আইনপ্রণেতাদের বেআইনি তৎপরতা ও শিষ্টাচার শিক্ষা


Published: 2021-02-01 18:11:45 BdST, Updated: 2021-05-11 19:54:17 BdST

 

প্রভাষ আমিন:

একাদশ জাতীয় সংসদের আইনগত বৈধতা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে শুরুতে বিরোধী দলের একটি অংশ যোগ না দেয়ায় কিছুটা সমস্যা ছিল। বিএনপির সংসদ সদস্যরা যোগ দেয়ার পর সংসদ পূর্ণতা পেয়েছে, বিএনপির কাছ থেকে একধরনের বৈধতাও পেয়েছে। কিন্তু সবকিছুর পরও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনটি মানসম্পন্ন ছিল না। বাংলাদেশের খারাপ নির্বাচনের তালিকা করলে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আগের রাতেই ভোট হয়ে গিয়েছিল বলে অনেকে প্রবলভাবে অভিযোগ করেন। অনেকে একে ‘মিডনাইট নির্বাচন’ বলেন।

মানতেই হবে আয়োজনটা অভিনব ছিল। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। সরকারের জোটসঙ্গী রাশেদ খান মেননও এ নির্বাচনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কদিন আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা প্রশাসনের লোকদের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘সরকার তাদের (প্রশাসন) কাছে ফল চেয়েছিল। তারা গাছশুদ্ধ তুলে এনেছে। ‘ধরতে বললে বেঁধে আনা’র এ সমস্যা আমাদের পুরোনো। একাদশ সংসদের নৈতিক বৈধতার সঙ্কট যতই থাকুক, আমি ভেবেছিলাম সংসদ সদস্যরা নিজেদের উচ্চমান দিয়ে তা ভুলিয়ে দেবেন। কিন্তু কাঁঠাল গাছে কখনো আম হয় না।

একটা বিষয় বুঝলাম না ইতিহাস-ঐতিহ্য, পরিবেশের ব্যাপারে এমপিরা এমন বেপরোয়া কেন। যশোরের এমপি ইটভাটার মালিকের পক্ষ নিচ্ছেন, কুমিল্লার এমপি অসাধু ঠিকাদারদের পক্ষ নিচ্ছেন। পাহাড় ধ্বংস করতে চাইছেন, ঐতিহ্যবাহী টাউন হল ভাঙতে চাইছেন। কেন? তাদের স্বার্থটা কোথায়?

একাদশ জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ ইসলাম পাপুল এখন কুয়েতের কারাগারে দণ্ডভোগ করছেন। ঘুষ দেওয়া, মানবপাচার এবং অর্থপাচারের অভিযোগে তিনটি মামলায় কুয়েতের আদালতে তার বিচার হচ্ছে। আপাতত ঘুষ দেয়ার মামলায় চার বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। দুই মামলা এখনো বাকি আছে। একাদশ জাতীয় সংসদের অনেক কলঙ্ক আছে। তবে সবচেয়ে বড় কলঙ্ক নিশ্চয়ই শহীদ ইসলাম পাপুল। জীবনে কোনো দিন কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে কোনোরকম সম্পৃক্ততা ছাড়াই স্রেফ টাকা দিয়ে এমপি পদটি কিনে নিয়েছিলেন পাপুল। তিনি প্রথমে জাতীয় পার্টিকে ম্যানেজ করেছেন, পরে আওয়ামী লীগকে ম্যানেজ করেছেন। নিজে এমপি হওয়ার পর স্ত্রীকেও এমপি পদ কিনে দিয়েছেন। পাপুল প্রমাণ করেছেন, এমপি হতে হলে রাজনীতি করার দরকার নেই, পদ-পদবি, ত্যাগ-তিতিক্ষা কিছুই দরকার নেই। খালি টাকা থাকলেই হবে। টাকা থাকলে এমপি পদ কিনতে পাওয়া যায় এবং জোড়ায় জোড়ায়। পাপুল হলো একাদশ জাতীয় সংসদের পচনের চূড়ান্ত উদাহরণ।

