করোনা আতঙ্ক: সেশনজটের শঙ্কায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা


Published: 2020-04-29 13:26:42 BdST, Updated: 2020-06-04 01:13:00 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ মহামারি করোনা ভাইরাসে এখন বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশেও এর প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্তান্তের সংখ্যা। ইতোমধ্যেই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বন্ধ হয়েছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি উন্নতি না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এতে করে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে সব থেকে বেশি দুশ্চিন্তায় ভোগাচ্ছে আগে থেকে সেশনজটে জর্জরিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের। চলমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে তীব্র সেশনজটের আশঙ্কা করছেন সাত কলেজের প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী।

সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘আমাদের নতুন শিক্ষাবর্ষে সেশনজট না থাকলেও দীর্ঘদিন যাবৎ ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগের মতোই সেশনজটের কবলে আমাদেরকে পড়তে হবে।’

ইডেন মহিলা কলেজের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আনজুম বলেন, ‘চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে যদি এই অচলাবস্থা চলতে থাকে তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবো আমরা সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। আমরা এমনিতেই দীর্ঘ সেশনজটে ভুগছি। এভাবে চলতে থাকলে সেশনজট দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

করোনার প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ২০১৭ সালের মাস্টার্স পরীক্ষা। ঢাকা কলেজের মাস্টার্স ১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী রেজওয়ান ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ২০১৭ সালের পরীক্ষা ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। সেশনজটের কারণে আমাদের সরকারি চাকরির বয়সও শেষ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সেজন্য সরকারি চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি প্রয়োজন।’

করোনার প্রভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হলে অনলাইনে সাত কলেজের সমন্বিত ক্লাস নেয়া যায় কি-না, এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ জানান, ‘সাত কলেজের বিষয় তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও এখনও অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে না। আমাদেরকেও কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তবে ফেসবুকে পেজের মাধ্যমে ডিপার্টমেন্টভিত্তিক ক্লাস নেয়া যায় কি-না, সেটা আমরা বিবেচনা করে দেখব।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে সেশনজটসহ অন্যান্য দিক বিবেচনায় সাত কলেজের সমন্বিত কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কি-না, ‘জানতে চাইলে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট) প্রফেসর আই কে সেলিম উল্ল্যাহ খন্দকার বলেন, আমরা তো সেশনজটের সমস্যাগুলো প্রায়ই কাটিয়ে উঠছিলাম।

এখন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে সমস্যা বাড়বে। দেখি আগামী ৫ মের পর অফিস খুললে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিটিং করে কী সিন্ধান্ত নেয়া যায়। এবং কলেজ খুললে অবশ্যই আমরা ক্রাশ প্রোগ্রামে যাব।’

তিনি আরও জানান, ‘আগামী ৫ মে পর্যন্ত সরকারি বন্ধ। এর আগে তো অফিস খোলার কোনো সিস্টেম নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। অফিস খুললে আটকে থাকা ফলাফলগুলো প্রকাশ করা হবে।’

করোনাভাইরাসের কারণে আটকে থাকা ফলাফল প্রকাশের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহলুল হক চৌধুরী জানান, ‘ফলাফল প্রকাশ করতে হলে আমাদের কতগুলো স্টেপ ফলো করতে হয়। ৭-৮ দিন আর দেখব। এরপর রেজাল্টগুলো অনলাইনে প্রকাশ করবো।’

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।