ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে কলেজশিক্ষক বরখাস্ত


Published: 2020-01-22 13:30:54 BdST, Updated: 2020-02-24 05:13:49 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে লালমনিরহাট শহীদ আবুল কাসেম মহাবিদ্যালয়ের এ বি এম ফারুক সিদ্দিকী (৪৮) নামে এক কলেজশিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে ওই কলেজের কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার কলেজটির ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল স্নিগ্ধা চক্রবর্তী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর পূর্বে সোমবার সাময়িক বরখাস্তের চিঠি ওই শিক্ষকসহ শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন দফতরে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সাময়িক বরখাস্তের আদেশপ্রাপ্ত শিক্ষক ফারুক লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে। তিনি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ফারুক প্রতিষ্ঠানের বেশকিছু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করেন। কলেজের সুন্দরি ছাত্রীদের বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদে ফেলে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্ত করেন। শিক্ষক ফারুকের নারী লোভী আচরণের কারণে প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের ভর্তি কমে যায়।

অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে অসম্মতি জানান। বিয়ের পরেও কলেজছাত্রীদের স্বামীর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসে আটকে রাখা এবং ধর্ষণের অভিযোগে ২০১০ সালে ৬ মাস কারাবাস করেন অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুক।

জানা যায়, যৌন হয়রানির শিকার হওয়া ৪ ছাত্রীর বিভিন্ন সময় দায়ের করা অভিযোগগুলো তদন্ত করলে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার ফলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। কিন্তু এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুক তার কোন সদুত্তর প্রদান করেননি।

ফারুকের এমন নারী লোভী আচরণের প্রতিবাদ করায় তার স্ত্রীকেও মারধর করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে তার স্ত্রী কাওছারা বেগম স্বামী ফারুকের বিরুদ্ধে গত সোমবার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কলেজে যোগদান করা নতুন ৪ শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তা আত্মসাত করেন ফারুক। যা পরে দৃশ্যমান হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, উত্ত্যক্তসহ ৯টি অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়ে শিক্ষক ফারুককে গত ১১ জানুয়ারি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যথা সময়ে তার কোন সদুত্তর না পাওয়ায় তাকে সোমবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সাথে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্নিগ্ধা চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নারী কেলেঙ্কারিসহ মোট ৯টি গুরুতর অভিযোগের উপর ভিত্তি করে শিক্ষক ফারুককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকের স্ত্রী কাওছারা জানান, নারী লোভী ফারুককে অপকর্ম থেকে সরে আসার জন্য বার বার বলার পরেও তিনি তার আচরণ পরিবর্তন করেননি। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে বিভিন্ন সময় মারধর করেছেন। যার বিচার চেয়ে আমি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফারুক জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলছেন। যার মোকাবিলা আইনিভাবে করা হবে।

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।