পাপুলের ধাক্কা সামাল দেয়ার আগে শুক্রবার ছুটির দিনে শুনলাম কেশবপুর থানার ওসির সাথে যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের কথোপকথন। শাহীন চাকলাদার যশোরের রাজনীতিতে খুব আলোচিত নাম। মাস্তানি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিতে তার নাম এসেছে বারবার। আপনার কাছে দুর্নাম মনে হলেও আওয়ামী লীগের কাছে নিশ্চয়ই এটাই সুনাম, এটাই যোগ্যতা। নইলে যশোর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারকেই কেন কেশবপুরের শূন্য আসনে উপনির্বাচনে মনোনয়ন দিয়ে এমপি বানানো হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে যা যা করতে পারেননি, এখন এমপি হিসেবে সেই অপূর্ণ আকাঙক্ষা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন।

শাহীন চাকলাদার এখন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। এই কমিটির সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব পরিবেশ রক্ষা করা। কিন্তু স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার ক্ষমতা ব্যবহার করছেন তিনি পরিবেশ ধ্বংস করার কাজে। কেশবপুরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নেটওয়ার্ক মেম্বার। কেশবপুরে ইটভাটার বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্ট থেকে আদেশ নিয়ে গিয়েছিলেন। হাইকোর্ট ইটভাটা বন্ধ করতে আদেশ দিয়েছিলেন। এলাকার পরিবেশ রক্ষায় একজন আইনজীবীর এ উদ্যোগে স্থানীয় সংসদ সদস্য, যিনি আবার পরিবেশ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, তার খুশি হওয়ার কথা।

উল্টো তিনি ক্ষেপেছেন। ইটভাটার পক্ষ নিয়ে তিনি থানার ওসিকে ফোন করে সেই আইনজীবীকে মামলায় ফাঁসানোর পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু পরামর্শ নয়, উপায়ও বাতলে দিয়েছেন। তিনি কেশবপুর থানার ওসিকে বলছেন, ‘আপনি এখন রাত্তিরে থানায় বোম মারেন একটা। মারায়ে ওর নামে মামলা করতে হইবে। পারবেন? আপনি থাকলে এগুলো করতে অইবে। না অইলে কোন জায়গায় করবেন? আমি যা বলছি, লাস্ট কথা ইডাই। যদি পারেন ওই এলাকা ঠান্ডা রাখতি। আমি বন ও পরিবেশবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য। ওখানে কারও বাপের ক্ষমতা নেই। বারবার যেয়ে কেন করে, আপনি কী করেন?’

একজন আইনপ্রণেতা থানার ওসিকে থানায় বোমা মেরে একজন আইনজীবীকে ফাঁসানোর পরামর্শ দিচ্ছেন, এটা ভাবা যায়! থানায় বোমা মারাটা একটু বাড়াবাড়ি ভেবে শাহীন চাকলাদার আরেকটি পরামর্শ দিয়েছেন, ‘তালিপরে যে কোনো ভাটায় যেয়ে, দরকার হলি পুলিশের লোক দিয়ে সিভিলে বোম ফাটায় দিয়ে চলে আসুক। বলতে হবি যে হামলা করেছে ডাকাতি করার জন্য। এটা ছিল অমুক। একটা বানাই দিলে অয়া গেল।’ একজন এমপি এভাবে পুলিশের সাথে কথা বলতে পারেন, এটাই অবিশ্বাস্য।

শুধু আইনজীবীকে মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতারের পরামর্শ দিয়েই থামেননি তিনি। ওসি হাইকোর্টের আদেশের কথা বলতেই আরও ক্ষিপ্ত এমপি মহোদয়, ‘কোথাকার হাইকোর্ট-ফাইকোর্ট। কোর্ট-ফোর্ট যা বলুক, বলুইগ্যা।’ বেলার ওপরও তার অনেক রাগ, ‘বেলা-ফেলা আমি দেখবোনে, আমি তো স্থায়ী কমিটির সদস্য’। তার কথা শুনে মনে হচ্ছে, স্থায়ী কমিটির সদস্য হলে আর আইন মানার দরকার নেই, যা ইচ্ছা তাই করা যায়। হাইকোর্টের আদেশের পরও শাহীন চাকলাদারের স্পষ্ট কথা, ’আমি আমার এলাকায় কোনো ব্রিকস বন্ধ করব না। যে যেই দিগ্যা। আমি করব না।’

