গোয়েন্দাদের টেবিলে অভিযোগের পাহাড়: জয়যাত্রা নামে আইপি টিভি ও আ'লীগের নামে চাঁদাবাজি!সেই হেলেনা জাহাঙ্গীরের আমলনামা


Published: 2021-07-30 10:25:27 BdST, Updated: 2021-09-27 16:50:55 BdST

আজহার মাহমুদ: হেলেনা জাহাঙ্গীর। একটি নাম, একটি আতঙ্ক। রহস্যময়ী এক নারী। কখনও তিনি রাজনীতিবিদ, কখনও তিনি ব্যবসায়ী নেত্রী। নারী উদ্যোক্তা হিসেবেও সমাজের খাতায় তার নাম রয়েছে। আবার কোন কোন সময় তিনি চাঁদাবাজিতে যান জড়িয়ে। ক্লাব কালচারের একজন দুর্ধর্ষ রমনী। তার সাথে সমাজের উচু পর্যায়ের অনেকেরই রয়েছে সুসম্পর্ক। তিনি অনেক নেতা, আমলা ও বিভিন্ন বাহিনীর লোকদের সাথে নিবির সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে তার দাপুটে উত্থান ও পদচারণা। একই সাথে তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া লোকদের সাহার্য্য সহয়তাও করতেন। এসব করেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ভাগিয়ে নেন পুরস্কার।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় কয়েক বছর ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা হেলেনা জাহাঙ্গীর। সম্প্রতি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের পোস্টারকে ঘিরে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। সবশেষ বৃহস্পতিবার (২৯) দিবাগত রাতে গুলশান ২ এর ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসা থেকে তাকে আটক করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। তার বাসা থেকে জব্দ করা হয় বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, বিদেশি মুদ্রা, চাকু ও হরিণের চামড়া। পরে তাকে র‍্যাব সদরদফতরে নেওয়া হয়।

কে এই হেলেনা জাহাঙ্গীর:

বিভিন্ন ভাবে জানাগেছে হেলেনা জাহাঙ্গীর ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সদস্য ও নির্বাচিত পরিচালক। পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএরও সক্রিয় সদস্য তিনি। তিনি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুরস্কৃতও হয়েছেন রোটারি ক্লাবের একজন ডোনার হিসেবে।

যে কারণে হেলেনার সব কিছু ফাঁস হলো

 

সংশ্লিস্টরা জানান, প্রিন্টিং, অ্যামব্রয়ডারি, প্যাকেজিং, স্টিকার এবং ওভেন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে বিভিন্ন মহলে। জয়যাত্রা গ্রুপের অধীনে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। সব মিলিয়ে ১২ হাজার কর্মী কাজ করছেন তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। তিনি নানান কৌশলে কাজ ভাগিয়ে আনতেন। কোথাও তার বাঁধা ছিলোনা। দাবড়ে বেড়াতেন সব মহলেই। একই সাথে রাজনৈতিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করে গড়ে তোলেন বিশাল সাম্রাজ্য।

এদিকে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। সাম্প্রতিক ঘটনার পর তাকে ওই কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাও ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েকটি বিদেশযাত্রার সফরসঙ্গীও হয়েছিলেন হলেনা জাহাঙ্গীর।

তবে বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, হেলেনা জাহাঙ্গীর আগে জাতীয় পার্টিতে এবং তারও আগে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ওই দুটি দলের মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে তার ছবিও গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন সময়ে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। পরে ব্যবসায়ীদের চাপে তিনি নির্বাচন থেকে বিরত থাকেন।

সেই হেলেনা জাহাঙ্গীর

 

অভিযোগ রয়েছে, হেলেনা জাহাঙ্গীর জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। দাপট দেখাতে গিয়ে ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে মির্জা আব্বাস গ্রুপের হাতে প্রহৃত হয়ে ৩ দিন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এরপর মালয়েশিয়ায় চলে যান। পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের অনুসারীদের মধ্যস্থতায় দেশে ফিরে এসে মহিলা দলে সক্রিয় হন।

ক্লাব কালচার:

হেলেনা জাহাঙ্গীর ক্লাব কালচারে জড়িয়ে পড়েন। তিনি তার ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে নেন বিভিন্ন কৌশল। ধীরে ধীরে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে বিভিন্ন শিল্পপতি ও তরুণ ব্যবসায়ীদের ধরে সহজেই নামী-দামী ক্লাবের সদস্য হয়ে যান। কয়েকটি ক্লাবের নির্বাহী কমিটিতেও রয়েছে হেলেনার নাম। একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তার ব্যবাপারে তদন্ত করতে গেলে অনেক ব্যবসায়ী, আমলা, এমপি ও রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সরকারী সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তাদের নাম চলে আসবে।

