স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্বেগঢাকায় নতুন আতঙ্ক: করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত


Published: 2021-05-08 23:39:58 BdST, Updated: 2021-06-18 17:06:53 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ঢাকায় আতঙ্ক চলছে। নগরীতে মানুষের মাঝে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাওয়ায় এই আতঙ্ক এখন মহল্লায় মহল্লায়। মানুষের মাঝে যেন এক অজানা শঙ্কা কাজ করছে। তবে আবার অনেককেই দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এদিক-সেদিক চলাচল করছে। ব্যবহার করছেনা মাস্ক। রাজধানীর বনানীতে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষক দল।

বনানীতে বসবাস করা ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটাতে (জিআইএআইডি)এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। অপরদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশে ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ব্রিফিং করেছেন সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি ব্রিফিংয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ছয়টি ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। দুটি সরাসরি ডাবল মিউটেন্ট, বাকি চারটি কাছাকাছি। তবে হাসপাতাল থেকে পালানো আটজনের মধ্য এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়নি। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম গণমাধ্যমকে এ খবর নিশ্চিত করে জানান, এ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীরা ভারত থেকে ফিরেছেন। তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন।

বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন পাওয়া গেছে। গেলো মাসের শেষের দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার।

সর্বশেষ জারি করা প্রজ্ঞাপনে ঈদ উপলক্ষে একাধিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা না মানলে সংক্রমণ আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি হলে আবারও কঠোর বিধিনিষেধের পথেই হাঁটবে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্বেগ:
বাংলাদেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শনিবার (৮ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে এক জরুরি ব্রিফিং করে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের উদ্বেগের কথা জানায়।

ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সবাইকে এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইইডিসিআর আলাদাভাবে পরীক্ষা করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের একটি নমুনা পরীক্ষায় ভারতীয় এ স্ট্রেইন ধরা পড়েছে। যা জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটাতে (জিএসআইডি) প্রকাশিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

এ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীরা ভারত থেকে ফিরেছেন। তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তারা যশোরে অবস্থান করছেন। এ প্রসঙ্গে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে একটি নমুনা পাওয়া গেছে। সেটি আমি দেখেছি। ধরা পড়েছে বলেই এ ধরনের তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগের।

ঢাকা, ৮ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।