বশেমুরবিপ্রবি'র দুই দশক, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা


Published: 2021-07-08 11:43:22 BdST, Updated: 2021-09-19 17:21:00 BdST

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) আজ (৮ জুলাই, ২০২১) এ একুশ বছরে পদার্পণ করল। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিদ্যাপীঠটি ২০ বছর পার করলেও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০১১ সাল থেকে। এই ২০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ কণ্টকাকীর্ণ পথ। ২০০১ সালের ১৩ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমি গোপালগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু ২০০১ সালের ২১ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক প্রকল্প স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং ২০০২ সালের ১৫ এপ্রিল প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকার।

২০০৯ সালের নভেম্বরে স্থগিত প্রকল্পটি পুনরায় চালু হয় এবং ২০১০ সালের ২০ জানুয়ারি বশেমুরবিপ্রবি আইন ২০০১ বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসআরও জারি করে। ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ক্যাম্পাস ও একাডেমিক কার্যক্রম উদ্বোধন হয় ১৯ জানুয়ারি ২০১৩ সালে। প্রায় ৫৫ একর আয়তনের নিজস্ব ক্যাম্পাসে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ৪ টি অনুষদে ৫ বিভাগের মোট ১৬০ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বশেমুরবিপ্রবি।

বর্তমানে এ বিদ্যাপীঠে ৭ টি অনুষদ এবং ৩ টি ইনস্টিটিউটের অধীনে ৩৪ টি বিভাগে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে। রয়েছে বিদেশী শিক্ষার্থীও। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা তাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি একসময় দেশসেরা বিদ্যাপীঠ হয়ে উঠবে। আজ ২১ বছরে দাঁড়িয়ে বশেমুরবিপ্রবি, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা প্রাপ্তির কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে তা জানাচ্ছে আমাদের ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকমের প্রতিনিধি- আর এস মাহমুদ হাসান।

"স্বমহিমায় উজ্জ্বল এক বিদ্যাপীঠ"
নূপুর গোলদার, বাংলা বিভাগ
জন্মলগ্ন থেকে শত বাধা পেরিয়ে সাফল্যের ২১ বছরে পা দিতে চলেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। হাজারো উজ্জ্বল নক্ষত্রের স্বপ্নের অধিশ্রয় এ ৫৫ একর। একাডেমিক, প্রশাসনিক, আবাসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিকতা প্রভৃতি কর্মকান্ডে একের পর এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে আমাদের এ বিশ্ববিদ্যালয়।

নূপুর গোলদার

 

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দুর্বার সাফল্য ও আদর্শের আলোকবর্তিকা হয়ে আপন গৌরবের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠুক এ প্রাণের ৫৫ একর। দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে প্রবাসের মাটিতেও যেন সফলতার স্বাক্ষর স্থাপন করতে পারে আমাদের ভালোবাসার এ বিদ্যাপীঠ।

"বাধা পেরিয়ে নব উদ্যেমে এগিয়ে যাক বশেমুরবিপ্রবি"
মুশফিকুর রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
সময়ের পরিক্রমায় দুই দশক পার করল বশেমুরবিপ্রবি। বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যাশা থাকে বহুগুন। শিক্ষার্থীরা একাডেমিক, নন-একাডেমিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন স্তরেই তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। শিক্ষা-কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই রয়েছে হাজারো প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তি। রয়েছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব, অপ্রতুল শিক্ষক সহ অনেক অপ্রাপ্তিও।

মুশফিকুর রহমান

 

২০১৯ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় দেখেছে স্বৈরাচারী ভিসির দূর্নীতি, অবৈধ ছাত্র ভর্তিসহ পাহাড়সম অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র -ছাত্রীদের যৌক্তিক আন্দোলন এবং সফলতা। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি সবকিছুকে ছাপিয়ে বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষার যথার্থ পরিবেশে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সে প্রত্যাশাই রাখি।

''বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটার সঠিক উদাহরন হোক বশেমুরবিপ্রবি''
সাদিয়া আফরিন বর্নি, ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ
মহামারি কোভিড-১৯ এর কারণে প্রথম বর্ষের স্টুডেন্ট হিসেবে মাত্র দুই মাস ক্যাম্পাসে ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছি আমরা। তবুও এই অল্প সময়ে ৫৫ একরের প্রতি প্রগাঢ় এক মায়া জন্মে গিয়েছে আমাদের। আজ ৮ জুলাই ২০২১, প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছরে পদার্পন। বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ, জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে সুন্দর আঙ্গিনা।

সাদিয়া আফরিন বর্নি

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহ নিয়ন্ত্রণের আসিনে থাকা সকল শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিবর্গ যেন 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দটার সুন্দর অর্থবোধক ধারা অভ্যাহত রাখতে সহায়ক থাকেন সবসময় এটাই প্রত্যাশা থাকবে শিক্ষার্থীদের। পুরো ব্রহ্মান্ড মহামারি থেকে মুক্তি পাক। আমরাও নিজেদের গন্ডিতে ফিরে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় জীবন উপভোগ করবো ইনশাআল্লাহ। শুভ জন্মদিন প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়।