ওই সূত্র আরো জানায়, গুলশান ক্লাব, গুলশান নর্থ ক্লাব, বারিধারা ক্লাব, কুমিল্লা ক্লাব, গলফ ক্লাব, গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাব, বিজিএমইএ অ্যাপারেল ক্লাব, বোট ক্লাব, গুলশান লেডিস ক্লাব, উত্তরা লেডিস ক্লাব, গুলশান ক্যাপিটাল ক্লাব, গুলশান সোসাইটি, বনানী সোসাইটিসহ বিভিন্ন ক্লাবে সদস্য হওয়ার সময় কারা কারা তাকে সুপারিশ করেছে তাদের নাম বেড়িয়ে আসবে। তিনি সুবিধা নেয়ার জন্যে হেন কাজ নেই যা তিনি করেননি। বেশ কয়েকজন তরুণ এমপি ও প্রভাবশালী নেতার সাথে হেলেনার ছিলো গোপন সখ্যতা।

এই সেই নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর

 

এছাড়া গুলশান জগার্স হেলেনা সোসাইটি ও গুলশান হেলথ ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত । তার বেশভূষা নিয়েও মাঝে মাঝে বিভিন্ন ক্লাবে নানান সমালোচনা হতো। গুলশান ক্লাবের একজন সদস্য জানান, তার পোষাক মাঝে মধ্যে খুবই আপত্তিজনক ছিলো। সিনিয়র অনেক মেম্বার তাকে দেখলে ভিন্ন পথে হাটতেন।

জয়যাত্রা আইপি টেলিভিশন:

তিনি এত কিছু করেও শান্ত হননি। অবশেষে তিনি নিজে জয়যাত্রা আইপি টিভি নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিজেকে আইপি টিভি ও নার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দিতেন। হেলেনা জাহাঙ্গীর ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সদস্য ও নির্বাচিত পরিচালক। পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএরও সক্রিয় সদস্য তিনি।

২০১৪ সালে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে তিনি আওয়ামী ঘরানার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে থাকেন। নিজেকে নিরাপদে রাখতে সাংবাদিক পরিচয় ধারণ করেন। একটি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সংগ্রহ করে নিজের ফেসবুকে কার্ডের ছবি পোস্ট করে সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি কিভাবে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পেলেন, এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন মূলধারার একাধিক সাংবাদিক। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতা এ নিয়ে সে সময়ে ফেসবুকে মন্তব্য করেন।

জানাগেছে অনলাইন টিভি জয়যাত্রায় নিয়োগ দিয়ে বেতন না দেওয়া, জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বার্ষিক চাঁদা নেওয়া, সংবাদ প্রকাশের জন্য টাকা নেওয়া, উগ্র আচরণ, জমি দখলসহ নানা অভিযোগে আলোচিত হেলেনা জাহাঙ্গীর। বিভিন্ন মহলে তাঁর পরিচয়ও ভিন্ন ভিন্ন, কখনো তিনি শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, লেখক, অনুমোদনহীন আইপি টিভি ও নার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে বহিষ্কার হওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের পরিচিতি একজন রহস্যময় নারী হিসেবে।

 হেলেনা জাহাঙ্গীর

 

কয়েক মাস আগে হেলেনা জাহাঙ্গীরের জয়যাত্রা টিভির ভোলা প্রতিনিধি তুহিনের সঙ্গে প্রধান কার্যালয়ের একজন নারী কর্মকর্তার কথোপকথন ভাইরাল হয়। দেখা যায়, জয়যাত্রা টিভির প্রধান কার্যালয়ের নারী কর্মকর্তা বলছেন, ‘টাকা না পাঠালে কোনো সংবাদ প্রকাশ হবে না। টাকা না দিতে পারলে আপনাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নেওয়া হবে।’ অভিযোগ রয়েছে, এভাবে সারা দেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২৫ থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত টাকা নিয়ে।

জয়যাত্রা টিভির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফেসবুকে একটি গ্রুপ খোলা হয়। ওই গ্রুপের আদান-প্রদান করা খুদে বার্তায় দেখা যায়, একাধিক বিকাশ নম্বর দিয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে, যেখানে বার্ষিক চাঁদা উপজেলা প্রতিনিধি দুই হাজার ও জেলা প্রতিনিধিকে তিন হাজার টাকা পাঠাতে হবে। এ ছাড়া প্রতিনিধিরা সংবাদ পাঠালে বার্তা দিয়ে বলা হয়, বিকেলের আগে টাকা না পাঠালে ৮টার সংবাদে নিউজ প্রচার হবে না। এখানে টাকার অঙ্ক উল্লেখ করা হয়নি, এটার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কমার্শিয়াল ধার্য।’

অভিযোগ রয়েছে, হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা টিভিতে কর্মী নিয়োগ দেন, তবে বেতন দেন না। নিয়োগের পর তিন থেকে চার মাস সময়কে পরীক্ষামূলক সময় বলা হয়, এরপর বেতন দাবি করলেই নানা দোষত্রুটি খুঁজে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে একটি জনপ্রিয় নিউজ চ্যানেলে কর্মরত একজন নারী সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমিও চার মাস কাজ করে খালি হাতে ফিরেছি। তবে সে লজ্জার কথা এখন বলতে চাই না।’

বহুরুপী হেলেনা :

মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচিত লাভ করা হেলেনা জাহাঙ্গীর বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত হন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগে সহযোগী সংগঠন হিসেবে ‘চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের সম্পৃক্ততায় কারণে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। তার ফেসবুকে ২০ লাখের বেশি ফলোয়ার।

হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের অন্যতম পরিচালক ছিলেন জি এম শাহজাহান, তিনি নিজেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২০১৬ সালে হেলেনা জাহাঙ্গীর তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দেওয়া জি এম শাহজাহানকে দিয়ে মিরপুর কালশী সড়কে রাজউকের জায়গা দখল করে রাতারাতি বিপণিবিতান নির্মাণ করে ভাড়া দেন। জমি দখল করায় রাজউক জি এম শাহজাহানের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং বিপণিবিতানটি ভেঙে দেয়।

ওই সময়ে পল্লবী থানার ওসি ছিলেন দাদন ফকির। তিনি রাজউকের জায়গা বুঝে পেতে সহায়তা করায় হেলেনা জাহাঙ্গীর জি এম শাহজাহানকে দিয়ে দাদন ফকিরের নামে মামলা করে দীর্ঘদিন তাঁকে হয়রানি করেন। এরপর হেলেনা জাহাঙ্গীর জি এম শাহজাহানকে দিয়ে রূপনগর এলাকায় রাজউকের দুটি প্লট দখল করেন।

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তাঁর অনেক আর্থিক দুর্নীতির খোঁজ পেয়েছেন সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সময়ে হেলেনার নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। বিভিন্ন সময় তাঁর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এ রকম ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

অবশেষে গ্রেপ্তার সেই নেত্রী

 

আওয়মী লীগের নাম ভাঙিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে জানিয়ে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামেও তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা সময়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্য ধরেও তদন্ত চলছে। বিশেষ করে সরকারবিরোধী একাধিক গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া তথ্য আরো যাচাই-বাছাই চলছে।

হেলেনা জাহাঙ্গীরের জন্ম ও বিয়ে:

হেলেনা জাহাঙ্গীরের জন্ম ১৯৭৪ সালের ২৯ আগস্ট। ঢাকার তেজগাঁওয়ে। বাবা মরহুম আবদুল হক শরীফ ছিলেন জাহাজের ক্যাপ্টেন। হেলেনা জাহাঙ্গীরের জন্ম কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। কিন্তু হেলেনার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের হালিশহরের মাদারবাড়ী সদরঘাট এলাকায়। পড়াশোনা স্থানীয় কৃষ্ণচূড়া স্কুলে। চাকরিসূত্রে তার বাবা রাশিয়ায় চলে গেলে মায়ের সঙ্গে কুমিল্লায় চলে যান হেলেনা। পরে সেখানে থেকেই পড়াশুনা করেন। কলেজে শেষে তিনি ঢাকার দিকে পা বাড়ান।

তার স্বজনদের সূত্রে জানাগেছে হেলেনার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি একজন ব্যবসায়ী। ১৯৯০ সালে তাদের বিয়ে হয়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয় হেলেনার। নামের সঙ্গে যুক্ত হয় জাহাঙ্গীর। স্বামীর সংসারে হেলেনা জাহাঙ্গীর পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন; শেষ করেন স্নাতকোত্তর। এরপর শুরু করেন তার উদ্যোক্তা জীবন। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাপার প্রয়াত নেতা হুসাইন মোহাম্মাদ এরশাদ

 

বিয়ের ৬ বছর পর ১৯৯৬ সালে রাজধানীর মিরপুর ১১-তে একটি ভবনের দুটি ফ্লোর নিয়ে হেলেনা শুরু করেন প্রিন্টিং ও এমব্রয়ডারি ব্যবসা। নিট কনসার্ন প্রিন্টিং ইউনিট লিমিটেড দিয়ে শুরু করে জয়যাত্রা গ্রুপের আওতায় একে একে তিনি গড়ে তোলেন জয় অটো গার্মেন্টস লিমিটেড, জেসি এমব্রয়ডারি অ্যান্ড প্রিন্টিং এবং হুমায়রা স্টিকার লিমিটেড। সবকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের কাজ ভাগিয়ে আনতেন।

বিভিন্ন ভাবে জানাগেছে বেশকিছু দিন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজ সেবক সিস্টার হেলেনা জাহাঙ্গীর নামে পরিচিতি পান। সমাজ সেবক ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বিভিন্ন সময় মিডিয়ায় টকশোতে অংশগ্রহণ করতেন তিনি। এছাড়াও প্রায় এক ডজন সামাজিক সংগঠনের নেতৃস্থানীয় দায়িত্বে রয়েছেন হেলেনা। সফল নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হিসেবে মিডিয়ায় হেলেনা জাহাঙ্গীর আলোচনায় আসেন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

প্রিন্টিং, অ্যামব্রয়ডারি, প্যাকেজিং, স্টিকার এবং ওভেন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। জয়যাত্রা গ্রুপের আওতায় এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। সব মিলিয়ে ১২ হাজার কর্মী কাজ করছেন তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।

ঢাকা, ৩০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।