করোনা টিকা: নিবন্ধন নিয়ে বিপাকে ইবি শিক্ষার্থীরা


Published: 2021-03-06 19:42:21 BdST, Updated: 2021-05-16 14:50:11 BdST

আজাহার ইসলাম, ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনার ভ্যাক্সিন নিশ্চিত করতে ২ মার্চ মন্ত্রণালয়ের ন্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থানকারী আবাসিক শিক্ষার্থী এবং হল সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের তালিকা প্রদান করতে বলা হয়েছে। একইসাথে এ তালিকা দশ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জামিনুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ মে হল ও ২৪ মে থেকে সশরীরে বিশ^বিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। তবে হলে উঠার আগে শিক্ষার্থীদের করোনা ভাইরাসের টিকা নিতে হবে। পাশাপাশি এসময়ের মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।

তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করতে বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ, রোল ও কক্ষ নং উল্লেখপূর্বক জাতীয় পরিচয়পত্র ই-মেইলে অথবা সরাসরি জমা দিতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩ মার্চ হলে হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে হল কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৮ মার্চের মধ্যে যাবতীয় তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে সাদ্দাম হোসেন হল, খালেদা জিয়া হলে ই-মেইলের পাশাপািশ পরিচয়পত্র সশরীরে জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ইমেইল ছাড়াই সরাসরি অফিসে গিয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক আবাসিক শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় আবেদন করতে পারছে না বলে জানা গেছে। এদিকে যেসব হলে সশরীরে জমা দিতে বলা হয়েছে সেসব হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা আবেদন জমা দিতে এসে আবাসন নিয়ে বিপাকে পড়ছে। এছাড়া ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় এত স্বল্প সময়ে আবেদন জমা দিতে পারছে না দূর-দূরান্তে থাকা শিক্ষার্থীরা। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর ভ্যাক্সিন নেওয়া থেকে অনাগ্রহ দেখা গেছে।

দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফারহানা ঈশিতা ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘আমার এনআইডি কার্ড নেই। টিকা নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আবেদন করতে পারছি না। এত দ্রুত এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করাও সম্ভব নয়।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শতভাগ আবাসিক না হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকা ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহরে অবস্থান করেন। তারা টিকা নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সশরীরে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষার্থীরা একই শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করবে।

এ বিষয়ে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শৈবাল নন্দী হিমু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘আমরা অনাবাসিক হওয়ায় টিকা নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ক্লাস শুরু হলে এক রুমেই ক্লাস করবো। এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তাহলে কেন শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মু. আতাউর রহমান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। যেসব তথ্য পাচ্ছি পাঠিয়ে দিচ্ছি।’

প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘সরকারিভাবে যে নির্দেশনা এসেছে আমরা সেভাবেই কাজ করছি। আগামী বুধবারের (১০ মার্চ) মধ্যে তালিকা পাঠানো হবে। যেসব হলে সরাসরি অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীরা চাইলে কারো মাধ্যমে পাঠাতে পারবে। যাদের জাতীয় পরিচয় পত্র নেই তারা আপাতত আবেদন করতে পারছে না। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হয়তো বিকল্প ব্যবস্থা রাখবে। তবে নিবন্ধনকারীর বাইরেও আমরা আবাসিক শিক্ষার্থীদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে আলাদাভাবে পাঠিয়েছি।’

ঢাকা, ০৬ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।