যেকোন মূল্যে শিক্ষাজীবন শেষ করতে চায় শিক্ষার্থীরাপরীক্ষা নিয়ে সংশয়, দীর্ঘ সেশনজটের শঙ্কায় হতাশ ইবি শিক্ষার্থীরা


Published: 2021-07-27 16:34:05 BdST, Updated: 2021-09-27 04:46:39 BdST

আজাহার ইসলাম, ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের রিয়াদুস সালেহীন। ২০১৯ সালে শিক্ষাজীবন শেষ করে পরিবারের হাল ধরার কথা। অথচ অনার্স চূড়ান্ত বর্ষেই আটকে রয়েছেন দেড় বছরের বেশি সময় ধরে। যেকোন মূল্যে শিক্ষাজীবন শেষ করতে চান তিনি ও তার সহপাঠীরা। রিয়াদের মত হতাশায় ভুগছেন একই বিভাগের আবিদ, সজল, শিলা, তিন্নিসহ বিভিন্ন বিভাগের হাজারো শিক্ষার্থী।

করোনার কারণে ১৬ মাসের বেশি বন্ধ ইবি। অনলাইনে ক্লাস চললেও আশানুরূপ ফল মিলছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। স্মার্ট ডিভাইস না থাকা, মন্থর গতির ইন্টারনেট, অসচ্ছলতাসহ নানা কারণে ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও আশাব্যঞ্জক নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এর সাথে সুর মিলিয়েছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহও।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ২৮ মে অনার্স ও মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা সরাসরি অথবা অনলাইনে গ্রহণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয় ইউজিসি। এরই প্রেক্ষিতে ১৯ জুন পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদুল আযহার ছুটির পর হল বন্ধ রেখে অনলাইনে ও সশরীরে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় ইবি কর্তৃপক্ষ। বিভাগগুলোকে স্ব স্ব অ্যাকাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে পরীক্ষার পদ্ধতির ব্যাপারে সিন্ধান্ত নিতে পারবে বলে জানানো হয়। তবে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভাগগুলোকে শর্ত জুড়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।

গতকাল সোমবার (২৬ জুলাই) ঈদুল আযহার ছুটি শেষ হয়েছে। ছুটি শেষ হলেও লকডাউনের কারণে ইবির প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এনিয়ে পরীক্ষার ব্যপারে শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গত ১৬ মাস ধরে তারা জটে আটকে রয়েছেন। সবমিলিয়ে দীর্ঘ সেশনজটের শঙ্কা করছেন তারা।

প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছিল গত বছরের ২৬ জানুয়ারি। এরপর মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়। উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরুর পরপরই বন্ধ হয়ে গেল। অনলাইন কিছু কোর্সের ক্লাস হয়েছে। এখনো কোনো পরীক্ষার স্বাদ পাইনি। আর কতদিন প্রথমবর্ষে থাকতে হবে তাও জানি না।’

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন লালন করেন হুমায়রা আন্জুম অন্তু। তিনি ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসলাইভকে তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম এবছর গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে বাইরে চলে যাবো। আর সেখানে ২ বছর ধরে তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারেই ঝুলছি। স্বপ্ন পূরণের প্রধান অন্তরায় এখন পরীক্ষা।’

গত বছর স্নাতক (সম্মান) শেষ হওয়ার কথা ছিল ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আশিকুর রহমানের। ক্যাম্পাসলাইভকে তিনি বলেন, ‘তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা হয়নি এখনও। সরকার চাইলেই সশরীরে পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দিতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যাচভিত্তিক পরীক্ষা নিলেই হয়ে যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদের ছুটির পর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। এছাড়া কোন কোন ডিপার্টমেন্ট অনলাইনে পরীক্ষা নিতে চায় সেই রিপোর্টগুলো পুরো এখনো আমাদের হাতে আসেনি। অনলাইন পরীক্ষা নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে।’

ঢাকা, ২৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।