তারুণ্যের চোখে বঙ্গবন্ধু ও শোক দিবস


Published: 2021-08-15 17:28:19 BdST, Updated: 2021-10-22 03:51:31 BdST

১৯৭১ এ বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ নেতৃত্বগুন বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল। দীর্ঘ ৯ মাসের ত্যাগ তিতিক্ষার ফলে বাঙালি জাতি স্বাধীনভাবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছিল। কিন্তু সেই বাঙালিদেরই কিছু বিপথগামী সৈনিক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে ইতিহাসের সবেচেয়ে নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

বঙ্গবন্ধু ও শোক দিবস নিয়ে তরুণদের ভাবনা, বঙ্গবন্ধু যেমন তারুণ্যের বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, সেরকমটা বাংলাদেশ এই প্রজন্মের তরুণরা পেয়েছে কিনা এ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমি গোপালগঞ্জে তারই নামে নামাঙ্কিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন আমাদের ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম এর প্রতিনিধি 'আর এস মাহমুদ হাসান'।

"হৃদয়ে আজও জীবিত বঙ্গবন্ধু"

রিনা মারীয়া হাঁসদা, ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ: ১৫ই আগস্ট, ১৯৭৫ বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কময় একটি দিন। ঘাতকরা এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রাহমান ও পাঁচ পরিবারের সদস্যদের নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করে। শিশু রাসেলকেও বাচঁতে দেয়নি ঘাতকের বুলেট। বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই, তবে তাঁর মহান জীবন আদর্শ আমাদের অনুপ্রেরনা, উৎসাহ এবং উজ্জীবিত শক্তি।

রিনা মারীয়া হাঁসদা

 

তিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ভুলে; একটি ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন এবং বাস্তবায়ন করেছেন। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর অসীম সাহসিকতা, অসাধারণ নেতৃত্বের গুণাবলি, প্রজ্ঞা আর দূরদর্শীতায় দীক্ষিত। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু মিশে আছেন, থাকবেন। প্রজন্মের পর প্রজম্মের কাছে বঙ্গবন্ধু মহান নেতা হয়ে থাকবেন। তরুণদের মূলমন্ত্র হোক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন।

"বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণই হবে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের শ্রেষ্ঠ উপায়"

জয়নাল আবেদীন জিহান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ: স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বঙ্গবন্ধু নিজেকে অাত্ননিয়োগ করেছিলেন দেশ পুনর্গঠনের কাজে। বঙ্গবন্ধু যখন একটি দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি নিয়ে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। স্বাধীনতাবিরোধীরা বুঝতে পেরেছিল যে, বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের মতো দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়নেও সফল হবেন। মূলত ১৫ অাগস্ট ছিলো বাঙালি জাতিকে মেরুদণ্ডহীন করে দেওয়ার একটি প্রয়াস।

জয়নাল আবেদীন জিহান

 

বঙ্গবন্ধু আজীবন স্বপ্ন দেখেছেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুর সে স্বপ্ন এখনও সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে, শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে, প্রকৃত দেশপ্রেম নিয়ে সবার অাগে এগিয়ে আসতে হবে তরুণদের। কারণ উদ্যোমী তরুণ সমাজই পারে জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করতে। জাতির জনকের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ই হবে জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের শ্রেষ্ঠ উপায়।

"বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে অাসতে হবে"

অাফরিন রহমান, মার্কেটিং বিভাগ: ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে আগস্ট আর শ্রাবণ মিলেমিশে একাকার হয়েছিল জাতির জনকের রক্ত আর আকাশের মর্মছেঁড়া অশ্রুর প্লাবনে। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট সুবেহ সাদিকের সময় যখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে বুলেটের বৃষ্টিতে ঘাতকরা ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল, তখন যে বৃষ্টি ঝরছিল, তা যেন ছিল প্রকৃতিরই অশ্রুপাত। মূলত বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের ফলাফল এই ১৫ই অাগস্ট।

অাফরিন রহমান

 

যুদ্ধবিধ্বস্ত খুড়িয়ে চলা একটি জাতির সামনে থেকে তাদের নেতাকে সরিয়ে ফেলার মানে একটিই হতে পারে সে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া৷ অামরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি তবে বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের পথ ধরেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার আদর্শ ও চেতনাকে হত্যা করতে পারেনি। হত্যা করতে পারেনি তার লালিত স্বপ্নকে। বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার বাস্তবায়নে তরুণদের এগিয়ে অাসতে হবে সর্বাগ্রে।

"একদিন আমরা বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব"

মো. আবু জাফর, স্থাপত্য বিভাগ: আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। বাঙালি জাতির শোকের দিন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী, জাতির জনককে সপরিবারে নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে হত্যার ৪৬ বছর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে রাজধানী ঢাকায় সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। এদিন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, বাঙালির মহানায়ককে হত্যা করেছিল ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল। জাতির পিতা মারা যাওয়ার পরে তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ধরেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আর প্রায় দুই যুগ ধরে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। তার এই উন্নয়নের পথে কম বাঁধা অতিক্রম করতে হয়নি। অনেক বাঁধা তিনি অতিক্রম করেছেন। তার উপরে করা হয়েছে কুখ্যাত গ্রেনেড হামলা। কুচক্রী মহল হত্যালীলা চালিয়েছে পুরো দেশজুড়ে।

মো. আবু জাফর

 

তবুও তিনি জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশকে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাছেন। নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে পদ্মাসেতু। ঢাকার যানজট কমাতে হচ্ছে মেট্রো রেল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হচ্ছে কম্পিউটার ল্যাব। শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে বিনা-মূল্যে পুস্তক। বঙ্গবন্ধু এমন এক তারুণ্যময় বাংলাদেশ চেয়েছিলেন। আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা যেটা বাস্তবায়ন করেছেন। তবুও কিছু কুচক্রী মহল আজও বিভিন্ন রটনা রটায়। এখনো হত্যযঙ্গ চলায় মাঝে মাঝে তারা। সরকারের বদনাম করে। তারপরও থেমে থাকেনি অগ্রযাত্রা। এভাবেই একদিন বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব আমরা।

১৫, আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।