মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সংক্ষিপ্তকরণে ৩ প্রস্তাব


Published: 2020-08-13 01:02:21 BdST, Updated: 2020-09-25 13:10:26 BdST

লাইভ প্রতিবেবেদক: মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সংক্ষিপ্তকরণের ৩টি প্রস্তাব তৈরি করছে এনসিটিবি। সময়োপযোগী সংক্ষিপ্ত সিলেবাস পড়িয়ে বার্ষিক পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।

জানা গেছে, মাধ্যমিক পর্যায়ের দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা পাঠ্যবই বিশ্লেষণ করে তিন ধরনের প্রস্তাব তৈরি করছেন। এরপর সেসব প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে স্কুল খোলা সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস পড়িয়ে বার্ষিক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। বর্তমান সিলেবাসের যে অংশটুকু গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো রেখে বাকিগুলো বাদ দেয়া হবে। পাঠ্যবই বা সিলেবাসের যে অংশটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না তার অত্যাবশ্যকীয় পাঠ পরের শ্রেণিতে যুক্ত করা হবে।

শিক্ষার এই ‘রিকভারি প্ল্যান’ চূড়ান্ত করতে বুধবার এনসিটিবিতে দুই দিনব্যাপি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের ডাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ কর্মশালা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, সিলেবাস সংক্ষিপ্তকরণ কর্মশালার মাধ্যমে তিনটি প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরে ৭০ দিন সময় পেলে সিলেবাসের কোন অংশটুকু পড়ানো হবে, ৫০ দিন পেলে কতটুকু পড়ানো যেতে পারে এবং ৩০ দিন সময় পেলে কতটুকু অংশ বাতিল করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়ানো যেতে পারে সে ধরনের তিনটি প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর মো. মশিউজ্জামান জানান, করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নির্ধারিত ছুটি থাকার কারণে সিলেবাস সংক্ষিপ্তকরণ করা হচ্ছে। এজন্য দুই দিনব্যাপী আমরা কর্মশালা করছি। এর মাধ্যমে সময়োপযোগী তিনটি প্রস্তাব তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেকোনো একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলে যে প্রস্তাবটি কার্যকর করা হবে সেই সিলেবাস শেষ করে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে।

বিইডিইউয়ের ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ (পরীক্ষা ও মূল্যায়ন) রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে কীভাবে পরবর্তী কার্যক্রম চলবে, অক্টোবরে বা নভেম্বরে খুললে কীভাবে চলবে সে ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিয়েছি। যদি নভেম্বরের মধ্যে স্কুল খোলা সম্ভব হয় তাহলে সংক্ষিপ্ত পরিসরে পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেটা সম্ভব না হলে আমরা অটো প্রমোশন দিতে বলেছি। নভেম্বর পর্যন্ত স্কুল খোলা সম্ভব না হলে ডিসেম্বরে বৃত্তির জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। প্রত্যেক স্কুল থেকে ৫ বা ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসবে। এ ক্ষেত্রে কত শতাংশ বৃত্তি পরীক্ষা দেবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে।’

বিইডিইউ থেকে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের ছুটির কারণে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৮৮টি কর্মদিবস নষ্ট হচ্ছে। ১৬ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মাত্র ৪১ দিন কর্মদিবস পেয়েছিল, কিন্তু এ সময়ে তেমন একটা লেখাপড়া হয়নি। যদি ১ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু করা সম্ভব হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা ৬৬ দিন পাচ্ছে। ১ অক্টোবর থেকে ৫২ দিন কর্মদিবস থাকে। এই সময়েও ক্লাস শুরু করা সম্ভব হলে শীতকালীন ১০ দিনের ছুটি বাতিল করা বা কমানোর সুপারিশও আছে।


ঢাকা, ১৩ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।