশেষে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বয়ফ্রেন্ড দাবিদার রকি ওই ছাত্রীর বিয়ে ঠেকাতে তৎপর হয়ে উঠে। এরই মাঝে ওই ছাত্রীর বাবার করা নারী নির্যাতন মামলায় তাকে জেল খাটতে হয়েছে।

এদিকে মগবাজার দিলু রোড এলাকায় বৃহস্পতিবার প্রিয়াংকা শুটিং হাউসের দ্বিতীয় তলায় বিয়ের আয়োজন চলছিল ওই ছাত্রীর। বিয়ের খবর পেয়ে রকি সেখানে ছুটে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রমতে রকি ওই ছাত্রীকে বিয়ের আসর থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করেন। এসময় ওই ছাত্রীর বাবা তুলা মিয়া ও তার স্ত্রী বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে ওই ছাত্রীর বাবা তুলা মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে রকি। বাধা দিতে গেলে ওই ছাত্রীর মাকেও ছুরিকাঘাত করে সে। এসময় রকি নিজেকে ওই ছাত্রীর বয়ফ্রেন্ড বলে দাবি করেন। তিনি দাবি করেন দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেম করেছেন তিনি। তাকে না জানিয়ে ওই ছাত্রীর বাবা তাকে অন্যত্র বিয়ে দিচ্ছিলেন তাই তিনি বিয়ের আসরে এসেছেন। বিয়ের আসরে তবে উপস্থিত জনতা রকির এসব কথায় কান না দিয়ে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

জানা গেছে নিহত তুলা মিয়া টাঙ্গাইলের মধুপুরের বাসিন্দা। তবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মগবাজার দিলু রোডের প্রিয়াঙ্কা হাউসের কাছেই ভাড়া থাকতেন। তিনি একটি মেসের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছিলেন।

জানা যায়, বুধবার ওই মেয়ের গায়ে হলুদ ছিল। আজ তার বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। কিন্তু হঠাৎ ওই যুবক সেখানে প্রবেশ করে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। তখন মেয়ের বাবা তাকে থামাতে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মেয়ের বাবাকে ছুরিকাঘাত করে ওই যুবক। তখন মেয়ের মা বাধা দিতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে। পরে দ্রুত তাদের ইনসাফ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মেয়ের বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেয়ের মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযুক্ত রকি জানান, ওই মেয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তার সঙ্গে বিয়ে না দিয়ে ওই মেয়েকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিচ্ছিল তার পরিবার। বিয়ের অনুষ্ঠানে তাকে দেখতে গিয়েছিল। সেখানে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে ধরার চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থে সে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।

অন্যদিকে ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন রকির অত্যাচারে তারা অতিষ্ট। মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেও রকি তার পিছু ছাড়েনি। তাই বাধ্য হয়ে ওই ছাত্রীকে বিয়ে দেয়া হচ্ছিল। এতে রকি ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ের আসরে ওই ছাত্রীর বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। যদিও পরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সহযোগিতায় ওই ছাত্রীকে বৃহস্পতিবারই বিয়ে দেয়া হয়েছে।

ঢাকা, ০২ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।