স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও তারুণ্যের ভাবনা


Published: 2021-03-26 00:18:26 BdST, Updated: 2021-04-23 23:54:36 BdST

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতি সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যদিয়ে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল একটি ভূখন্ডের, যার নাম বাংলাদেশ। সবুজের জমিনে রক্তিম সূর্যখচিত মানচিত্রের এ দেশটির ২৬ মার্চ শুক্রবার স্বাধীনতার ৫০ বছরে পদার্পণ করছে বাংলাদেশ জাতি।

স্বাধীনতার ৫০(সুবর্ণ জয়ন্তী) বছরের পথচলায় দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। একাত্তরে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি স্বতন্ত্র দেশ পেয়েছি। স্বাধীনতার পর ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ দেশ আখ্যা দিয়ে যারা অপমান-অপদস্থ করেছিল, সেই তাদের কণ্ঠেই এখন বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা। দারিদ্র্য আর দুর্যোগের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পথে। অনেকের জন্য রোলমডেল।অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ক্যাম্পাসলাইভ টোয়েন্টিফোরডটকমের (campuslive24.com) ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মো.ইমরান হোসেন কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের অনুভূতিগুলো নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন-

আবদুল্লাহ আল সজিব, ব্যবস্থাপনা বিভাগ

বটমলেস বাস্কেট’ বা তলাবিহীন ঝুড়ি হিসাবে, সেই দেশটি চলতি ২০২১ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত: বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছরে পা দিয়েছে চলতি মার্চ মাসে। একটি দেশের জন্য এ পাঁচ দশক একেবারে কম সময় নয়। এ পাঁচ দশকে বাংলাদেশের রয়েছে অভাবনীয় সাফল্য,তেমনী রয়েছে অনেক অপ্রাপ্তি। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা। যাদের বিনিময়ে পেয়েছি এই স্বাধীনতা, তাদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। শহীদদের এই ঋন কখনো পরিশোধ করবার মতো নয়। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কিসিঙ্গার যে দেশটিকে আখ্যায়িত করেছিলেন ‘বটমলেস বাস্কেট’ বা তলাবিহীন ঝুড়ি হিসাবে, সেই দেশটি চলতি ২০২১ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে সব ধারা অতিক্রম করবে।

আবদুল্লাহ আল সজিব

 

উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি আসবে ২০২৪ সালে। এটা নিঃসন্দেহে একটি মর্যাদার বিষয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দিক দিয়ে অনেক দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন সামনের কাতারে। এছাড়াও বিদ্যুৎ খাত, সড়ক জনপদ বিভাগ, জ্বালানি খাত এবং শিল্প খাতের উন্নয়ন ও চোখে পড়ার মতো। তবে কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজন ও রয়েছে যেমন গনতন্ত্রের অনুপস্থিতি, রাষ্ট্র যন্ত্রের কাঠামো সংস্কার, দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা খাতের বেহাল দশা, বৈষম্য মূলক শিক্ষা ব্যবস্থা, দূর্নীতি মুক্ত এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ। একজন ছাত্র হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এটাই প্রত্যাশা থাকবে বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সুখি সমৃদ্ধিশালী একটি দেশ।

যে দেশে থাকবে গনতন্ত্রের সুষ্ঠ চর্চা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, জনগনের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা, জন সাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, মানবাধিকার রক্ষা, বিশ্বমানের মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় চাকরির নিয়োগে থাকবে মেধাবীদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন, বেকার সমস্যা দূরীকরণ ও কর্ম সংস্থানের সুযোগ, তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, মাদক মুক্ত সমাজ এবং অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ। পৃথিবীর মানচিত্রের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে স্বপ্নের বাংলাদেশ।

শারিকা আক্তার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ

স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান অনস্বীকার্য: "২৬ মার্চ ২০২১" বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি তারিখ বা সংখ্যা নয়, বাঙালির অতীতের স্মৃতি তাজা হওয়ার একটি দিন। যেমন করে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করা হয়েছিল। আর এটা সম্ভব হয়েছিল একজন অনুপ্রেরণা দানকারী নেতার কারনে। তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

