অবৈধভাবে ভর্তি হওয়া ডাকসু নেতাদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ


Published: 2019-09-08 17:05:34 BdST, Updated: 2019-09-22 16:09:00 BdST

ঢাবি লাইভ: অবৈধভাবে ভর্তি হয়ে ডাকসু ও হল ইউনিয়নে প্রতিনিধিত্ব করা ৮ নেতাকে বহিস্কার ও তাদেরকে চিরকুটের মাধ্যমে ভর্তি করতে সহায়তাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ও বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিনের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার বিকেল ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি জানান, তা হলো-

১. যেসব পদগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন বহির্ভূতভাবে ডাকসু হল সংসদ নেতৃবৃন্দ ভর্তি হয়েছে এবং ছাত্র না হয়ে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করে ডাকসুকে কলঙ্কিত করছে, সেসব ছাত্রদের বহিষ্কার ও পদগুলোতে পুনরায় উপনির্বাচন দিত হবে‍।

২. বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নৈতিক স্খলনের মধ্যে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করায়, তার স্বপদে বহাল থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন, তাই তার পদত্যাগ দাবী করছি‍।

৩. ভিসি অনৈতিকভাবে চিরকুটের মাধ্যম্যে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং ডাকসু সভাপতি পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন‍। তাই ভিসির পদত্যাগ চাই!

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘পরীক্ষা ছাড়া ডাকসু নেতা আমাদের নেতা নয়’, ‘ডাকসু খায়া দিছে’, ‘ডাকসু জালিয়াত, ঢাবি ছাড় ঢাবি ছাড়’, ‘এক দুই তিন চার, দালাল ভিসি গদি ছাড়’, ‘যে ডাকসু অছাত্রদের, সেই ডাকুস চাই না’ ইত্যাদি।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের ৮ নেতাসহ ছাত্রলীগের ৩৪ নেতার ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়া শেষ হওয়ায় ডাকসু ও হল ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনের আগমুহূর্তে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একটি সন্ধ্যাকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রামে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ছাড়াই ভর্তি হওয়ার আভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু ও হল ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের ৩৪ জন সাবেক ও বর্তমান নেতা ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। নির্বাচন করতে আগ্রহী এই ৩৪ জনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সম্পাদক ও সদস্য পদে নির্বাচনে আটজন অংশ নেন, বিজয়ী হন সাতজন। এ ছাড়া দুটি হল সংসদের ভিপি পদে অংশ নেন দুজন। এর মধ্যে একজন নির্বাচিত হন, অন্যজন পরাজিত হন। আরেকজন ছিলেন ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য।

ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল ওই প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যায়। কিন্তু তাঁদের কেউই তাতে অংশ নেননি। তবে অভিযোগ উঠেছে,উপাচার্য ও ডিনের চিরকুটে ছাত্রলীগের ওই নেতারা ভর্তি হন। ভর্তি হওয়া নেতাদের মধ্যে আটজন ডাকসু ও হল সংসদে নির্বাচিত হন।

এদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. আরিফ ইবনে আলী (শিক্ষাবর্ষ ২০১০–১১) এবং স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী (শিক্ষাবর্ষ ২০১১–১২)। ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর (শিক্ষাবর্ষ ২০০৯–১০), ডাকসুর সদস্য নিপু ইসলাম, মো. রাকিবুল হাসান (শিক্ষাবর্ষ ২০০৯-১০), নজরুল ইসলাম (২০০৯-১০) ও মাহমুদুল হাসান।

এই সাতজনের বাইরেও ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল হক সরকার। ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি পদে নির্বাচন করে হেরেছেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহারিয়ার সিদ্দিক। এফ রহমান হলের ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম খান। এই তিনজনও ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিলেন। আর এই প্রোগ্রামে একইভাবে ভর্তি হওয়া প্রদীপ চৌধুরী ছিলেন ডাকসুর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিনি।

ভর্তি হলেও ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে ২৩ জন রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশের কারণে নির্বাচনে অংশ নেননি। এঁদের সবারই ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে এক থেকে পাঁচ বছর আগে।ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আছেন সহসভাপতি আওলাদ খান, আমিনুল ইসলাম, ইশরাত কাশফিয়া, মো. সোহান মিয়া ও ফুয়াদ রহমান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহানুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মো. আহসান হাবিব, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, অর্থ সম্পাদক মো. রাকিব হোসাইন, উপতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল জব্বার, উপ–অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. বোরহান উদ্দিন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হায়দার মো. জিতু, উপসাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক শরিফুল আলম, শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

 

ঢাকা, ০৮ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।