তারুণ্যের চোখে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন


Published: 2021-03-17 22:49:01 BdST, Updated: 2021-05-09 02:19:18 BdST

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ। বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে এক শিশুর জন্ম হলো। নাম খোকা। গ্রামের মানুষ ছাড়া কেউ তার জন্মের কথা জানেনি। ঠিক পঞ্চান্ন বছর পর যখন সেই খোকার মৃত্যু হলো, স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, ঘাতকদলের হাতে মর্মান্তিক মৃত্যু, তখন সারা বিশ্ব শোকে আচ্ছন্ন হয়েছে। তিনি তখন টুঙ্গিপাড়ার খোকা নন, সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত একটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক। যার নির্দেশেই বাংলা পাকিস্তানিদের পরাধীনতার হাত থেকে মুক্তি পেয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলো।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীকে ঘিরে সারা বাংলায় একটি উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। নানা উৎসাহ উদ্দীপনা মধ্যে দিয়েই এ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপযাপন করবে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে তরুণ প্রজন্ম কী ভাবছে স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু এবং আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে? মুজিব শতর্বষ ও স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে তরুণদের ভাবনাগুলো তুলে ধরছেন ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকমের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি উমর ফারুক...

হোসাইন মাহমুদ আপেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন স্বাধীনতার আশীর্বাদিক পুরুষ, শত সহস্র বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজকের এই দিনে জন্মছিলেন টুঙ্গিপাড়ার পবিত্র ভূমিতে। পলাশীর প্রান্তরে স্বাধীনতা প্রায় দু'শ বছরের জন্য অস্তমিত হওয়ার পর, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বাংলার স্বাধীনতার জন্য আবারও একটি বীজ রোপিত হয় বাইগার নদীর তীরে। পৃথিবীর ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুই একমাত্র দৃষ্টান্ত যিনি কিনা একটা ভূখণ্ড কে স্বাধীনতা এনে দিতে ভিন্ন-ভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে মোট ৪৬৮২ দিন কারাবরণ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর এই ত্যাগী মনোভাব হৃদয়ে ধারণ এবং তা সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েই তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে তরুণ প্রজন্ম। স্বাধীনতা পরবর্তী ২১ বছর স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে ইতিহাসের যে চরম মতদ্বৈধতা তৈরি করেছে, তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যা কিনা বর্তমান তরুণ সমাজের আদর্শিক দায়িত্ব।

হোসাইন মাহমুদ আপেল

 

তবেই প্রকৃত ইতিহাস জানার মাধ্যমে সুখী, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে উঠবে। যা কিনা বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত যে বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন বঙ্গবন্ধু, ঐক্যবদ্ধ তরুণ সমাজের প্রকৃত মুজিবীয় কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা তা বাস্তবায়ন করতে পারি। আজকের তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক ছায়া হয়ে, জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের অগ্রসৈনিক হওয়ার মাধ্যমে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলকে প্রকৃত স্বাধীনতা এনে দিতে বদ্ধপরিকর হবে আশা রাখি।

জান্নাতুন নাঈমা আকন্দ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
যেদিন থেকে নিজের জন্মভূমিকে জানতে শিখেছি ঠিক সেদিন থেকেই জেনেছি স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশের সাথে অবিচ্ছেদ্য একটি নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জানতে পেরেছি এমন এক নেতাকে, যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে নির্বাচিত হয়েও অকপটে বলেছেন, 'আমি প্রধাণমন্ত্রীত্ব চাই না, আমি বাংলার মানুষের মুক্তি চাই ।' শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্যে তিনি এই দেশের শোষিত মানুষকে শোষকদের হাতে ছেড়ে দেন নি। শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন জেলে।

আপোষহীন নেতার এমন বিরল দৃষ্টান্ত পৃথিবীর আর কোথাও ছিলনা বলেই হয়তো তখন বিশ্ব সংবাদ মাধ্যম নিউজউইক ম্যাগাজিন তাদের প্রচছদে বঙ্গবন্ধুকে"পোয়েট অব পলিটিক্স "আখ্যায়িত করে নিবন্ধন প্রকাশ করে। মহান এই নেতার চাওয়া ছিল একটাই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে আর্থসামাজিক মুক্তির সাথে সাথে মনস্তাত্ত্বিক মুক্তি।