২০২১ সালের ২৬ শে মার্চ আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছি। যদি দেশ স্বাধীন না হত তবে তা পালন করা সম্ভব হতো না।রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছেলে বেলা থেকেই দেশপ্রেমিক এবং মানবদরদী ছিলেন। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা। জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ছয় দফা স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যন করা হয়। তিনি বাঙালির অধিকার রক্ষায় আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব প্রদান করেছেন।

শারিকা আক্তার

 

১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকারের সাথে যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে প্রধান আসামি করে আগরতলা মামলা দায়ের করা হয়।১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেছনে মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে; তা সত্ত্বেও তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়া হয়নি। এত কিছুর পরেও তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য লড়াই করে যান। ১৯৭১ সালে ৭ ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে জনসাধারণের মনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে অনুপ্রেরিত হয়ে বাংলার মানুষ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ইউনেস্কো শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ২৫ শেষ মার্চ রাতে তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। বিশ্ব শান্তি পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও ক্যুরি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজউইক পত্রিকায় শেখ মুজিবুর রহমানকে “রাজনীতির কবি” বলা হয়েছে। আমরা তাঁর জীবনী পাঠ করে অনুপ্রাণিত হই। স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা বিনম্র শ্রদ্ধায় তাকে স্মরণ করি।বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালির আত্মত্যাগের ফলেই আমরা সোনার বাংলাদেশ পেয়েছি।

শান্তা আক্তার, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ

শহীদদের আত্ম ত্যাগের কারনেই আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পারছি: স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- এর নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ শেষে আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ২৬-শে মার্চ হলেও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। তারপর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ‘সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ’ কর্তৃক ১১ দফা আন্দোলন, ৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে আমরা মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাই।

শান্তা আক্তার

 

মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয় আর তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধে বিজয় অর্জন করি। পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। শহীদদের আত্মত্যাগের কারনেই আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে বুকভরে নিশ্বাস নিতে পারছি এজন্য তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আজ স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে সকল শহীদের জন্য আমার অগাধ ভালোবাসা ও বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো।

গোলাম কিবরিয়া, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ

১৯৬৬ সালের ৬দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ: ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করা খোকাই আজকের বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পিছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা অনেক ভাগ্যবান এ জন্যই যে তার মতো একজন বিশ্বমানের নেতা আমাদের মাঝে জন্মেছিলেন বলে। যে নিজের সুখ দুঃখের কথা কখনোই ভাবেননি। ভেবেছেন এ দেশের সাধারণ মানুষের কথা, কিভাবে তাদের অধিকার আদায় করা যায়, কিভাবে তাদের শোষণের হাত থেকে রক্ষা করা যায় ভেবেছেন সেকথা। ১৯৪৮ সালের সাধারণ ধর্মঘট থেকে শুরু করে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তার ভূমিকা ছিল অনেক।

গোলাম কিবরিয়া

 

তার মধ্যে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন ছিল উল্লেখযোগ্য। যেটি ছিল বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সনদ। তারপর ১৯৭১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা অনেক। সর্বপরি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ ছিল এক ঐতিহাসিক ভাষণ। যে ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙ্গালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে পেরেছিলেন। এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

মুজিব শতবার্ষিকী উপলক্ষে, মুজিব আদর্শে উজ্জীবিত হোক সারা বাংলা। বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে জন্মগ্রহন করুক মুজিবের মতো ন্যায-নিষ্ঠা, আদর্শবান, সত্যবাদী, নিরাহংকারী সাহসী নেতা। বঙ্গবন্ধু যেমন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন সকল অন্যায়, অবিচার, দু্র্নীতিকে তেমনি আমরা আশা করি বর্তমান নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার ও দূর্নীতিকে প্রত্যাখান করে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশিত সোনার বাংলা বিনির্মান করবে।