"একুশ পেরিয়ে তুমি, প্রাণের উচ্ছ্বাস আজও থামেনি"
মিল্টন হুসাইন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ
সমস্ত বাধাকে তুচ্ছ করে তুমি ধীরে ধীরে চলেছো ঐ এভারেস্টের চূড়ায়। আজ জন্মদিনে প্রাণের ক্যাম্পাস তোমাকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন। করোনা পরিস্থিতি যখন সবকিছু এলোমেলো করে দিচ্ছে ঠিক তখনই শ্রদ্ধেয় ভিসি স্যারের চেষ্টায় একে একে পরীক্ষাগুলো শুরু হচ্ছে এই ভেবে আনন্দিত। আমরা ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি। কিছু আক্ষেপ আজও রয়ে গেছে। আমাদের চায় গবেষণা ক্ষেত্র, প্রকাশনা ক্ষেত্র। সার্বিক বিষয়ের দিকে প্রশাসন নজর দিবেন এই আশা ব্যক্ত করি।

মিল্টন হুসাইন

 

দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার ফলে সবার মানসিক অবস্থা নাজেহাল। ক্যাম্পাস খুললে তাই ছাত্রছাত্রীদের মানসিক অবস্থা চাঙ্গা করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের নিকট চাইবো কিছু এক্সট্রাওর্ডিনারি পদক্ষেপ। সবশেষে সার্বিক সফলতা কামনা করি প্রাণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।

"উন্নয়নের কান্ডারী হয়েই, অন্ধকারে বসবাস বশেমুরবিপ্রবির"
ফারজানা আক্তার আশা, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ
একবিংশ শতাব্দীর উন্নয়ন প্রকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার এই আধুনিকায়ন। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "আমাদের সকল সমস্যা সমাধানের বড় রাস্তা হচ্ছে সুশিক্ষা" যেখানে শিক্ষা আর জীবন আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি গুটি, গুটি পায়ে এগিয়ে চলছে নতুন স্বম্ভাবনা ও উন্নয়নের কান্ডারী রুপে, কিন্তু দুই দশক পেরিয়ে গেলেও পিছুটান আর সংকটের অশনিসংকেত ছাপিয়ে রয়েছে যেন আপাদমস্তক। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে ১২ হাজার শিক্ষার্থীর রুপায়নে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির খতিয়ান খুলে দেখলে বার, বার কোন হতাশা গ্রাস করে নেয় আমার মেধা, মনন ও দৃঢ়তার আগ্রহকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ টি ডিপার্টমেন্টে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম প্রত্যাশা অনুযায়ী নেই যোগ্য শিক্ষক এবং সুব্যবস্থা সম্পন্ন শ্রেণিকক্ষ। লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় বইয়ের সংকট, আসনের সংকট, তথাকথিত মানসম্মত বিজ্ঞানাগারে নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সুব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন ও সাধারণ স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থায়ও রয়েছে নানাবিধ সংকট।

ফারজানা আক্তার আশা

 

এছাড়াও আবাসিক হলে আবাসন সংকট ও সুপেয় পানিসহ খাদসামগ্রী সংগ্রহের জন্য ক্যান্টিনেরও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থার অভাব। এত সব অভাবের অন্তরালে জীবন যেন কোন অনিশ্চিত গোলকধাঁধায় আটকে আছে। বহুধা সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষাপ্রাঙ্গণকে, সুশিক্ষা প্রাঙ্গন গড়ার লক্ষ্যে, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি কারক পরিবেশ গত ও মনস্তাত্ত্বিক সংকট সমূহ নিরসনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃঢ় ও সচেতন দৃষ্টি ভঙ্গি ও ব্যবস্থা গ্রহণ এখন এই সময়ের প্রত্যাশা।

"গবেষণা নির্ভর বশেমুরবিপ্রবির প্রত্যাশা"
মো: আরাফাত রহমান সাদ, মনোবিজ্ঞান বিভাগ
অনেক চড়ায় উতরাই আর বাধা পেরিয়ে প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্ণ করেছে বশেমুরবিপ্রবি। আমি আশা করি ভবিষ্যতে বশেমুরবিপ্রবি হবে দেশ সেরা গবেষণা নির্ভর একটি সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকগণের রিসার্স পেপার স্থান পাবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সেশন জটের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবে।

মো: আরাফাত রহমান সাদ

 

সেইসাথে আগামীর বশেমুরবিপ্রবি হবে আরও অনেক বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব। যেখানে শিক্ষার্থী ভর্তির দিক থেকে দেশে শীর্ষ না হয়ে, পড়াশোনা করতে চাওয়া দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থীর পছন্দের তালিকায় শীর্ষ হবে বশেমুরবিপ্রবি।

ঢাকা, ৮ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।