Azhar Mahmud Azhar Mahmud
teletalk.com.bd
thecitybank.com
livecampus24@gmail.com ঢাকা | শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ই ফাল্গুন ১৪৩০
teletalk.com.bd
thecitybank.com

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নিহত

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বার ২০২২, ০৭:৪৮

পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া লাইভ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো সাত পুলিশ সদস্য। শনিবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের মোল্লা বাড়ির সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের সাবেক ভিপি সায়েদুজ্জামান কামাল এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিহত ছাত্রদল নেতার নাম- মো. নয়ন মিয়া (২২)। সে উপজেলার চরশিবপুর এলাকার রহমত উল্লাহর ছেলে। তিনি উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন।

সায়েদুজ্জামান কামাল বলেন, আমরা ৮০০ থেকে প্রায় ১ হাজার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী কুমিল্লা বিএনপির গণ সমাবেশকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ মিছিল করি। কোনো রকম উস্কানি ছাড়াই পুলিশ অতর্কিত গুলি ছোড়ে। এতে ছাত্রদল নেতা নয়ন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। রাত সোয়া সাতটার দিকে হাসপাতালে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম (৪১), পরিদর্শক (তদন্ত) তরুণ কান্তি দে (৩২), উপ-পরিদর্শক আতিউর রহমান (৩৫), আফজাল হোসেন (৩০), বিকিরণ চাকমা (৩২), কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম (৩৩) ও বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস (২৬)।

উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা বিএনপির গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। একে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা সদর এলাকায় প্রচারপত্র বিলি করেন। প্রচারপত্র বিতরণ শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহের ৯০-৯১ সালের সাবেক ভিপি সায়েদুজ্জামান কামালের নেতৃত্বে উপজেলা সদরে মোল্লা বাড়ি থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

স্থানীয়রা আরো জানায়, মিছিলটি উপজেলা সদরের বাজার, বাঞ্ছারামপুর থানা ও উপজেলা পরিষদ এলাকা অতিক্রম শেষে পুনরায় মোল্লা বাড়ির মসজিদের সামনে গিয়ে জড়ো হয়। সেখানে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলমের নেতৃত্বে পুলিশ জড়ো হয়। পুলিশ সে সময় সায়েদুজ্জামান কামালকে আটক করতে যায়। এক পুলিশের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি থেকে এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতাকর্মীরা তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এ সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। তখন নয়ন গুলিবিদ্ধ হন।

এদিকে, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেলের সময় পুলিশের সাত সদস্য আহত হন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে রফিকুল ইসলাম (৪২) ও সাইদুর রহমান (২৫) নামে বিএনপির দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলম বলেন, বিকেলে বিএনপির একশ থেকে দেড়শ নেতাকর্মী আকস্মিক মিছিল নিয়ে থানার সামনে জড়ো হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করে। সেখানে থাকা টহল দলের দুই কনস্টেবলের কাছ থেকে তারা অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কনস্টেবল এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।

ওসি আরো বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আমিসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। একই সাথে তাদের এ হামলায় বিএনপির এক কর্মীও আহত হন।

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএ


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আজকের সর্বশেষ