বিসিএস প্রিলিতে গণিতে ভালো করার কৌশল


Published: 2019-02-28 03:27:04 BdST, Updated: 2019-10-17 22:08:32 BdST

সামনেই ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। চলছে প্রস্তুতি। বিসিএস প্রিলিমিনারি থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে। বিসিএস প্রিলিতে গণিত নিয়ে অনেকেই সমস্যার মধ্যে পড়েন। গণিতে ভালো করলে প্রিলিতে চান্স পাওয়া সহজ হবে। বিসিএস প্রিলিতে গণিতে প্রস্তুতি নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ৩৭তম বিসিএসে অ্যাডমিন ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করা তকী ফয়সাল।

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের অন্যতম দুশ্চিন্তা গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা। এর বহুবিধ কারণের অন্যতম অন্যান্য বিষয়ের মতো এ অংশে মুখস্থ উত্তর করা যায় না; বরং পরীক্ষার হলে বসে মাথা খাটিয়ে উত্তর বের করতে হয়। তাই এ অংশে ভালো করার অন্যতম মূলমন্ত্র পরীক্ষার হলে মাথা ঠাণ্ডা রেখে ধীরস্থিরভাবে উত্তর করা। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতায় যে যত পারদর্শীই হোক না কেন, প্রশ্ন দেখে ঘাবড়ে গেলে এ অংশে ভুল করে ফেলা খুবই স্বাভাবিক। তাই পরীক্ষার হলে যতটা সম্ভব নির্ভার থাকতে হবে।

এবার প্রস্তুতির কথায় আসি। শুরুতে সিলেবাস ও বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করা জরুরি। এরপর নিজের স্ট্রং ও উইক জোন খুঁজে বের করে নিজের জন্য কাস্টমাইজড পরিকল্পনা তৈরি করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাসে গাণিতিক যুক্তি অংশটি পাঁচটি ভাগে ভাগ করা আছে এবং মানবণ্টনও সেভাবেই সন্নিবেশিত হয়েছে। প্রথম ভাগে বাস্তব সংখ্যা, লসাগু, গসাগু, শতকরা, সরল ও যৌগিক মুনাফা, অনুপাত ও সমানুপাত, লাভ ও ক্ষতি থেকে ৩ নম্বর; দ্বিতীয় ভাগে বীজগাণিতিক সূত্রাবলি, বহুপদী উৎপাদক, সরল ও দ্বিপদী সমীকরণ, সরল ও দ্বিপদী অসমতা, সরল সহসমীকরণ থেকে ৩ নম্বর; তৃতীয় ভাগে সূচক ও লগারিদম, সমান্তর ও গুণোত্তর অনুক্রম ও ধারা থেকে ৩ নম্বর; চতুর্থ ভাগে রেখা, কোণ, ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজসংক্রান্ত উপপাদ্য, পিথাগোরাসের উপপাদ্য, বৃত্তসংক্রান্ত উপপাদ্য, পরিমিতি-সরলক্ষেত্র ও ঘনবস্তু থেকে ৩ নম্বর; পঞ্চম ভাগে সেট, বিন্যাস ও সমাবেশ, পরিসংখ্যান ও সম্ভাব্যতা থেকে ৩ নম্বর; মোট ১৫ নম্বরের মানবণ্টন সিলেবাসে উল্লিখিত আছে। তাই বিক্ষিপ্তভাবে প্রস্তুতি না নিয়ে টপিকস অনুসারে সুশৃঙ্খলভাবে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সিলেবাসের প্রথম তিন ভাগের বীজগণিত ও পাটিগণিত এবং চতুর্থ ভাগের জ্যামিতি মূলত মাধ্যমিক লেভেলের গণিতের সিলেবাস থেকে সাজানো। আর পঞ্চম ভাগ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের সমন্বয়। গণিতে দুর্বলতা থাকলে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রথমেই উচিত মাধ্যমিক লেভেলের বোর্ড বইগুলো টপিকস অনুযায়ী অধ্যায় ধরে ধরে সমাধান করা।

লাভ-ক্ষতি, শতকরা, অনুপাত ও মুনাফার টপিকসগুলো মাথা খাটিয়ে সমাধান শিখতে হবে। বীজগণিতের ক্ষেত্রে সূত্রগুলো কাগজে লিখে দেয়ালে টানিয়ে তাতে বারবার চোখ বুলানো যেতে পারে। জ্যামিতির ক্ষেত্রে থিওরি আগে বুঝে নিতে হবে; বিন্যাস-সমাবেশ ও সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রেও তাই। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় গণিত চর্চার জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। নিয়ম মেনে প্রতিদিন চর্চা চালিয়ে গেলে তিন-চার মাসে নিজের বেজ স্ট্রং হবে বলে আশা করা যায়। বাজারের যেকোনো প্রচলিত সহায়ক বই থেকে টপিকস অনুযায়ী নিয়মিত এমসিকিউ চর্চা করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে বিগত বিসিএসের প্রশ্ন, পিএসসির নন-ক্যাডারের প্রশ্ন, বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি চাকরির প্রশ্নগুলোও বুঝে বুঝে সলভ করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে—প্রথমেই সমাধান দেখে মুখস্থ নয়; বরং নিজে নিজে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। ব্যাপারটা কষ্টকর; কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে গণিতের ক্ষেত্রে যে যত ঠেকে শিখবে, তার দক্ষতা তত বাড়বে। আর বেশি বেশি অনুশীলন করলে স্বল্প সময়ের মধ্যে সঠিক উত্তর বের করা সহজ হয়ে যাবে।

এবার আসি মানসিক দক্ষতা প্রসঙ্গে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বিগত বছরগুলোর প্রিলিমিনারি ও রিটেনের প্রশ্ন বুঝে বুঝে সমাধান করতে হবে। এরপর টপিকস অনুযায়ী অনুশীলন করতে হবে। প্রিলিমিনারির সিলেবাসে মানসিক দক্ষতার ছয়টি অংশ। বানান ও ভাষা অংশটি বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণের সঙ্গে সমন্বয় করে পড়তে হবে। ভাষাগত যৌক্তিক বিচার ও সমস্যা সমাধান অংশ দুটির প্রশ্ন ঠিকভাবে পড়ে ও বুঝে প্র্যাকটিস করতে হবে। যান্ত্রিক দক্ষতা অংশে সতর্ক দৃষ্টি (সঠিক অবজারভেশন) রাখতে হবে। স্থানাঙ্ক সম্পর্ক, সংখ্যাগত ক্ষমতা অংশে হিসাবের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। মানসিক দক্ষতা চর্চার জন্য বাজারের যেকোনো সহায়ক বই, মানসিক দক্ষতাবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও বই অনুসরণ করা যেতে পারে।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর নেওয়া যাবে না। তাই গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা অংশে যোগ-বিয়োগ, গুণ, ভাগ মনে মনে করতে গিয়ে অসতর্কতায় অনেক সময়ই ভুল হয়; আর এতে নেগেটিভ মার্ক গুনতে হয়। এ জন্য হাতে ক্যালকুলেশনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

পরিশেষে আবারও বলছি, গণিতকে ভয় পেলে চলবে না; বরং ভয়কে জয় করে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। আর পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাস রেখে, মাথা ঠাণ্ডা রেখে উত্তর করতে হবে। আশা করি, সাফল্য আসবেই।

তকী ফয়সাল
৩৭তম বিসিএস এডমিন ক্যাডারে প্রথম

[কার্টেসি : কালেরকণ্ঠ]

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।