ঘুষ না দেয়ায় মীরাক্কেলে যাওয়া নিয়ে সংশয় বাংলাদেশী ছাত্রের!


Published: 2019-10-15 17:45:51 BdST, Updated: 2019-11-18 04:47:14 BdST

ময়মনসিংহ লাইভঃ দুই বাংলার শীর্ষ জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘জি বাংলা’র ‘মীরাক্কেল’ এ চান্স পেয়েও যেতে পারেননি বাংরাদেশী ছাত্র নাঈম। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট না পাওয়ায় কলকাতায় গিয়ে মিরাক্কেলে অংশ নেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ডাকাতিয়া ইউনিয়নের নাঈম পাসপোর্টের দালালকে ঘুষ না দেয়ায় এমন সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।

সূত্র জানায়, মীরাক্কেলের ঢাকা অডিশন গত ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানে এমানুয়েল ব্যাংকুয়েট হলে (ঢাকা নিউ হল) অনুষ্ঠিত হয়। মিরাক্কেলের পরিচালক শুভংকর চট্টোপাধ্যায়ের নিজ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ওই অডিশনে সহস্রাধিক প্রতিযোগির মাঝে সেরা দশে সিলেক্ট হন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামাল উদ্দিনের ছেলে আবদুল্লাহ আল নাঈম। তিনি রাজধানীর হাজী মকবুল কলেজে বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন নাঈম।

এদিকে বাছাই হওয়া প্রত্যেক বাংলাদেশিকে মিরাক্কেল কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে জরুরীভাবে পাসপোর্ট রেডি করতে বলা হয়। তাই নাঈম ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ১ অক্টোবর ইমার্জেন্সি পাসপোর্টের জন্য ছয় হাজার ৯শত টাকা জমা দিয়ে আবেদন ফরম জমা দেন। যার সম্ভাব্য সরবরাহের তারিখ জানানো হয় ১০ অক্টোবর।

কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখার পূর্ব পর্যন্ত এই পাসপোর্ট আবেদনের সরবরাহ তো দূরের কথা, পুলিশ ভেরিফিকেশনই হয়নি। এদিকে জি বাংলা কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেয়া পনেরো দিনের সময় সীমার গত (১৩ অক্টোবর) শেষ দিন হয় যায়।

অন্যদিকে বাকী প্রতিযোগিদের পাসপোর্ট প্রস্তুত হয়ে যাওয়ায় মিরাক্কেল কর্তৃপক্ষ কয়েক দিনের মধ্যেই ঢাকা ত্যাগ করতে পারে। তাই আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে না পেলে চান্স পাওয়া সত্ত্বেও ভালুকা থেকে নাঈমের আর মিরাক্কেলে অংশগ্রহণ অনিশ্চত হয়ে পড়বে।

কিন্তু পাসপোর্ট অফিস কর্তৃপক্ষ দালালদের বিষয়টি বারবার অস্বীকার করলেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যারা দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট করে, তারা অনেক তাড়াতাড়ি পাসপোর্ট পেয়ে যায়। দালাল না ধরে সরাসরি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে হয়রানির শিকার হয়।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নাঈম বলেন, ঢাকায় শুধুমাত্র নিজের চেষ্টায় অনেক কষ্টে টিউশনি করে আবাসন ও পড়াশোনার খরচ জোগাড় করাটাই আমার জন্য অনেক কষ্টকর হয়ে যায়।

আর পাসপোর্ট করতে গিয়ে অনেক দালালই আমাকে টাকার বিনিময়ে সাহায্য করতে চেয়েছে। কিন্তু ইমার্জেন্সি পাসপোর্টের মূল টাকাই আমাকে বিভিন্নভাবে ধার করে ম্যানেজ করতে হয়েছে। এখন এর উর্ধ্বে গিয়ে বাড়তি ঘুষের টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।

দালালের ঘুষের কথা অস্বীকার করে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক জানান, নাঈমের ব্যাংক জমা রিসিটে নামের বানান একটু সমস্যা থাকায় পাসপোর্ট সরবরাহ করা যায়নি।

এ ছাড়াও এখনো পর্যন্ত তার পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টই আসেনি। ঢাকায় পাসপোর্ট বইয়েরও সঙ্কট রয়েছে।

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।