চার হাসপাতাল ঘুরেও ভর্তি নেয়নি কেউই: স্কুলছাত্রের মৃত্যু!


Published: 2020-04-01 16:53:40 BdST, Updated: 2020-05-31 18:37:19 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ সারা দেশেই এখন একটাই আতঙ্ক; করোনা আতঙ্ক। প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে। সেই সাথে সারা দেশে সৃষ্টি হয়েছে অস্থির অবস্থা। সবাইকে ঘরে রাখতে রাখতে সারা দেশে টহল দিচ্ছে পুলিশ ও স্বশস্ত্র বাহিনী। দেশের এমন পরিস্থিতে সব থেকে বেশি দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের।

এদিকে খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের স্কুলছাত্র রিফাত লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। মঙ্গলবার তার শারীরিক সমস্যা বেড়ে যায়। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একে একে ৪টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়। কিন্তু কোনো হাসপাতালেই তাকে ভর্তি নেয়নি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় রিফাতের মৃত্যু হয়। জানা যায়, রিফাত খালিশপুর হাউজিং বিহারি ক্যাম্প নং-১-এর বাসিন্দা মোহাম্মদ কাশেমের ছেলে।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নিহতের নানা কলিমুদ্দীন জানান, তার নাতি রিফাতকে মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক নেই বলে তাকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। কাগজে ওষুধ লিখে দিয়ে পরে সমস্যা হলে বুধবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়।

সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি রিফাতকে নিয়ে খালিশপুর ক্লিনিকে যান। সেখানেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলে দেয় কোনও চিকিৎসক নেই। রোগী ভর্তি করানো যাবে না। এরপর তাদের পরামর্শ অনুযায়ী রিফাতকে সার্জিক্যাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে গিয়েও তাকে ভর্তি না নিয়ে ময়লাপোতা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারাও একইভাবে রোগীকে ভর্তি না নিয়ে ফেরত দেয়। এভাবে হাসপাতাল ঘুরতে ঘুরতে রিফাত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা যায়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রিফাতের লাশ খুলনা মহানগরীর গোয়ালখালী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শেখ আতিয়ার রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে চিকিৎসকরা চাপের মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু সাধারণ রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাবেন না সেরকম পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। এ বিষয়ে আমি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগরীর খালিশপুর ক্লিনিকের এমডি মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, লিভার সিরোসিস রোগীর জন্য আইসিইউ দরকার প্রয়োজন হয়। জটিল অবস্থা থাকার কারণেই ওই রোগীকে ভর্তি না নিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে সার্জিক্যালে রেফার করেছেন হয়তো। এটা আমাদের ক্লিনিকের নিয়ম মেনেই হয়তো করা হয়েছে। তবুও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, কোনও হাসপাতালে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। তবে, হাসপাতাল ও ক্লিনিকে করোনার কারণে মানবিকতা কমে যাচ্ছে। দায়বদ্ধতা থেকেই এ রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা কেন করা হলো না সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

ঢাকা, ০১ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।