আল মামুন মিন্টু, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাখব এটাই হোক সকলের অঙ্গীকার: এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি।সূর্যের রঙের সাথে মিশে আছে ৩০ লাখ শহিদের রক্ত, ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রম হারানোর বেদনা। ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের দ্বারপান্তে আমরা। ১৭ ই মার্চ ২০২১ সালে আমরা উদযাপন করি বাঙালি জাতির রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম জন্মবার্ষিকী। আসছে ২৬ শে মার্চ ২০২১ আমাদের স্বাধীনতার ৫০ তম সুবর্ণজয়ন্তী।

আল মামুন মিন্টু

 

যাদের সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। তাদের প্রতি স্মরণ করে আমরা শপথ নিতে চাই,বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাখব ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে এখন উন্নয়নের রোল মডেল।আমাদের নিজেদের অর্থায়নের তৈরি হলো স্বপ্নে পদ্মা সেতু। বিজয় মানে শুধু একটি পতাকা বা ভূখণ্ড নয়। আমাদের সময় এখন সেই ভূখন্ডিত দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

স্বপ্নীল হাসান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ

স্বাধীনতা অর্জনের পিছনে নির্বাচননের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে: স্বাধীনতার অর্জনের ৫০তম বছরের শেষ প্রান্তে এসে বিনম্র চিত্তে ও গভীর শ্রদ্ধার সাথে আমরা বীর মুক্তি যোদ্ধাদেরকে শ্রদ্ধা করছি।বাংলার বাংলার মানুষ দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এদেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। ১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৭০ সালের মধ্য দিয়ে আমরা আজ স্বাধীনতার ৫০ বছরের আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছি।স্বাধীনতা লাভের ফলে এদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা, বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ, মাতৃও শিশু মৃত্যু হ্রাস জীবনমানের উন্নয়ন, রপ্তানি, আয়, প্রবৃদ্ধি ইত্যাদির সুফল ভোগ করার সুযোগ পেয়েছে সমগ্র জাতি।আমরা মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী সাহসিকতা ও প্রঙ্গার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও বলিষ্ঠ কন্ঠস্বরের জন্যই আজ স্বাধীন ভাবে এদেশে বাস করার সুযোগ পেয়েছি।

স্বপ্নীল হাসান

 

বিশেষ করে ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পিছনে নির্বাচনের অপরিসীম গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক সামাজিক, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দীর্ঘ ৫০ বছর পর সুবর্ণ জয়ন্তীর ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। মানুষের জীবন মানের পরিবর্তন আনতে পেরেছে।

সিয়াম মিয়া, বাংলা বিভাগ

স্বাধীনতা হোক প্রেরণার উৎস, দেশ সেবাই হোক অঙ্গীকার: ২৬শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা, এই দিনে জাতি স্মরণ করছে বীর শহিদদের। স্বাধীনতা দিবস তাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুক্তির প্রতিজ্ঞায় উদ্দীপ্ত হওয়ার ইতিহাস।

সিয়াম মিয়া

 

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ২৫শে মার্চের মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া হত্যাযজ্ঞের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশিরা এই দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ স্বাধীন করার শপথ গ্রহণ করে। ঐ রাতেই তৎকালীন পূর্ব বাংলার পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শুরু করে প্রতিরোধ যুদ্ধ, সঙ্গে যোগ দেয় সাধারণ মানুষ। ৯ মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় স্বাধীনতা৷ জন্ম হয় বাংলাদেশের। স্বাধীনতা হোক প্রেরণার উৎস, দেশ সেবাই হোক অঙ্গীকার।

মো. শাহিন, অর্থনীতি বিভাগ

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে প্রিয় মাতৃভূমি: ১৯৭১ সালে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়। প্রিয় মাতৃভূমি আজ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে। দেশে সুশাসন, নাগরিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে পালন, গুনগত উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া মাধ্যমে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব। তরুণরাই পারে দেশের হাল ধরতে।

মো. শাহিন

 

স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে শক্তিতে রুপান্তর করতে হবে। স্বাধীনতা হোক সকল তরুণের প্রেরণার উৎস আর দেশ সেবা করাই হোক তরুণ প্রজন্মের অঙ্গীকার।

ঢাকা, ২৫ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।