আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার, সে দুর্ঘটনা ঘটায়নি : শাবি ভিসি


Published: 2019-09-21 13:50:04 BdST, Updated: 2019-10-18 16:05:06 BdST

ঢাবি লাইভ : রাজধানীর বনানীতে শুক্রবার রাতে কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তার ছেলে প্রাইভেটকার চালিয়ে মোটরবাইক আরোহীকে চাপা দিয়েছে বলে যে ঘটনা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে তা সঠিক নয় বলে ক্যাম্পাসলাইভকে জানিয়েছেন শাবি ভিসি।

তিনি বলেন, শাবি ভালোভাবে চলছে। এটা অনেকেই পছন্দ করছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২শ কোটি টাকার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভালো চলছে। সেশনজট কমে গেছে, গত দুই বছরে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বা কোন পয়েন্ট রেইজ হয়নি। ভিসি দুর্নীতি করছে এমন কোন তথ্য নেই কারো কাছে। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। শাবিতে ভিসি যখন দুই বছর শেষ করে তখন সবাই তার পেছনে লেগে যায়। তাকে সরাতে ষড়যন্ত্র শুরু করে। আগের ভিসির সময়ও এটা হয়েছে। এখানকার একটি চক্র (শাবি) যারা নাকি যৌন হয়রানি করেছে, জালিয়াতি করেছে তাদের পানিশমেন্ট দিয়েছি। তারা ষড়যন্ত্র করছে। ভিসিকে কিভাবে এখান থেকে সরানো যায় তার জন্য ওরা সবাই মিলে চেষ্টা করছে। তারপর ছাত্রলীগের একটি অংশ বিশেষ করে যারা মারামারি, খুনাখুনি টেন্ডারবাজি করেছে তাদের মধ্যে ৩০-৩৫ জনকে আমরা বহিষ্কার করেছি। আবু সাঈদ নামে একজনকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে সে ছাত্রও না ছাত্রলীগও না। সে ক্যাম্পাসে আসতে চেয়েছিল তাকে আমরা ঢুকতে দেয়নি। এই চক্রটা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।

ভিসি বলেন, আমার ছেলে গত রাতের (শুক্রবার) বেলা আমার মাকে দেখে ধানমন্ডি থেকে আসতেছিল। সে যখন আসছিল তখন দেখতে পায় তাকে ৩জন লোক ফলো করছে। সে যখন বনানী চেয়ারম্যান বাড়ির ভেতরে ঢুকে তখন তাকে আটকিয়ে ওরা বলে আপনি একটা একসিডেন্ট করেছেন, মানুষ মেরে ফেলেছেন। এসময় তারা গাড়ির ছবি তুলছিল। একপর্যায়ে আমার ছেলে গাড়ি পেছনে ব্যাক করে বাসায় চলে আসে। আমার ছেলের পেছনে পেছনে ওরাও বাসায় আসে। একপর্যায়ে পুলিশকে খবর দেয়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনার কোন আলামত পায়নি।

ভিসি বলেন, সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র করে বিষয়টি করা হয়েছে। পুরো জিনিসটাই ষড়যন্ত্র। আমি যাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যাই। সেজন্য এটা করা হয়েছে। শাবিতে আমার বিরুদ্ধে কোন কিছু করতে পারছে না। তাই ঢাকায় আমার পরিবারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনার কোন ঘটনাই ঘটেনি। একটি মহল আমার ছেলেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে আমি মনে করি। তবে আমার ছেলে সুস্থ আছে। আমার ছেলেও আমাকে বলেছে আমার গাড়িতে একটা চুলের আচড়ও নেই। তাহলে দুর্ঘটনা কিভাবে হলো। এটা একটা চক্রান্ত। এটা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই করা হয়েছে। ছাত্রলীগের একটা অংশ যারা বাইরে আছে তারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত বলেও আমি মনে করি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে শাবি ভিসির ছেলে ফারহান আহমেদ রাজধানীর বনানীতে মোটরবাইক আরোহীকে চাপা দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ উঠে। পরে প্রত্যক্ষদর্শী দুইজন ফারহানের পেছনে পেছনে গিয়ে তাকে জেরা করেন। একপর্যায়ে তিনি দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।