একজন এমপি আইন ও সংবিধান রক্ষার শপথ নেন। তিনি যদি ওসিকে এভাবে নিরপরাধ লোককে ফাঁসানোর পরামর্শ দেন, হাইকোর্টকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন; তাহলে দেশ চলবে কীভাবে? শাহীন চাকলাদার অবশ্য দাবি করেছেন, কথোপকথনটি তার নয়, বানানো। কিন্তু যশোরের লোকেরা বলছেন, এটা শাহীন চাকলাদারেরই কণ্ঠ। আর এই স্টাইলেই তিনি যশোর শাসন করছেন। একটি কথোপকথন ফাঁস হয়েছে, কিন্তু ইথারে এমন আরো অনেক অডিও ভেসে বেরাচ্ছে।

শাহীন চাকলাদারের কথোপকথন শুনতে শুনতে আমার মনে পড়ে যায় আরেক এমপির কথা। নানা কারণে গত বছরের সবচেয়ে আলোচিত এমপি ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা টাউন হল ভাঙার ব্যাপারে অতি উৎসাহ দেশজুড়ে তাকে আলোচিত করেছে। বছরের শেষ দিকে তিনি স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছেন পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক শওকত আরা কলিকে টেলিফোনে হুমকি দিয়ে। সেই নারী কর্মকর্তার অপরাধ ছিল তিনি লালমাই পাহাড় কাটার দায়ে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছিলেন।

বাহাউদ্দিন বাহার পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন, কেন তাকে না জানিয়ে রিপোর্ট দেয়া হলো। পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তা পাহাড় কাটার অপরাধে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করতে গেলে এমপির সাথে কথা বলতে হবে, এটা কোথায় লেখা আছে জানি না। ক্ষিপ্ত বাহাউদ্দিন বাহার আরও বলেন, ‘রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে নিয়ে দেননি কেন? রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের বিরুদ্ধে লেখেন নাই কেন? আমাদের বিরুদ্ধে লিখলেন কেন?’ পাহাড় কাটার দায়ে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বললে সেটা কীভাবে এমপির বিরুদ্ধে যায় সেটাও পরিষ্কার নয়।

বাহাউদ্দিন বাহার বরং শওকত আরা কলিকে ধন্যবাদ দিতে পারতেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি লালমাই পাহাড় রক্ষায় বদ্ধপরিকর। অথচ এই কাজটা করার কথা ছিল বাহাউদ্দিন বাহারের। তিনি নিজে তো করেনইনি, উল্টো যিনি করছেন, তাকে হুমকি দিচ্ছেন, ‘কুমিল্লায় থাইকা ক্ষমতার অপব্যবহার করার কোনো সুযোগ নাই, আমার ভালোটা দেখছেন আপনে, খারাপটা তো দেখেন নাই।‘ বাহাউদ্দিন বাহার আরো বলেছেন, ‘আপনার রিপোর্টের ভিত্তিতে আপনি বলেছেন, আমরা এক লাখ ১৪ হাজার ৩৩০ ঘনফুট মাটি কেটে ফেলছি, এই মেজারমেন্টটা আপনি কীভাবে করলেন আমাকে ছাড়া? আমি তো একটা পক্ষ, আপনি একটা পক্ষ।’

একটা বিষয় কিছুতেই আমার মাথায় ঢুকছে না, পাহাড় কাটা নিয়ে পরিবেশ অধিদফতর ব্যবস্থা নিতে চাইছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে; সেখানে সংসদ সদস্য কীভাবে পক্ষ হন? বাহাউদ্দিন বাহার যেভাবে নিজেকে পক্ষভুক্ত করেছেন এবং বলছেন ‘আমাদের’ বিরুদ্ধে; তার মানে পাহাড় কাটার দায়ে অভিযুক্ত ঠিকাদাররা তার নিজের লোক। যে রাস্তা প্রশস্ত করতে পাহাড় কাটা হয়েছে সেটি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর স্কুলপাড়া এলাকায় পিপুলিয়া-লোলবাড়িয়া-রতনপুর-চন্ডীপুরা-মগবাড়ি সড়ক। সেটি করতে গিয়েই পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়া যাচ্ছেতাই ভাবে পাহাড় কেটেছে।

