গাছও মাংস খায়!


Published: 2020-09-13 15:03:45 BdST, Updated: 2021-08-04 15:39:15 BdST

হোসাইন মজুমদারঃ সত্যিই বিচিত্র আমাদের এই পৃথিবী! কত- শত জীব-জন্তু আর গাছ-গাছালি তে ভরপুর আমাদের এই পরিবেশ। তবে এমন কিছু গাছ আছে যেগুলো সত্যিই কৌতুহলী এবং সবাইকে চমকে দিতে পারে।

আমরা জানি, উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে। কিন্তু কিছু কিছু উদ্ভিদ আছে যাদের আবার এত সময় নেই। তাদের চাই চটজলদি খানাপিনা। তাই তো এরা সরাসরি সাবাড় করে চলেছে পোকামাকড়।

কলসি উদ্ভিদ বা Pitcher Plants হচ্ছে কতিপয় আলাদা প্রকারের মাংসাশী উদ্ভিদ, যেগুলোর পরিবর্তিত পাতা গুলো এক ধরণের বিপদের ফাঁদ হিসেবে কাজ করে।এই বিপদের ফাঁদ গুলো শিকার ধরার ফাঁদ-কৌশলী বৈশিষ্ট হিসেবে কলসি উদ্ভিদের পাতাগুলোর গভীর গহ্বর টি তরল দ্বারা পূর্ণ থাকে।এই কলসি উদ্ভিদকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর মাংসাশী উদ্ভিদ বলে চিহ্নিত করা হয়।

কলসি উদ্ভিদে ফাঁপা বিশেষ ধরনের পাতা রয়েছে যা একটি জগ কিংবা কলসির মতো জল ধরে রাখতে পারে। কলসির মত দেখতে এই পাতা গুলোই শিকার ধরার ফাঁদ হিসেবে কাজ করে।এদের গঠন ও আকৃতি থেকেই এদের নাম দেওয়া হয়েছে কলসি উদ্ভিদ।

গ্রীষ্মমন্ডলীর কলসী উদ্ভিদে সাধারণত পাতা ও উজ্জ্বল রঙের কলসির মতো পাতা দুটোই রয়েছে।একটি আকর্ষী থেকে ধীরে ধীরে সুতোর মতো একটি পাতা উৎপন্ন হয়। পাতাটি বড় হতে হতে ফুলে উঠে রঙিন একটি জগ বা কলসির মতো আকৃতি লাভ করে। এর উপরের দিকে পাতার তৈরি একটি ঢাকনাও তৈরি হয়। কোন কোন কলসি উদ্ভিদে ঢাকনাটি কলসির কিনারে শোভাবর্ধক হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন প্রজাতি কলসি উদ্ভিদের পাতাগুলোর রঙ ও আকৃতি ভিন্ন হতে পারে।

ছোট ছোট কলসি উদ্ভিদ গুলো মাছি,গুঁবরে পোকা,পিঁপড়া ইত্যাদি পোকামাকড় শিকার করে। বড় বড় কলসি উদ্ভিদগুলো ব্যাঙ এমনকি ছোট আকারের ইঁদুর পর্যন্ত সাবাড় করে ফেলে।সব কলসি উদ্ভিদ কিন্তু একই পদ্ধতিতে শিকার করে। কলসি উদ্ভিদ গুলোর ফাঁদ পরোক্ষ ধরণের। অর্থাৎ কোনো নড়াচড়া ছাড়াই এরা শিকার করে থাকে।কলসি উদ্ভিদ গুলোর গঠন এমন যে এর ভিতরে হামাগুড়ি দিয়ে নেমে যাওয়া পোকামাকড় একটি বন্দিশালার মতো কাজ করে। নলের মাথায় থাকে একটি রংচঙে প্রবেশ পথ।

নলের তলদেশ টি পেয়ালাকৃতির। যেসব কলসি উদ্ভিদ মাটির কাছাকাছি জন্মে,তাদের মধ্যে বৃষ্টির পানি জমা হয়ে থাকে। অধিকাংশ কলসি উদ্ভিদের ঢাকনাটি অতিরিক্ত পরিমাণ বৃষ্টির পানি পাতায় ঢুকতে বাধা দেয়। ঢাকনাটি সবসময় খোলা থাকে।ঢাকনাটির প্রবেশ মুখে সবসময় মধু উৎপন্ন হয়।কলসির উজ্জ্বল রঙ আর মধুর লোভে পোকামাকড় হামাগুড়ি দিয়ে কলসির ভিতরে প্রবেশ করে। ভেতরে ঢুকার পর উদ্ভিদটি আরো মধু উৎপন্ন করা শুরু করে। ফলে পোকামাকড় অতিরিক্ত মধুর লোভে আরো গভীরে চলে যায়।

পোকাটি কলসির নলের মধ্যে ঢুমার পরই বিপদের পড়ে যায়। নলের ভিতরের অংশটি বরপের মতো মসৃণ আর পিচ্ছিল। ফলে পোকাটি উপরের দিকে উঠতে চেয়ে কলসির একেবারে তলানিতে পড়ে যায়।তখন অবশ্য উপরে উঠেও লাভ নেই। কারণ কলসির ঢাকনাটি তৎক্ষণে বন্ধ হয়ে গেছে।নলের তলদেশে থাকে অসংখ্য শুঙ্গ।

শুঙ্গ গুলো সবই কলসির নিচে জমানো পানির দিকে ফিরিয়ে থাকে।এগুলো পার হয়ে গেলেই পোকামাকড় আর উপরের দিকে যেতে পারে না। এর পর পোকাটি পানিগুলোতে পড়ে যায়। পানিতে পড়ার পরপরই বের হতে থাকে পরিপাকে সাহায্যকারী উৎসেচক রস। শুরু হয় পোকা হজমের প্রক্রিয়া।

পোকার নরম অংশ গুলো উদ্ভিদটির দেহে শোষিত হয় আর শক্ত অংশ গুলো উদ্ভিদের নিচে জমা হয়।এরপর আবার ঢাকনাটি খুলে উদ্ভিদটি তৈরি হয়ে যায় পরবর্তী শিকারের জন্য! এই গাছ সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকা, মালয়েশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকার জলাভূমিতে দেখা যায়।তবে আমাদের সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলেও নাকি এই গাছের দেখা মিলেছে!

লেখক: হোসাইন মজুমদার
শিক্ষার্থী, মহিপাল সরকারি কলেজ, ফেনী

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।