এদিকে ওই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াদুল হাসান রিমন। ভিসিরা কী ভগবান এই শিরোনাম দিয়ে তিনি ফেইসবুকে লিখেন, দাম্ভিব কার চালাক। অবশ্য তাদেরকে দাম্ভিক না বলে নিষ্ঠুর ও হৃদয়হীন মানব বলা যায়। কিছুদিন ধরে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির জঘন্য ও ঘিন্ন আচরণ দেখে আমাদের ঘোটা সমাজ আঁতকে উঠছিল। কখনো একজন ভিসির আচরণ এরকম কাম্য নয়।

বেশকিছুদিন ধরে এসব বিষয় নিয়ে কেবলই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আজ যখন নিজের চোখে এরকম জঘন্য কাজ দেখলাম তখন আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। ঘটনাটি রাত ১১.২০মিনিটের সময় বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ীর মোড়ে। একজন ভদ্র লোক ও ভদ্র মহিলা মোটরসাইকেল যোগে হয়তো তারা দু'জন স্বামী-স্ত্রী অথবা আপনজন। বন্ধের দিনে ঘুরতে বের হয়েছে। নাহয় কেনাকাটা অথবা মার্কেট করতে। কিছুটা একটা হবে হয়তো।

তাদের মোটরসাইকেলটি চেয়ারম্যান বাড়ীর মোড় দিয়ে ভিতরে ডুকতে গেলেই একটি কালো প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-২২-৫৩৩৮) বেপরোয়া গতিতে সিগনাল অমান্য করে স্বজোড়ে ধাক্কা মারে এবং দুজনে মারাত্মক আহত হয়। ঘটনা দেখে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারলাম না। নিজের মোটরসাইকেল দিয়ে গাড়ীটি ধরতে পিছু নিলাম। এদিকে আহতদের ট্রাফিক পুলিশ উদ্ধার করেন। আমি ছুটে চললাম কারটির পিছু পিছু। হঠাৎ ট্রাফিক সিগনালে গাড়ি থামলো, আমি ভদ্রতার সহিত সালাম দিয়ে গাড়ি থেকে নামতে বললাম। কিন্তু বেপরোয়া চালক কোন কথা না শোনে উল্টো দিকে গাড়ি আবার দ্রুত গতিতে চালাতে লাগলেন। আবারও পিছু নিলাম। এবার গিয়ে গাড়ি থামালেন বনানীর রোড নং-৯, হাউজ নং-২০ এ।

আমি আবারও সালাম দিয়ে বললাম ভাই, আপনি দু'জন পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে কেন ফেলে চলে আসছেন? রাগান্বিত হয়ে আমাকে সেরকম হুমকি-ধমকি দিলেন। তিনি আরও বললেন জানেন আমি কে? আমি বললাম আপনি কে তা দিয়ে আমি কি করবো ভাই।

তিনি বলেন আমার বাবা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি। আমি বললাম আপনিতো ভাই একজন সম্মানিত বাবার সন্তান। কিন্তু আপনি এরকম বেপরোয়া গতিতে ও সিগনাল অমান্য করে গাড়ি চালানো কি ঠিক? আপনি বলেন ভাই? এবার বাসা থেকে নেমে আসলেন ভিসি মহোদয়ের স্ত্রী। তিনি এসেতো মস্ত বড়ো এক লিস্ট শোনালেন। উনার স্বামীর কথা নাকি বনানী থানা এলাকার প্রশাসন চলে। আমি কেন উনার ছেলেকে ফলো করলাম এটা নাকি অন্যায় হয়েছে।

অবস্থার বেগতিক দেখে কল দিলাম জাতীয় সেবা সেন্টার ৯৯৯ এ। তারা দ্রুত ঘটনাটি আমলে নিয়ে বনানী থানার এসআই আশরাফ ভাইকে পাঠালেন এবং তিনি ঘটনাস্থলে এসে তার বিস্তারিত পরিচয় ও ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করেন। পরে উনিও বলেন শাবিপ্রবির ভিসি মহোদয়ের ছেলে চালক ফারহান। সমস্যা নেই উনি ঘটনাটি দেখভাল করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।

শাবিপ্রবির সম্মানিত ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমদ আমাদের সবার শ্রদ্বেয়। হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের উনি মানবিকতা শিক্ষা দেন। কিন্তু আফসোস উনার নিজের ছেলেকে সঠিক মানবিকতা শিক্ষা দিতে পারেননি।

সকলের মধ্যে মানবিকতা জাগ্রত হোক। আসুন বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ট্রাফিক আইন মেনে চলি। জরুরি সেবা ৯৯৯ কে বিশেষ ধন্যবাদ।

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।