সিনেমা পরিচালক এখন হোটেল বয়!


Published: 2019-10-29 17:17:47 BdST, Updated: 2019-11-18 21:50:42 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ ‘সিনেমা তৈরী করে নিঃস্ব পরিচালক এখন হোটেল বয়’ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত একটি খবর এইটি। ‘গন্তব্য’ নামের সিনেমাটি তৈরী করতে গিয়ে জমি এবং স্ত্রীর গয়না বিক্রি। এতকিছু করেও যখন সিনেমার জন্য অর্থের অভাব দেখা দিয়েছে তখন সুদে ঋণ নিয়েছেন।

যেকোনভাবে সিনেমাটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারলেও সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব পরিচালক ছবির মুক্তি দিতে পারছেন না। উল্টো জিবন যুদ্ধে টিকে থাকার লক্ষে তাকে বেছে নিতে হয়েছে হোটেল বয়ের মত একি পেশা।

সংবাদটি প্রকাশ হলে শোবিজে বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। অনেকেই অরণ্য পলাশের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিচ্ছেন। আবার কেউ তার সাথে যোগাযোগও করছেন।

কিন্তু অনেকেই এই পরিচালককে সমালোচনায় ধুয়ে দিচ্ছেন। চোখে পড়ছে ফেসবুকের অনেক পোষ্ট। কেউ বলছেন সর্বস্ব বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে সিনেমা বানানোকে শিল্পচর্চা বলে না। এটা নিজের ও পরিবারের লোকদের উপর একটা অত্যাচার করা।

অনেকেই আবার দাবি করতেছেন একজন শিক্ষিত লোক, মোহনা টিভিতে কাজের অভিজ্ঞতাও আছে তার। সিনেমা বানাতে পারেন। তার একটি চাকরি কোথাও হলো না?

এত এত কাজের অভিজ্ঞতা থাকার পরেও হোটেলে কেন তাকে কাজ করতে হলো ২৫০ টাকায়? এই প্রশ্নের সাথে আরও প্রশ্ন যোগ করে অনেকেই মন্তব্য করছেন, এটা কোনো ধান্ধাবাজির জন্য নয় তো আবার? সবার সিমপ্যাথি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাষ্ট্রের তহবিল থেকে কিছু নেওয়ার ধান্ধা। ছবিতে বঙ্গবন্ধুর নাম জড়িয়েও ফাঁদ পেতেছেন তিনি, এমন অভিযোগ নিয়েও করছেন অনেকেই করছেন মন্তব্য।

অরণ্য পলাশ তার সিনেমাটি শুরু করেছিলেন পাঁচজন সহকারী পরিচালকে সঙ্গে নিয়ে। শুটিং এর প্রথম দিনেই একজন বাদ পড়েন। বাকী চারজনকে নিয়েই সিনেমার কাজ শেষ করেন পলাশ। তাদের মধ্যে একজনের নাম নজরুল। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করা নজরুল বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে সিনেমাটি শেষ করেছেন অরণ্য পলাশ। এখনও অনেক টাকা বাঁকিও পড়ে রয়েছে।

এ সিনেমায় উনার স্ত্রীর টাকাই বেশি ছিল মনে হয়। উনাদের মধ্যে সম্পর্কের কিছুটা অবনতিও হচ্ছিলো সিনেমা শুটিং চলাকালীন সময়ে। স্ত্রী হিসেবে এলিনা শাম্মী সিনেমায় টাকা দিলেও ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা দিয়ে সাহায্য করতে চাইতেন না। এ নিয়ে তাদের দুইজনের মধ্যে কলোহ বাধতো। বুঝতে পারতাম, সেজন্যই হয়তো স্ত্রী থাইল্যান্ডে থাকলেও অরণ্য পলাশকে করুণ দিন কাটাতে হচ্ছে।

