এআইইউবি ছাত্রের বিশ্বসেরা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওঠার গল্প


Published: 2019-05-05 14:09:40 BdST, Updated: 2019-09-15 18:22:47 BdST

আদনান মারুফ : জাহিদ সবুর। নামটা এখন বেশ পরিচিত প্রযুক্তি প্রেমিদের কাছে। বিশ্বসেরা ইঞ্জিনিয়ারদের তালিকায় তার নাম উঠেছে। গুগলের কোড বেইজে তিনি এক নম্বর ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিরেক্টর) হয়েছেন। তার বেতন দুই কোটি টাকারও উপরে। বিশ্বসেরা ইঞ্জিনিয়ারদের অন্যতম জাহিদ পড়াশোনা করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (এআইইউবি)। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে বাধ্য হয়ে ভর্তি হন সেখানে। তবে ভর্তি হওয়ার পর তাকে অনেক কটূ কথা শুনতে হয়েছে। মুদি দোকানে পড়াশোনা করছেন তিনি এমন কটূক্তিও হজম করতে হয়েছে। শুরুতে তার প্রযুক্তি সম্পর্কে তেমন একটা জ্ঞান ছিল না। তবে স্কুলে থাকতে তিনি বিজ্ঞান মেলায় বরাবরই সেরাদের তালিকায় থাকতেন।

সেই জাহিদই এখন বিশ্ব মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশী যিনি গুগলে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় জাহিদ নিজেই তার ওই অর্জনের কথা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, জাহিদ অথচ ১৬ বছর আগে রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। তবে স্বপ্ন ছিল তিনি ইঞ্জিনিয়ার হবেন। তাই ভর্তি হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এআইইউবিতে। তবে তার প্রযুক্তিগত জ্ঞান তেমন একটা ছিল না। স্বপ্নকে জয় করতে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করেন। জাহিদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী। তবে জন্ম সৌদি আরবে। বাবা কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ছিলেন। আট বছর বয়সে সপরিবারে দেশে ফিরে আসেন জাহিদরা। ভর্তি হন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি হন। স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় বরাবরই তিনি প্রথম হতেন। তবে মুখস্থবিদ্যায় তিনি পারদর্শী ছিলেন না। ও লেভেলে মোটামুটি ভালো রেজাল্ট করলেও এ লেভেলে খুব খারাপ অবস্থা হয়। যার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। তবে তার স্বপ্ন ভেঙে যায়নি। নতুন উদ্যোমে এগিয়ে গেছেন। এআইইউবিতে ভর্তি হয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তিনি। জাহিদ ২০০৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানিটিতে। প্রথম কাজ শুরু করেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। গুগলের ব্যাকএন্ড সিস্টেম নিয়ে ছিল তার প্রথম প্রকল্প। একটা সময় গুগলের কোড বেইজে এক নম্বর ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যান। গত ২ মে পদোন্নতি পেয়ে ডিরেক্টর হয়ে গেছেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘পিছিয়ে পড়া’ হিসেবে গণ্য করা হয়। জাহিদ সবুর মনে করেন এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়লে নেতিবাচক বলা হবে এর কোনো ভিত্তি নেই। নিজেকে এগিয়ে নিতে নিজের সঙ্গেই প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। শিখতে হয় নতুন কিছু।’

উল্লেখ্য, সারাবিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনটিতে এখন ফুলটাইম কর্মী আছেন লাখখানেকের মতো। এদের মধ্যে আড়াইশ’ জনের মতো আছেন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার। জাহিদ এদেরই একজন। একজন গুগল প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ারের বেতন গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসেবে জাহিদ দুই কোটি টাকার উপরে বেতন পাচ্ছেন।

জাহিদ নতুনদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, সফলতার জন্য ইংরেজি জানতে হবে, অন্য ভাষা জানতে হবে। ভাষা একটা দক্ষতা, যা আপনার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ সহজ করে দিবে। এদেশে কেউ ইংরেজিতে পোস্ট করলে, কথা বললে অন্যরা গালিগালাজ করে, তখন তাদের দেশপ্রেম উতলে ওঠে, অথচ কেউ কেউ অন্য ভাষা শিখে বিদেশে গিয়ে নিজেকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে গিয়ে দেশকে সম্মানিত করছে। কোনটা দেশপ্রেম বোঝা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাহিদ। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাবে যদি আমরা বদলাই।

ঢাকা, ০৫ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।