উচ্চশিক্ষায় টোফেল দেবেন নাকি আইইএলটিএস!


Published: 2019-06-30 12:25:01 BdST, Updated: 2019-08-18 07:00:17 BdST

মাহনাজ হোসেন ফারিবা : অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করে টোফেল ভালো না আইইএলটিএস ভালো। তাদেরকে অতীতে সঠিক উত্তর দিতে পারতামনা কারণ আমার টোফেল দেয়া ছিল। আইইএলটিএস এর মক দিয়েছিলাম একবার এইচএসসিএর পরে। ভেবেছিলাম বিদেশে যাবার চেষ্টা করব, কিন্তু পারিবারিক কারণে হয়ে ওঠেনি। কাজেই সত্যিকারের আইইএলটিএস দিতে কেমন লাগে তা জানা ছিলনা।

২০১৪ তে প্রথম টোফেল দিয়েছিলাম। লক্ষ্য আমেরিকা। সবাই বলেছিল কঠিন হবে তাই আইইএলটিএস দিতে। আমি কেন যেন ওমুখী হলামনা। পান্থপথে সেন্টার ছিল। লিসেনিং পরীক্ষার সময় বাইরে জোহরের আযান শুরু হল। আমি বুঝলাম এই আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। পরে দেখা গেল, বাকী সব কম্পোনেন্ট এর মধ্যে এজন্য লিসেনিং এর স্কোর কম এসেছে। কিন্তু পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে আমি খুশিই ছিলাম। প্রস্তুতি ছিল মাত্র ১ দিনের। স্পিকিং এর সময় সবাই একসাথে কথা বলা শুরু করে যে যার মত, ব্যাপারটা একটু ডিস্ট্রাক্ট করলেও ইন্টারেস্টিং। আমার টাইপিং স্পিড ভালো থাকার কারণে রাইটিং ও ভালো হয়েছিল। ১০ দিন পরে রেজাল্ট আসল দেখলাম স্কোর ১১০ (১২০ এর মধ্যে)

এই টোফেল স্কোর নিয়ে পরবর্তীতে কিছু জায়গায় এপ্লাই করেছিলাম। যাওয়া আর হয়ে ওঠেনি সে সময়কার বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে। ভাবলাম স্কোরটাকে ভালো কাজে লাগানো যায়। কিছুদিন মেন্টরস এ আইইএলটিএস এর সাপোর্ট সেন্টারের ইন্সট্রাকটর হিসেবেও কাজ করলাম। সেই টোফেল এর মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই আইইএলটিএস দিলাম। বরাবরের মতই কোনো প্রস্তুতি নাই। চাকরি করে পড়ার সময় পাওয়া যায়না। স্পিকিং এর দিনে দেখলাম বাঙালি পরীক্ষক। সবাই বাইরে দাঁড়িয়ে হাহুতাশ করছে, যে সবাইকে বাঙালি পরীক্ষক নাম্বার কম দেয়। আমার যদিও এ বিষয়ে ধারণা নাই একেবারেই। সেদিন অফিসের একটা কাজের সাথে মিলিয়ে ঢাকা-ফরিদপুর-ঢাকা আপডাউন করে পরীক্ষা দেই। পরীক্ষক নিয়ে তাই অত ভাবার সময় ছিলনা। পরে লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং পরীক্ষা ৪ দিন পরে হয়। সেজন্য আবার ২ দিন ছুটি নিয়ে আসি। ১ দিন প্রিপারেশন।

বলা হয়, performance যদি steady থাকে তাহলে English Language Test গুলোর স্কোর বারবারই একই আসবে। ইম্প্রুভ হলে বাড়বে। আইইএলটিএস এ আসল ৮। আমার আগের দেয়া টোফেল এর ইকুইভ্যালেন্ট স্কোর। স্কিল লেভেল বাড়েওনি, কমেওনি। ৩ বছরে একই আছে। তবে আমি অবাক হয়েছি স্পিকিং এর স্কোর আমার এক্সপেক্টেড লেভেলের থেকে কম, তাতে মানুষের কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে যে বাঙালি পরীক্ষক আইইএলটিএস এ কম দেয়। আমার টোফেল এ যেখানে স্পিকিং এ অনেক ভালো নম্বর ছিল। এই ব্যাপারে আমি হতাশ।

Overall, আমার কাছে মনে হয়েছে টোফেলকে সবাই কঠিন বললেও এটিই ভালো পরীক্ষা। আইইএলটিএস সেন্টারের লোকজনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ইনভিজিলেটরদের ভাবসাব, সবকিছুই কেমন যেন; গেলে মনে হয় বাংলাদেশের বুকে এক টুকরো যুক্তরাজ্য। তারা কাউকে পরোয়া করেনা। তাছাড়া রেজাল্ট উঠানো থেকে পাঠানো, সবেতেই আইইএলটিএস এর ক্ষেত্রে ঝক্কি বেশী। টোফেল এর রিডিং পার্ট বাই পার্ট হয়, যেখানে আইইএলটিএস এর রিডিং প্যারাগ্রাফে পুরোটা। টোফেল এর লিসেনিং সহজ। রাইটিং আর স্পিকিং টোফেল এ কঠিন তবে নাম্বার অবশ্যই আইইএলটিএস থেকে বেশী ওঠে, আমি নিজে এটি অনুভব করেছি।

কাজেই পরবর্তীতে আবারও যদি এসবের কোনো একটা পরীক্ষা দিতে হয়, আমি টোফেলই দিব। আর সকলকেই টোফেল দিতে বলব।

লেখক : মাহনাজ হোসেন ফারিবা
- বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
- অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নাফিল্ড ডিপার্ট্মেন্ট অফ ক্লিনিক্যাল মেডিসিন এর অধীনে ইন্টারন্যাশনাল হেলথ এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন (এমএসসি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত) এবং হারুন উর রশীদ স্কলার, সেন্ট ক্রস কলেজ
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।
- সহকারী সচিব, (৩৫তম বিসিএস প্রশাসন)
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
- বিএস, এমএস, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ৩০ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।