কিন্তু আমি কিছুতেই এইটা বুঝতে পারছি না যে উনি সিনেমা মুক্তির জন্য কাকরাইলে পরিবেশক সমিতিতে কেন যাননি? সেখানে তো নানারকম পারসেনটিজের বিনিময়ে অনেক মানহীন সিনেমাও মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সেদিক থেকে ‘গন্তব্য’ অতো মানহীন সিনেমা নয়। এখানে তারকারা আছেন। এর গল্পটাও বেশ ভালো। আমার কাছে অনেক কিছুই খটকা লাগে আসলে।’

‘গন্তব্য’ সিনেমার নায়ক ফেরদৌস সংবাদ মাধ্যমে আক্ষেপ করেছেন এই সংবাদটি পড়ে। তিনিও নাকি পরিচালকের উপর ক্ষুব্ধ এমনটাই জানা গেছে। এদিকে জানা যায়, তার উপর স্ত্রী এলিনা শাম্মিরও ক্ষোভ আছে।

প্রধাণত, স্ত্রীকে সাতে করেই সিনেমাটি প্রযোজনা করেন পলাশ। সেটা করতে গিয়ে তাদের করতে হয় ঋণ। এলিনা শাম্মিকে ঋণ বাবদ প্রতি মাসেই টানতে হতো কিস্তির বোঝা। কারণ অরণ্য পলাশ বেকার ছিলেন। যার ফলে বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে সব খরচ বহন করতেন তার স্ত্রী এলিনা।

এমন সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতিতে সিনেমাটি নিজের নামে নিবন্ধন করান অরণ্য পলাশ। এটা জেনে ক্ষেপে যান তার স্ত্রী এলিনা। তিনি নিবন্ধনে জোচ্চুরির অভিযোগ তুলে সিনেমা থেকে সরে আসেন। তারপরই বিপাকে পড়েন অরণ্য পলাশ। কোনোভাবে সিনেমাটি শেষ করতে পারলেও সিনেমাটি তিনি মুক্তি দিতে পারছেন না। আর কোনো চাকরি না থাকায় বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়েই তাকে হোটেল বয়ের কাজ করতে হচ্ছে।

পলাশের স্ত্রী ‘গন্তব্য’ সিনেমাটিতে অনেক টাকা লগ্নি করেছেন এই বিষয়টা স্বীকার করেছেন অরণ্য পলাশ নিজেও। তবে তিনি এটা মানতে নারাজ যে সিনেমা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সিনেমা নিয়ে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমরা দুজন মিলে টাকা দিয়েছি ছবির জন্য। আমাদের ঝামেলা ব্যক্তিগত। আর অনেক পরে আমি জানতে পারি যে এই সিনেমার প্রযোজক আসলে অন্য আরেকজন। এলিনা শাম্মি প্রযোজক হলেও আমার কোন প্রকার আপত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি কি এই সিনেমার জন্য আমার বাবার পেনশনের টাকা দেইনি? জমি বিক্রি করিনি? আমার বাড়িতে গেলেই দৃশ্যমান হয়ে যাবে। তাহলে কেন আমি অন্যের প্রযোজনার বিষয়টি মানবো? এটা নিয়ে ঝামেলা রয়েছে।’

সিমপ্যাথি দেখিয়ে আপনি সরকারি অনুদান পাওয়ার একটা চেষ্টা করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এমন প্রশ্নের উত্তরে অরণ্য পলাশ বলেন, ‘আমি জানি না মানুষ কেন আমার ব্যক্তিগত বিষয়কে নিয়ে টানাটানি করছে। আমি টাকা চাই না। সিনেমাটি মুক্তি দিতে চাই।’

উল্লেখ্য, ‘গন্তব্য’ সিনেমাটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস, আইরিন, কাজী রাজু, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, আফফান মিতুলসহ প্রমূখ। সিনেমাটির জন্য এসব শিল্পীরাও নামে মাত্র পারিশ্রমিকেই কাজ করেছেন। বিশেষ করে নায়ক ফেরদৌস ছবিটির জন্য কোন প্রকার পারিশ্রমিকই নেননি। তিনি আরও এই ছবির জন্য স্পন্সর জোগাড় করতে সাহায্য করেছেন।

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।