আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস


Published: 2021-06-01 07:48:24 BdST, Updated: 2021-10-26 18:21:00 BdST

আফসানা মিমি লাবনী: আজ ১ জুন, বিশ্ব দুধ দিবস। দুগ্ধ খাতে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে অবদান রাখায় অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও বিকাশের ক্ষেত্রে সমাজে দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের গুরুত্ব স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব দুগ্ধ দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে ২০ বছর আগে থেকেই। এই বছর বিশ্ব দুধ দিবসের একবিংশ তম বার্ষিকী। এ বছর দুধ দিবসের প্রতিপাদ্য "দুগ্ধ খাতে টেকসই"।

দুধকে সুষম খাবার বলা হয়। কারণ এতে সকল পুষ্টি উপাদানই পাওয়া যায়। দুধে বিশেষ করে চর্বি, আমিষ, শর্করা, নানা ধরনের ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং খনিজ পদার্থ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। ক্যালসিয়ামের সেরা উৎস দুধ।ভিটামিন ডি এর সাহায্যে আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে। দুধে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকায় ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা নষ্ট হতে দেয়না।কাজেই নিয়মিত দুধ খেলে হাড় শক্ত হয়। দাঁতের এনামেল স্তর রক্ষা হয়, মাইগ্রেন সমস্যা কমায়, দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখে, ডায়েটেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

'দুধ না খেলে হবে না ভাল ছেলে' এরকম সাবধান বাণী সবাই শুনেছি, কিন্তু শুধু বাড়ন্ত বাচ্চা না সব বয়সের জন্য দুধ উপকারী। দুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বেশি বয়সে গিয়ে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কিন্তু সতর্কতা স্বরূপ জানতে হবে, দুধের সাথে সবধরনের খাবার মিশিয়ে খাওয়া যাবেনা। টকজাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা। কারণ দুধে ভিটামিন সি হজম উপাদান নেই সেই সঙ্গে কার্বোহাইড্রেটও কম পরিমাণ থাকে। এছাড়াও দুধের সাথে কলা খেলে অনেকের হজম প্রক্রিয়ার সমস্যা ও সাইনাসের সমস্যা হতে পারে। অনেকেই দুধ হজম করতে পারেনা। তারা গরম দুধ খাবে, এটি দ্রুত হজম হয়। ঠাণ্ডা দুধ মেদ কমাতে সাহায্য করে। ঠান্ডা দুধ ভারী হয়ে থাকে তাই অনেকেই তা হজম করতে পারে না।

গত পাঁচ বছরে দুধ উৎপাদনের ক্ষমতা বেড়েছে ৩০ হাজার লাখ মেট্রিক টন থেকে ৯৪ লাখ মেট্রিক টন। দুধের চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে দুধ বাজারজাতকরনের সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সমন্বিত বিপননব্যবস্থা নেই। এখনো আমরা পর্যাপ্ত পরিমানে মানসম্পন্ন দুধ পাচ্ছিনা, দুধে ব্যাকটেরিয়ার পরিমান বেশি। আন্তজার্তিক নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মিলি দুধে সর্বোচ্চ ২ লাখ ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি মিলি দুধে এই পরিমাণ ২০ লাখের বেশি। তাই উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সতর্ক হতে হবে।

নতুন চাকরি ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। দুগ্ধশিল্প খাত এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুগ্ধশিল্পে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। একসময় খাদ্যেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলাম না। সরকার ও অন্যান্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে। দুধ একটি আদর্শ খাবার। যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য এটি প্রয়োজন। একজন মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য খাদ্যাভ্যাসে দুধ থাকা জরুরি। দুধ বিভিন্ন রকম ভিটামিনের অভাব পূরণ করে থাকে। মেধাসম্পন্ন একটি জাতি গঠনে এর ভূমিকা রয়েছে।

গত ১০ বছরে দেশে তরল দুধের উৎপাদন চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে দুধের বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ৯৯ লাখ মেট্রিক টন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে।

লেখকঃ আফসানা মিমি লাবনী,
শিক্ষার্থী, প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

ঢাকা, ১ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।