ফেরি: যাত্রীদের বিশেষ বিবেচনায় পারাপারের সিদ্ধান্ত


Published: 2021-05-08 14:10:51 BdST, Updated: 2021-06-22 15:49:59 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ঘরমুখী যেসব মানুষ আটকে পরেছেন তাদের বিশেষ বিবেচনায় পারাপারের ব্যবস্থা করা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। দৌলতদিয়া-শিমুলিয়া-পাটুরিয়া ও বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে রাতে ফেরি বন্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানতেন না অনেক যাত্রী। সকালে ঘাটে এসে ফেরি বন্ধের কথা শুনেই তাদের মাথায় হাত। যার ফলে ফেরিঘাটগুলোতে সকাল থেকেই ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে।

এতে ঘাটে অপেক্ষারত যাত্রীদের ভোগান্তিও চরমে। লঙ্ঘিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধিও। হঠাত মধ্য রাতে বন্ধের ঘোষণা কেন আসলো এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেক যাত্রী। শনিবার (৮ মে) সকাল থেকে ঘাট এলাকায় আসতে হতে শুরু করেন যাত্রীরা। এত মানুষের চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে ঘাট কর্তৃপক্ষকে। এর মধ্যেই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের পারাপার করা হবে।

এদিকে সকাল থেকে ঘাট এলাকায় কোনো যানবাহন ঢুকতে দিচ্ছে না পুলিশ। ফলে কয়েক কিলোমিটার হেঁটেই ঘাটে যাচ্ছেন যাত্রীরা। ফেরি বন্ধ থাকার খবর শুনে নিরুপায় হয়ে ঘাটে অপেক্ষা করছেন অনেকেই। নিরুপায় হয়ে অনেকেই ফিরছেন রাজধানীরতে। তবে সকাল ৯টায় শিমুলিয়া ঘাট থেকে ‘কুঞ্জলতা’ নামে একট ফেরি বাংলাবাজার ঘাটে যান। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন সকাল থেকে ফরি বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভোরে পাটুরিয়া ঘাটে এসেছি। এসে দেখি ফেরি বন্ধ। সকাল গড়িয়ে দুপুর ১টা পেরিয়ে গেলেও ফেরির দেখা নেই। ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, দিনে ফেরি চলাচল করবে না। পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে প্রচণ্ড গরমে বসে আছি ফেরি অপেক্ষায়। শুনেছি রাতে চলবে। তাই ফিরে যাওয়ার কোন পথ নেই। কথাগুলো গোপালগঞ্জের রুমা আক্তারের।

মানুষের ঢল

 

তার মতো হাজারো যাত্রী পাটুরিয়া ঘাটে ফেরিতে পার হতে না পেরে বিড়ম্বনা আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছেন, উপরের নির্দেশের কারণে দিনের বেলায় কোন ফেরি চলবে না। রাতে শুধু মাত্র পণ্যবাহী পরিবহন পারপার করা হবে। তবে মানবিক কারণে দুপুরে দুটি ফেরি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও যাত্রী পারাপার করা হয়েছে। শনিবার সকালে পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষ আর মানুষের মেলা।

ভোর রাত থেকে রাজধানী ছেড়ে যে যার গন্তব্যে পৌছাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে। যাত্রীরা জানেন না শুক্রবার মধ্যরাত থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। যার কারণে তারা ছোট গাড়ি প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন পন্থায় ঘাটে এসে বিড়ম্বনার কবলে পড়েছেন। নারী, শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষজন দিনভর অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হন।

দুপুরের দিকে মানুষের চাপ কমাতে এবং অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি ও যাত্রী পারাপার করা হয়েছে। যশোরের যাত্রী আমিন হোসেন বলেন, মধ্য রাতে ফেরি বন্ধের ঘোষণা না জানার কারণে পাটুরিয়া ঘাটে এসে আমরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছি। উল্টো পথেও ফিরতে পারছি না। ঘাট কর্তৃপক্ষ যদি মানবিক দৃষ্টিতে দেখে ঘাটে জড়ো হওয়া মানুষগুলো পারাপার করতো তাহলে হাজারো মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হতো।

বিআইডাব্লিইটিসি আরিচা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, রাতে উপর থেকে নির্দেশনা দেয়ার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দিনের বেলায় ফেরি বন্ধ থাকবে। রাতে জরুরি পণ্যবাহী পরিবহন সীমিত ফেরি দিয়ে পারাপার করা হবে। তবে সকাল থেকেই মানুষজন ও ছোট গাড়ি পাটুরিয়া ঘাটে ঢুকে পড়ায় যাত্রীরা এক ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

তবে দুপুরে মানবিক কারণে এবং কয়েকটি যানবাহনবাহী ও রোগীবাহী কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সের সাথে দুটি ফেরি দিয়ে যাত্রী গুলো পারপার করা হয়েছে। এরপর আর কোন ফেরি চলবে না বলে তিনি জানান। এদিকে কোন ধরনের কোন স্বাস্থ্যবিধি কিংবা শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকছে না ফেরিতে কিংবা ঘাট এলাকায়।

ঢাকা, ৮ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।