জুসে চেতনানাশক, অনার্স-মাস্টার্স ফার্স্টক্লাস ফার্স্টগার্লের মৃত্যু!


Published: 2019-10-04 00:36:34 BdST, Updated: 2019-10-18 14:21:05 BdST

ময়মনসিংহ লাইভ : ক্লাসে সবসময় ফার্স্টগার্ল ছিলেন তিনি। অনার্স ও মাস্টার্সেও ফার্স্টক্লাস পেয়েছেন মন্টি। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিসিএসের। স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার আগেই তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ময়মনসিংহ ব্রিজে দুই পথশিশুর অনুরোধে কোমল পানীয়র জন্য ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। ওই পানীয়তে চেতনানাশক মেশানো ছিল। প্রাণ কোম্পানীর একটি জুস তিনি এক মাস আগে নিয়ে আসেন। ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সেই কোমল পানীয় পান করার পর লুটিয়ে পড়েন তিনি। তার জ্ঞান ফিরে ১৭ ঘণ্টা পর। বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা নেয়ার পথে ত্রিশালে তার মৃত্যু হয়।

ডাক্তার বলেছেন, পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধে প্রাণ গেছে মেধাবী ছাত্রী সুস্মিতা হোম চৌধুরী মন্টির। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কদিম ডৌহাখলা গ্রামের সুবীর হোম চৌধুরী মেয়ে মন্টি প্রথম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসে তিনি ছিলেন প্রথম।

মন্টির চাচাতো ভাই কুন্তল কুমার হোম চৌধুরী বলেন, প্রাণের জুসের ওই বোতলে দানাদার গুড়াযুক্ত ছিল। ব্রিজেই তাকে অচেতন করে মালামাল লুট করার জন্য ছিনতাই চক্রের পরিকল্পনা ছিল। তারা দুই শিশুকে দিয়ে মানবিক আবেদন করে জুসটা বিক্রি করে। মন্টি কিনলেও সেটা তখন পান করেনি। হয়তো কেনার পরপরই খেলে এতোটা বিষক্রিয়া হতো না। দীর্ঘদিন জুসের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ থাকায় এটার বিষক্রিয়া মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রবিউল ইসলাম ছাড়পত্রে উল্লেখ করেন ১৩ দিন আগে কেনা রাস্তার কোমলপানীয়র সঙ্গে বিষক্রিয়া ছিল। এ কারণে তার কিডনি ও লিভারসহ শরীর অচল হয়ে যায়। মন্টির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ অক্টোবর রেফার্ড করেন। ঢাকায় নেয়ার পথে ত্রিশালে মন্টি মারা যান।

মন্টির বাবা সুবীল হোম চৌধুরী আরও বলেন, ময়মনসিংহ হাসপাতালের ডাক্তারের অবহেলাও মৃত্যুর জন্য দায়ী। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ‘রোগী ভালো’ বলে ২৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে আবারও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দিনদিন মন্টির অবস্থা খারাপ হলেও হাসপাতালের ১১নং ওয়ার্ডের ৪নং ইউনিটের ডা. রবি বারবার বলেছেন ‘আপনার মেয়ে ভালো আছে’। মিথ্যা শান্তনা দিয়ে আমার মেয়েকে উন্নত চিকিৎসাও করতে দেয়নি।

হাসপাতালের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. হিবরুল বারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে লাইন কেটে দেন। হাসপাতালের অভিযোগ নাম্বার ০১৩০৬-৪৯৭০৯৫ নম্বরে বৃহস্পতিবার ৩টা ৫৩মিনিটে কল দেয়ার পর বলা হয়, অভিযোগ সম্পর্কে এ মুর্হূতে কিছু বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, মন্টি ২০০৭ সালে ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। ২০০৯ সালে গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতেও ছিল জিপিএ-৫। ময়মনসিংহ মুমিনুন্নেসা মহিলা কলেজ থেকে গণিতে অনার্স ও মাস্টার্সেও প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন মন্টি। তার মৃত্যুতে স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ঢাকা, ০৪ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।