ইবি ছাত্রীদের চোখে সাইবার বুলিং


Published: 2021-09-06 09:05:40 BdST, Updated: 2021-10-18 12:48:51 BdST

নারীদের কাছে সাইবার বুলিং একুশ শতকের একটি আতঙ্কের নাম। ইন্টারনেট ব্যবহার যেন শাঁখের করাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইবার বুলিং বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও প্রয়োজনীয় নীতিমালার অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। একটি সরকারি জরিপ বলছে, গ্রামে ৩৩ শতাংশ এবং শহরের ৬৪ শতাংশ মেয়ে সাইবার বুলিংয়ের শিকার। এর সিংহভাগই স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। সাইবার বুলিং নিয়ে কী ভাবছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? জানাচ্ছেন ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আজাহার ইসলাম

সাইবার বুলিং সংক্রামক ভাইরাস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অসুস্থ মস্তিষ্কের তথা কথিত কিছু সভ্য মানুষ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিরক্ত করা, বাজে কথা বলা, মানসিক চাপ সৃষ্টি করার মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। বেশিরভাগ সময়েই এর শিকার হন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং নারীরা। এ ধরণের একবার ঘটলে তার প্রতিকার এবং শাস্তি না হলে বিকৃত এবং অসুস্থ মস্তিষ্কের আরো অনেকে একই কাজ করার মত দুঃসাহস করে এবং নারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো থেকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে।

হুমায়রা আন্জুম অন্তু

 

কর্তৃপক্ষের উচিৎ এ ধরণের বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। কেননা এরা সংক্রামক ভাইরাসের মত। এদের নোংরা কাজের বিচার না হলে এরা পরবর্তীতে নির্ভীকভাবে আবারো একই কাজ করে। এদের দেখাদেখি আরো অনেকে উদ্বুদ্ধ হয়। সাইবার বুলিং এর অপরাধী নিঃসন্দেহে দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ। এদের ছাড় না দিয়ে গোড়া থেকে উৎখাত করতে না পারলে পুরো সমাজটাই পঁচে যাবে, এদের নোংরা মজার শিকার হয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে ঝড়ে যাবে লাখো ছাত্রী এবং প্রাণ।

হুমায়রা আন্জুম অন্তু
ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

সাইবার বুলিং নারীর অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধক

তথ্য প্রযুক্তির যুগে সাইবার বুলিং সবচেয়ে বড় সমস্যা। ভার্চুয়াল জগতে অনলাইনের মাধ্যমে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে মানসিক ও সামাজিকভাবে কাউকে আঘাত করাই হলো সাইবার বুলিং। এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে নারীদের ক্ষেত্রে। দেশের তিন-চতুর্থাংশ নারীরাই সাইবার বুলিংয়ের শিকার। সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পেজ থেকে ৭৩ জন ছাত্রীর ছবিসহ আপত্তিকর মন্তব্য জুড়ে দেওয়া বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

মাহমুদা টুম্পা

 

এর আগেও এক ছাত্রী সিনিয়র ছাত্রের দ্বারা বুলিংয়ের শিকার হয়েছে। সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে নারীকে প্রতিপন্ন করা, ভয় দেখানো বা মানসিক নির্যাতন বা অন্যায় কোনো কিছুতে প্রলুব্ধ করা হয়। এতে নারীরা যেমন সামাজিক সম্মান হারায়, তেমনি বেঁচে থাকার শক্তিও হারায়। অনেকেই আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। বুলিং নারীদের অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বুলিং শুরু হয় কোনো কিছু না পাওয়ার আকাঙ্খা, হিংসা ও ঘৃণ্য মনুষ্যত্ব থেকে। আমি মনে করি বুলিং কমাতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটই যথেষ্ট নয়, প্রশাসনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি প্রয়োজন। তার আগে প্রয়োজন পরিবারের সচেতন হওয়া।

মাহমুদা টুম্পা
ব্যবস্থাপনা বিভাগ

ভিকটিমের চুপ থাকাটাই বড় ক্ষতির কারণ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে আমরা কেউ না কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনার পড়ি। এর মধ্যে অন্যতম সাইবার বুলিং। দেশের তিন-চতুর্থাংশ নারী সাইবার বুলিংয়ের শিকার। প্রধাণত শিকার কিশোরীরা। যার অনেকাংশই চুপ থাকে, পরিবার ও নিজের সম্মানের কথা ভেবে। আর এই চুপ থাকাটাই হয়ে উঠে বড় ক্ষতির কারণ। যার ফলে অপরাধীর অপরাধ প্রবণতা আরও দ্বিগুণ মাত্রায় বেড়ে যায়।ভিকটিমকে অনেক সময় যৌন নির্যাতনও করা হয়।

শ্যামলী তানজিন অনু

 

বুলিংয়ের বিভিন্ন প্রকারভেদ আছে। বডি শেমিং, মৌখিক আক্রমণ, শারীরিক আক্রমণ, অনুভূতিতে আঘাত ইত্যাদি। এই কাজগুলোতে শুধু যে ভিকটিমের একার ভোগান্তি হয় সেটা না। তার এবং পরিবারের সম্মান নষ্ট হয়, ভিকটিম মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, বন্ধু-বান্ধবের সাথে মিশতে চায় না, একাকী সময় পার করতে চায় এবং এক পর্যায়ে ডিপ্রেশনের চরম মাত্রায় পৌঁছে যায়। তাছাড়াও নানান জনের নানান কথার জালে পিষ্ট হয়ে অনেকে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে ফেলে। তাই এ সময়টাতে পরিবার এবং বন্ধু বান্ধবদের উচিত ভিকটিমের পাশে থাকা, তাকে সময় দেওয়া, তার সাথে ভালো আচরণ করা।

শ্যামলী তানজিন অনু
বাংলা বিভাগ

সাইবার বুলিং রোধে নীতিমালা প্রয়োজন

প্রযুক্তির উন্নয়ন, সহজলভ্যতা আর জনপ্রিয়তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছেই সাইবার ক্রাইম। যার মধ্যে সাইবার বুলিং অর্থাৎ ভার্চুয়াল হয়রানি জঘন্যতম। আমাদের দেশে শতকরা ৮০ শতাংশ নারী সাইবার বুলিংয়ের শিকার। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও অনেক সময় সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। সাইবার বুলিংয়ে ভুক্তভোগীদের মাঝে ক্ষোভ, ক্রোধ, দুঃখ, হতাশা এবং অসহায়ত্ব অনুভূতি তৈরি করে। কিন্তু অধিকাংশ নারীই প্রতিবাদ করতে পারেন না।

আদিলা ফাইরুজ

 

কারণ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অপরাধীকে অপরাধী স্বাবস্ত করার পরিবর্তে ভিকটিমকে অপরাধীর চোখে দেখা হয়। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে অপরাধীকে সকলের সামনে নিয়ে আসা প্রয়োজন। কেবলমাত্র ভুক্তভোগী ও সমাজের মানুষের সাহসী মানুষিকতাই হতে পারে সাইবার বুলিং প্রতিরোধের প্রথম পদক্ষেপ। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যবহার করা ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার সম্পর্কে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। একইসাথে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোকে সাইবার বুলিং রোধে নীতিমালা প্রণয়ণ ও ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তাহলে হয়তো এই অপরাধ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আদিলা ফাইরুজ
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।