সহকারি শিক্ষকের পদ খালি ৭৫৮টিপ্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৬০৮ প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান


Published: 2021-10-06 15:26:25 BdST, Updated: 2021-10-24 21:17:36 BdST

কুমিল্লা লাইভ: মানুষ গড়ার কারিগর নেই। কে গড়বে মানুষ। কার কাছে নানান অনিয়ম ও সমস্যার কথা জানাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এমন প্রশ্ন এখন কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায়। তারা শূন্য প্রধান শিক্ষকদের পদ দ্রুততার সাথে পূরণের আহবান জানিয়েছেন। বলেছেন দীর্ঘ দিন যাবত এভাবে চলতে পারে না। শিক্ষক ছাড়া চলছে কুমিল্লা জেলার ৬০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সহকারি শিক্ষকের পদ খালি ৭৫৮টি। সহকারি শিক্ষকদেরকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে চালানো হচ্ছে। যেন কেউ দেখার নেই।

অন্যদিকে সহকারি শিক্ষকের শূন্য পদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাশসহ প্রাশাসনিক কাজকর্ম করতে হচ্ছে দায়িত্বরত অন্যান্য শিক্ষকদের। এতে একজন শিক্ষকের উপর নির্ধারিত কাজের বাইরে যেমন অতিরিক্ত কাজের চাপ পরছে, তেমনি মান সম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে ভুক্তভোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। কেবল গ্রামের স্কুলে নয় কুমিল্লা নগরীর নামকরা স্কুলগুলোতেও রয়েছে এই সমস্যা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল মান্নান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পাবলিক সার্ভিস বলছে আমরা দিবো, মন্ত্রণালয় বলছে আমরা দেবো। তিনি এ ব্যাপারে কোন সন্তুুষজনক উত্তর দিতে পারেননি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, একারণে আটকে আছে ৬৫ শতাংশ শিক্ষকের পদোন্নতি। এসমস্যা সারা দেশেরই। আশা করছি অচিরেই সমস্যার সমাধান করবে শিক্ষা বিভাগ।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল মান্নান আরো বলেন, করোনা মহামারির কারনে আমাদের নতুন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বন্ধ ছিলো। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরই নতুন নিয়োগ ও বদলি শুরু হবে। অনেকের পদোন্নতি হবে। এতে করে প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণ হবে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ফয়জুন্নেছা সীমা বলেন, প্রধান শিক্ষক ছাড়া একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অভিভাবকহীন। আমরা চাই দ্রুত শূণ্য পদে প্রধান শিক্ষক এবং সহকারি শিক্ষক নিয়োগ করা হোক। পদ শূণ্য থাকায় প্রধান শিক্ষকের কাজ অন্য আরেক জন শিক্ষককে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে করতে হচ্ছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, শ্রেণীকক্ষ পর্যবেক্ষণ, সভা-সেমিনারে অংশ নেয়াসহ নানান গুরুত্বপূর্ন কাজের জন্য অনেক সময়ই ক্লাশ ছেড়ে যেতে হয়।

এভাবে কোন রকম চালিয়ে নেয়া গেলেও প্রভাব পরছে শ্রেণী কক্ষে। শিশুদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা চালু রাখতে শিক্ষক সংকট পূরনের বিকল্প নেই। কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, লাকসাম উপজেলায় প্রধান শিক্ষক নেই ১৪ প্রতিষ্ঠানে, দেবিদ্বারে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানে, মুরাদনগরে ৪৩টি, দাউদকান্দিতে ৮৫টি, চৌদ্দগ্রামে ৩৮টি, বি-পাড়ায় ১৫টি, বরুড়া উপজেলায় ১৪টি, বুড়িচং উপজেলায় ৪৬টি, চান্দিনা উপজেলায় ৫১টি, হোমনা উপজেলায় ৪৯টি, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ৪৫টি, মেঘনা উপজেলায় ৪০টি, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ৫৩টি, তিতাস উপজেলায় ২৫টি, সদর দক্ষিন উজেলায় ১২টি ও লালমাই উপজেলার ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।

তাছড়া ১৭ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৫৮ জন সহকারি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ফয়জুন্নেছা সীমা আরো জানান, করোনা মহামারির কারনে দীর্ঘ ১৮ মাস বদলি বন্ধ ছিলো। প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রনালয় হাতে কলমে বদলীর পরিবর্তে অনলাইনের আবেদনে বদলির প্রদ্ধতি চালু করেছে। বদলী ও নতুন নিয়োগ হলে শূন্য পদগুলো পূরন হবে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে কুমিল্লা জেলায় ২ হাজার ১০৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৮৩২ জন শিক্ষক। এর মধ্যে ৬৮ শতাংশই নারী শিক্ষক। শিক্ষক সংকটে ভুগতে থাকা বিদ্যালয়গুলো যখন কোন শিক্ষক ছুটিতে থাকেন দায়িত্বরতদের অবস্থা আরো অবনতি হয়। এক জন শিক্ষককেই একটানা ৪/৫টি ক্লাশ নিতে হয় নতুবা বন্ধ থাকে পাঠদান।

ঢাকা, ৬ অক্টোবর (ক্যাম্পাসইভ২৪.কম)//বিআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।