'ভিক্ষুকের ছেলে' বলায় কলেজছাত্রী স্ত্রীকে হত্যা!


Published: 2021-06-02 16:19:35 BdST, Updated: 2021-09-22 13:45:56 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ফেসবুকে কলেজছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় ও পরে প্রেমে পড়ে যান সাকিব। একপর্যায়ে গোপনে বিয়ে করেন দুজন। কলেজছাত্রী নাজনীনকে (১৯) বিয়ের করার সময়ও সাকিব তার বাবার পেশা ভ্যানচালক এ বিষয়টি ইচ্ছা করেই লুকিয়ে রাখে। পরে সবকিছু জেনে নাজনীন বিষয়টি গোপন করার কারণ জানতে চায়। এরপরই শুরু হয় ঝগড়া।

একপর্যায়ে নাজনীন তার স্বামী সাকিবকে 'ভিক্ষুকের ছেলে' বলে গালি দেয়। এতে প্রচণ্ড রেগে যাওয়ায় নাজনীনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সাকিব। এরপর বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংকিতে লাশ ফেলে বগুড়ায় নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন সাকিব।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর স্ত্রীকে হত্যার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বগুড়ার জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত সাকিব হোসেন হাওলাদার (২৪) নিজেই। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনচর জাহাপুর গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল করিম হাওলাদারের ছেলে।

নাজনীন আক্তারের ভাই আব্দুল আহাদ প্রমাণিক জানান, গত ২৪ মে সাকিব তার বাবার অসুস্থতার কথা বলে নাজনীনকে নিয়ে বরিশালে আসেন। পরে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ ও কোন ধরনের যোগাযোগ না থাকায় ২৬ মে বগুড়া সদর থানায় একটি জিডি ও সেনানিবাসে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

জিডি তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই গোলাম মোস্তফা জানান, নাজনিন নিখোঁজের বিষয়ে জানতে সোমবার বিকালে সাকিব হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় সাকিব হোসেন অসংলগ্ন কথাবার্তা বললে সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে তাকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে স্ত্রী নাজনিন আক্তারকে গৌরনদীর হরহর গ্রামের পিতার ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে এসে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লাশ গুমের বিষয়টি স্বীকার করে।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সেফটি ট্যাংকিতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নাজনীন আক্তারের মৃতদেহের কোনো সন্ধান মেলেনি। সেপটিক ট্যাংকির ভেতর থেকে নাজনীন আক্তারের ওড়না, শরীরের চামড়ার কিছু অংশ ও হাতের দুটি নক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত নাজনীন আক্তার বগুড়া সদরের সাবগ্রাম (উত্তরপাড়া) এলাকার মো. আব্দুল লতিফের মেয়ে। তিনি বগুড়ার গাবতলী সৈয়দ আহম্মেদ কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নোটারীর মাধ্যমে সাকিবের সাথে নাজনীনের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর নাজনীন তার বাবা-মায়ের সাথে থাকতেন। গত ২৪ মে সাকিব তার স্ত্রী নাজনীনকে ফোন দিয়ে বলেন, তার (সাকিব) বাবা খুবই অসুস্থ। তাই অসুস্থ বাবাকে দেখতে নাজনীনকে তার গৌরনদীর বাসায় যেতে হবে।

সাকিব নাজনীনকে গোদাপাড়া চারমাথা বাসস্ট্যান্ডে দ্রুত আসতে বলেন। এরপর নাজনীন তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সেখানে যায়। এরপর বাসে করে তারা গৌরনদীর উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর নাজনীনের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের আর যোগাযোগ হয়নি। পরবর্তীতে বাবা-মা নাজনীন ও সাকিবের মোবাইল নম্বরে কল করলে দুটি নাম্বরই বন্ধ পান। এ ঘটনা উল্লেখ করে আব্দুল লতিফ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ সাকিব হোসেন হাওলাদারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার স্ত্রী নাজনিন আক্তারকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর গ্রামের ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে হত্যার পর লাশ গুমের বিষয়টি স্বীকার করেন।

ঢাকা, ২ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।