অবহেলিত বনজুঁই মেলে ধরেছে সৌন্দর্য


Published: 2021-03-14 16:47:21 BdST, Updated: 2021-05-09 02:06:56 BdST

আজাহার ইসলাম: ঋতু বৈচিত্র্যের হাড়কাঁপানো শীতকে বিদায় জানিয়ে ধরায় আগমন ঘটেছে বসস্তের। গাছে গাছে ফুল, আমের মুকুল, পাখির কলরব, ঝরা পাতার মর্মর শব্দ, কচি পাতার উঁকি তা স্পষ্টরূপে জানান দিচ্ছে। বসন্তের আগমনের সাথে সাথে সৌন্দর্য মেলে ধরেছে বনজুঁই। বসন্ত এলেই পথে প্রান্তরে থোকায় থোকায় ফুটে এসব ফুল।

বনজুঁই ফুল

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবীড় এই পল্লিতেও পথে প্রান্তরে আপন সৌন্দর্য মেলে ধরেছে সবুজ বহুপত্রী এই ফুল। বিশ্বব্যিালয়ের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, হল, বিভিন্ন ভবন, মফিজ লেকসহ বিভিন্ন যায়গায় ফুটেছে নজর কাড়ানো এই ফুল।

বনজুঁই ফুল

 

গ্রামাঞ্চলে মাঠে-ঘাটে, পথে প্রান্তরে প্রায়শই দেখা যায় নাম না জানা নানা প্রজাতির বনফুল। অনেক কবি প্রেমে পড়েছিলেন নানা প্রজাতির বনফুলের। যার মধ্যে ফুল প্রেমিদের মনে সাড়া জাগনিয়া অন্যতম একটি ফুল হলো বনজুঁই। নামটি শুনলে অনেকের কাছেই অপরিচিত মনে হবে। অযত্নে অবহেলায় বেড়ে উঠা এই বনফুলটি ভাটফুল, ভাটিফুল, ঘেঁটুফুল বা ঘন্টাকর্ণ নামেই অধিক পরিচিত।

বনজুঁই ফুল

 

বনজুঁইয়ের বৈজ্ঞানিক নাম ক্লেরোডেন-ড্রাম-ইনারমি। ইনফরচুনাটাম প্রজাতির ফুল এটি। প্রায় ৪০০ প্রজাতির বনজুঁই পাওয়া যায়। যাদের আদিনিবাস এশিয়া মহাদেশের বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলংকায়। এই ফুলের মন মানাতো সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবে যেকেউ। এ মিষ্টি গন্ধ মাতাল করে তোলে ফুলপ্রেমিদের মন। এছাড়া এর মনমুগ্ধকর সৌরভে প্রজাপতি, মৌমাছি, পিঁপড়াসহ নানা প্রতাজির কিট প্রতঙ্গের আনাগোনা চোখে পড়ার মত। এরা ফুলের সুগন্ধ, সৌরভে ব্যাকুল হওয়া ছাড়াও ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসে।

বনজুঁই ফুল

 

ছোট আকৃতির এই ফুলটির পুংকেশর,পাপড়ি, পাতা ও কান্ড নিঁখুত কারুকার্জে সাজানো। মাঝের পুংকেশর ফুলটির সৌন্দর্য যেন আরো বাড়িয়ে তুলেছে। ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ার পর লালচে বৃতির মাঝখানে সবুজ ও বেগুনী বীজ দেখতে একেবারে নাকফুলের মত। মনে হয় যেন কারুকাজ খচিত লালচে পাথরের মাঝে সবুজ অথবা গাঢ় বেগুনী চকচকে এক ডায়মন্ড খন্ড বসিয়ে রেখেছে।

বনজুঁই ফুল

 

বনজুঁই সৌন্দর্য বর্ধন ছাড়াও নানা গুণে গুণান্বিত। ভেষজ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে এই উদ্ভিদটির পাতা, শিকর ও ফুল। ম্যালেরিয়া, চর্মরোগ ও পোকা-মাকড়ের কামড়ে খুবই উপকারী। এই উদ্ভিদের কচি পাতার রস টনিক হিসেবে কাজ করে। পাতায় প্রাপ্ত ক্যামিকেল কৃমিনাশক, জ্বর উপশমকারি ও এক্সপেকটোরেন্ট হিসেবেও কাজ করে। মূল থেকে প্রাপ্ত ক্যামিকেল এজমা, টিউমার ও চর্মরোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ইমপোটেন্সি বা যৌনদুর্বলতায় মুলের উঞ্চ রস চমকপ্রদ ফলপ্রসু।

বনজুঁই ফুল

 

১৭৫৩ সালে কার্ল লিনিয়াস তার স্পেসিস পান্টেরাম নামক গ্রন্থে এই উদ্ভিদেও নাম উল্লেখ করেন ‘জেনাস’ নামে। যার অর্থ ‘ভাগ্য উদ্ভিদ’। এদের বৃতি সাদার পরিবর্তে প্রথমে সবুজ ও পরে পরিপক্ক অবস্থায় লালচে রং ধারন করে। এই লালচে রঙের কারনেই এদের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যে ফুলের বৃতিতে যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তার জন্য পলিনেটর আকৃষ্ট হয় ও পরাগায়ন ঘটায়, কারো কারো মতে এজন্যই কার্ল লিনিয়াস এরকম নামকরন করেন।

লেখক: আজাহার ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

ঢাকা, ১৪ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।