বাহাউদ্দিন বাহার দাবি করেছেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, আলোচিত রাস্তাটি বাহাউদ্দিন বাহারের নির্বাচনী এলাকার নয়, এটি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের এলাকা। অর্থমন্ত্রী নিশ্চয়ই তার এলাকার ভালো-মন্দের দেখভালের দায়িত্ব বাহাউদ্দিন বাহারকে দেননি। এই সংসদ সদস্য পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক শওকত আরা কলিকে ‘ননসেন্স’, ‘বেয়াদব’ বলে গালি দিয়ে অফিসে গিয়ে তালা মেরে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। বাহাউদ্দিন বাহার সেই নারীকে তার সাথে দেখা করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘১০ মিনিটের মধ্যে আসেন, ১০ মিনিট সময় দিলাম, ১০ মিনিট।’ অফিসে যাওয়ার পর তিনি সেই কর্মকর্তাকে কুমিল্লা ছাড়ার নির্দেশ দেন।

একটা বিষয় বুঝলাম না ইতিহাস-ঐতিহ্য, পরিবেশের ব্যাপারে এমপিরা এমন বেপরোয়া কেন। যশোরের এমপি ইটভাটার মালিকের পক্ষ নিচ্ছেন, কুমিল্লার এমপি অসাধু ঠিকাদারদের পক্ষ নিচ্ছেন। পাহাড় ধ্বংস করতে চাইছেন, ঐতিহ্যবাহী টাউন হল ভাঙতে চাইছেন। কেন? তাদের স্বার্থটা কোথায়?

পাপুল প্রমাণ করেছেন, টাকা থাকলেই এমপি হওয়া যায়। কিন্তু শাহীন চাকলাদার বা বাহাউদ্দিন বাহার তো তেমন নন। তারা তো ক্যারিয়ার পলিটিশিয়ান। ভালো-মন্দ যাই হোক, তারা তো দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করেই আজকের অবস্থানে এসেছেন। শাহীন চাকলাদার না হয় এবার প্রথম এমপি হয়েছেন, বাহাউদ্দিন বাহার তো তিনবারের এমপি। একজন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব, সীমা, আইন, সংবিধানের ব্যাপারে তো তাদের ভালো জানা থাকার কথা। কাউকে ভুয়া মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেটা তো শাহীন চাকলাদারের অজানা থাকার কথা নয়।

স্থানীয় এমপিদের কাজ হলো, এলাকার পরিবেশ রক্ষা করা, পাহাড় রক্ষা করা, ঐতিহ্য রক্ষা করা। কিন্তু তারা করছেন উল্টো কাজ। একজন সরকারি কর্মকর্তার সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়, একজন নারীর সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়; সেটুকু শিষ্টাচার জানা না থাকলে একজন এমপি কীভাবে তার দায়িত্ব পালন করবেন? চাইলেই যে সরকারি কর্মকর্তাকে ধমক দেয়া যায় না, সরকারি অফিস বন্ধ করে দেয়া যায় না, একজন নারীকে মুখের ওপর বেয়াদব বলা যায় না; এটা এমপিদের কে বোঝাবে? এখন তো মনে হচ্ছে, শুধু মনোনয়ন দিয়ে এমপি বানালেই হবে না।

নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের দায়িত্ব, আইন, সংবিধান, শিষ্টাচার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তারা জনপ্রতিনিধি, জনগণের হয়ে কাজ করবেন। তারা যদি মনে করেন, নির্বাচনী এলাকাটি পাঁচ বছরের জন্য তাকে লিজ দেয়া হয়েছে, সেটা তো ঠিক নয়। পাপুল কুয়েতে ফেঁসে গেছেন বলে তার কারাদণ্ড হয়েছে। বাংলাদেশে হলে নিশ্চয়ই যেভাবে এমপি পদ কিনেছেন, হয়তো সেভাবে আইনও কিনে নিতেন।
বগুড়ার তুফান সরকার ৪০ লাখ টাকা দিয়ে ধর্ষণ মামলার বাদীকে কিনে নিয়েছেন। আমি নিশ্চিত পুলিশকে থানায় বোমা মেরে নিরপরাধ আইনজীবীকে ফাঁসানোর পরামর্শ দেয়ার পরও শাহীন চাকলাদারের কিছুই হবে না। সরকারি অফিসে তালা লাগানোর হুমকি দেয়ার পরও বাহাউদ্দিন বাহারের কিছুই হয়নি, আমি নিশ্চিত হবেও না। তারা আইন বানান, মনে হচ্ছে আইন তাদের জন্য নয়; মাননীয় সংসদ সদস্যরা নিশ্চয়ই আইনের ঊর্ধ্বে অথবা আইন বানানোর অধিকার যার আছে, আইন ভাঙার অধিকারও তারই।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএননিউজ।

ঢাকা, ০১ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।