দুইদিনে শিক্ষার্থীদের যেসব রুটে পৌঁছাবে ইবির বাস


Published: 2021-07-15 17:12:08 BdST, Updated: 2021-09-20 19:43:28 BdST

আজাহার ইসলাম, ইবি: আটকে পড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহবে বিভাগীয় শহরে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (১৬ জুলাই) ৫টি ও রবিবার (১৮ জুলাই) ৫টি অথবা ৬টি বাস বিভিন্ন রুটে পরিচালনা করা হবে। এসব বাস সকাল ৬ টায় ক্যাম্পাস, কুষ্টিয়ার কাস্টম মোড় ও ঝিনাইদহের আরাপপুর থেকে ছেড়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ১৬ জুলাই ৫টি ও ১৮ জুলাই ৫/৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস বিভিন্ন রুটে পরিচালনা করা হবে। সকাল ৬ টায় ক্যাম্পাস, কুষ্টিয়ার কাস্টম মোড় ও ঝিনাইদহের আরাপপুর থেকে বাস ছেড়ে যাবে। শিক্ষার্থীদেরকে পরিচয়পত্র সহ নির্দিষ্ট সময়ে যথাস্থানে উপস্থিত থাকতে হবে।

তিনি আরো জানান, যেসব শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র নেই তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রমাণের জন্য যেকোনো ডকুমেন্ট দেখালেই চলবে (যেমন: রেজিস্ট্রেশন কার্ড, লাইব্রেরি কার্ড, ফি প্রদানের রশিদ ইত্যাদি) কোনো শিক্ষার্থী আবেদন থেকে বাদ পড়ে থাকলে পরিচয় পত্র দেখাতে হবে।

ড. আনোয়ার হোসেন জানান, ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস কুষ্টিয়া রুট হয়ে গেলে কাস্টম মোড় এবং ঝিনাইদহ রুট হয়ে গেলে আরাপপুর থেকে বাসে উঠতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কুষ্টিয়া কাস্টম মোড় থেকে ছেড়ে আসা বাস ঝিনাইদহ রুট হয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা কাস্টম মোড়, ক্যাম্পাস এবং আরাপপুর হতে বাসে উঠতে পারবেন। পাশাপাশি ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা বাস কুষ্টিয়া রুট হয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ও কুষ্টিয়ার কাস্টম মোড় থেকে বাসে উঠতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের তালিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন রুটে শিক্ষার্থীদের বিভাগীয় শহরে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবেদন করা মোট ৭৪৪ জন শিক্ষার্থী থেকে নিকটবর্তী জেলার ৮০ জনকে বাদ দেওয়া হবে। মোট ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী পরিবহন সেবা পাবেন।

যেসব রুটে বাস পরিচালনা করা হবে:
প্রথমদিন: (১৬ জুলাই) ঢাকা, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩টি বাস-
০১. ক্যাম্পাস-ঝিনাইদহ-রাজবাড়ীর মােড়- দৌলতদিয়া ঘাট-মানিকগঞ্জ-ঢাকা। ঢাকা, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের শিক্ষার্থীরা যাবে। যারা ঝিনাইদহ বা তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় থাকে।

০২. ক্যাম্পাস-কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী- মানিকগঞ্জ-ঢাকা। ঢাকা, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের শিক্ষার্থীরা যাবে। যারা ক্যাম্পাস বা এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় থাকে।

০৩. কুষ্টিয়া-বনপাড়া-বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা। ঢাকা-চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের শিক্ষার্থীরা যাবে। যারা কুষ্টিয়া বা এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় থাকে।

খুলনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২টি বাস-
০১. ক্যাম্পাস-ঝিনাইদহ-যশাের-খুলনা। যশাের, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কোন কোন জেলার শিক্ষার্থীরা যাবে। যারা ক্যাম্পাস ও ঝিনাইদহ বা তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় থাকে।

০২. কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ-যশাের- খুলনা। যশাের, খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী জেলার শিক্ষার্থীরা যাবে। যারা কুষ্টিয়া ও ক্যাম্পাস বা তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় থাকে।

দ্বিতীয় দিন: (১৮ জুলাই) রাজশাহী বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২/৩টি বাস-
ক্যাম্পাস-কুষ্টিয়া-নাটোর-রাজশাহী। রাজশাহী বা এর পার্শ্ববর্তী জেলার শিক্ষার্থীরা যাবে। যারা ক্যাম্পাস, ঝিনাইদহ, ক্যাম্পাস ও কুষ্টিয়া বা তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় থাকে।

রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২/৩টি বাস-
ক্যাম্পাস-কুষ্টিয়া-নাটোর-বগুড়া-রংপুর। বগুড়া ও রংপুর বা এর পার্শ্ববর্তী জেলার শিক্ষার্থীরা যাবে। যারা ক্যাম্পাস, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া বা তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় থাকে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুলাই আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনে বিভাগীয় শহরে পৌঁছানোর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র মৈত্রী। এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের তালিকার ভিত্তিতে পরিকল্পনা করার নির্দেশনা দেন। পরে শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করতে গত ১২ জুলাই পর্যন্ত গুগল ফর্ম পূরণের নির্দেশনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে মোট ৭৪৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন।

ঢাকা, ১৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।