জান্নাতুন নাঈমা আকন্দ

 

আজ ইতিহাসের এই কিংবদন্তির শততম জন্মদিন, সেই সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসেরও শততম জন্মদিন কারণ মুজিব আর এদেশের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য, তাই স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে তরুণ প্রজন্মের সময় এসেছে নতুন করে জাতির পিতাকে আবিষ্কার করার, তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শোষিত মানুষের পাশে দাড়ানোর, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর, বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর বৈষম্যহীন সোনার বাংলায় পরিণত করার। কারণ তিনি সর্বদাই তারুণ্যের শক্তিতে বিশ্বাসী ছিলেন। আশারাখি বঙ্গবন্ধু আদর্শ ধারণ করে তরুণ প্রজন্মের হাতেই গড়ে উঠবে স্বপ্নের সোনার বাংলা।

জিল্লুর রহমান রিয়াদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে বাংলার তারুণ্য আমাদের প্রিয় দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দূর্নীতি মুক্ত স্বশিক্ষিত জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। যেখানে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের মত কোন ঘটনা ঘটবে না। জনপ্রতিনিধিরা ক্ষমতার দম্ভে নয়, নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। কেউ রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ব্রিজ বানাবে না। টাকার অভাবে কোন মা তার সন্তানকে বিক্রি করে দিবে না। বিচার বিভাগ থাকবে সম্পূর্ণ স্বাধীন।

জিল্লুর রহমান রিয়াদ

 

কোন মামলার রায়ের জন্য বছরের পর বছর তারিখ পরিবর্তন হবে না। লেখক - সাংবাদিকেরা নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা পাবেন। কোন ৫৭ ধারা তাদের কণ্ঠরোধ করবে না৷ কারো জোড়ে নয়, নিজ-নিজ যোগ্যতায় সবাই কমক্ষেত্রে প্রবেশ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বছর শেষে শুধু গ্র্যাজুয়েট নয়, বরং বিষয়ভিত্তিক দক্ষ জনশক্তি তৈরি করবে। তবেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে।

ফাহমিদা লাবণ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
তরুণ সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি তরুণদের কাছে একাধারে জীবন সংগ্রামের,অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ও আর্দশের প্রতীক,অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কারিগরি, উদার ব্যক্তিত্ব এবং সফল রাজনীতিবিদ। স্বাধীনতার মাস মার্চ এলেই বুঝা যায়,বাংলার তরুণদের মগজে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা মর্মবাণী। ৭,১৭কিংবা ২৬ মার্চ বাঙ্গালীর কাছে অনবদ্য ও অর্থবহ। কতটুকু অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ-দেশপ্রেম,দেশ গড়ার কাজে,জাতির পিতার জীবনাদর্শ, প্রেরণার্থক ভাষণ,জীবন দর্শন।

বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী 'এবং 'কারাগারের রোজনামচা' বই দু'টিতে তারুণ্যের ওপর বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাস ও তাঁর তরুণ জীবনের সংগ্রামের ইতিহাস অন্তরঙ্গভাবে লিখে গেছেন।নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো, অভয় মানো—তিনি তরুণদের বলছেন; যেখানে অন্যায়, অবিচার সেখানে প্রতিবাদ করো; মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ক্ষমতার এবং স্বার্থের ঘর বড় করে, তাদের প্রতিরোধ করো। তিনি নিজে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন, তরুণদেরও সেই প্রয়াস নিজের মতো করে নিতে বলেছেন।

ফাহমিদা লাবণ্য

 

এ দুটি বই পড়ে তরুণেরা জানে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে তিনি ঘৃণা করতেন, দল থেকে দেশটাকে সব সময় বড় করে দেখতেন এবং শিক্ষার আদর্শকে সম্মান করতেন। তিনি হিন্দু-মুসলমান বিভাজনে বিশ্বাস করতেন না, তাঁর দর্শন ছিল এক বহুত্ববাদী সংস্কৃতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের। যেটা বর্তমান রাজনীতির সাথে বড্ড বেমানান বঙ্গবন্ধুর আর্দশ।ফলশ্রুতিতে, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম আজ রাজনীতি বিমুখ। তবে ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে বাংলার তরুণরা এগিয়ে আসবে ও সোনার বাংলা বিনির্মানে ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা।

ঢাকা, ১৭ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।