বাড়ি যেতেই হবে, ঘাটে আনসার মোতায়েন, মানুষের ঢল


Published: 2021-05-11 03:29:58 BdST, Updated: 2021-06-20 21:28:42 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: করোনার থাবা থেমে নেই। অবিরাম গতিতে চলছে করোনার হামলা। সব কিছুই যেন তছনছ, এলোমেলা। দেশে চলছে লকডাউন। বন্ধ রয়েছে আন্ত;জেলা বাস সার্ভিস। নাড়ীর টানে ছুটছে মানুষ যে যার গন্তব্যে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তাররোধে দূরপাল্লার বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যেকোনো উপায়ে ঘরে ফেরছে মানুষ। কিন্ত এই যাত্রাটা অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
তবে বাস টার্মিনাল থেকেই ছাড়তে দেয়া হচ্ছে না কোনও দূরপাল্লার বাস।

সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। সোমবার (১০ মে) ইফতারের পর থেকে রাজধানীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে এবং তার আশপাশে থাকা কাউন্টারগুলোতে মানুষ ভিড় জমিয়েছে কিন্তু বন্ধ রয়েছে কাউন্টার। বাড়ির পথে যাত্রার জন্য একটি যানবাহনের আশায় দাঁড়িয়ে থাকছেন দীর্ঘ সময়। কাউন্টারগুলো বন্ধ থাকলেও কাউন্টারের দায়িত্বরতরা ঘুরছেন আশপাশে। সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, কাউন্টারগুলো যেগুলোও খোলা আছে সেগুলো পুলিশের উপস্থিতিতে পর্দা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।

অপেক্ষা শুধু পুলিশের অনুপস্থিতির। পুলিশ চলে গেলে যাত্রীদের আকর্ষণ করার চেষ্টা থাকলেও পুলিশ আসলে মুহূর্তে পরিবর্তন হয় বাস শ্রমিকদের আচরণ। পুলিশ আসলে কাউন্টারে আশেপাশেও দাঁড়াতে পারছে না তারা। তবে বাস চলাচলে কঠোরতার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছেন প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের চালকরা। রাসেল নামে নোয়াখালীর এক যাত্রী জানান, ঢাকায় কাজের সুবাদে থাকা হচ্ছে। শুনেছি লুকিয়ে হলেও কিছু গাড়ি চলে। কিন্তু এখানে এসে দেখছি কোনো গাড়িই নেই।

মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার থাকলেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া ও ঝুঁকির কথা ভেবে যাচ্ছি না। এদিকে বাস না পেয়ে অনেকে বাড়তি টাকা আর ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করছেন মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে। তবে সেসব গাড়ি টার্মিনাল বা আশেপাশে দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না। দুই নম্বরী চলছে টার্মিনালের আনাছে কানাছে।

ফেরিঘাটে আনসার মোতায়েন:

মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে মানুষ ও গাড়ির চাপ নিয়ন্ত্রণে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবার আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার (১০ মে) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-পরিচালক (যোগাযোগ) মেহেনাজ তাবাসসুম রেবিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মেহেনাজ তাবাসসুম রেবিন জানান, বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রোববার (৯ মে) রাতেই শিমুলিয়া ঘাটে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।

ঈদ কেন্দ্রিক মানুষের চাপ না কমা পর্যন্ত আনসার সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত ঠেকাতে গত শনিবার (৮ মে) সন্ধ্যার পর থেকে দেশের সব ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সবই চলে তবে আড়ালে আবঢালে।

রাতের ফেরিতেও মানুষের ঢল:

যেতেই হবে বাড়ি। কোন বাঁধাই দমাতে পারছেনা ঘরমুখি মানুষদের। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি আর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কোনটাই তোয়াক্কা করছে না ঘরমুখো মানুষ। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে আজও ঢল নেমেছে মানুষের। জরুরি সেবার ফেরি আসলেই গাদাগাদি করে উঠছেন যাত্রীরা। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য শিমুলিয়াঘাটে এক ধরনের যুদ্ধ চলছে। তাইতো করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি উপেক্ষা করেই ঘাটে নেমেছে মানুষের ঢল।

রাতেও মানুষের ঢল

এদিকে জনস্রোত ঠেকাতে শিমুলিয়া ঘাটে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি সদস্যরা। বসানো হয়ছে চেকপোস্ট। তবুও থেমে নেই মানুষের ঢল। দিন পেরিয়ে রাতেও, ফেরির অপেক্ষায়, হাজারো মানুষ। জরুরি সেবার যানবাহন পারাপারের ফেরিতে চোখের পলকেই উঠছে তারা। সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করার কারণ হিসেবে নানা যুক্তি দেখাচ্ছেন ঘরমুখো এসব মানুষ। রোববার রাত ৮টা থেকে পর পর ৩টি ফেরি ছেড়ে যায় শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে।

দিনভর ঘাটে অপেক্ষারত যাত্রীরা এবং বিকালে ঘাটে আসা যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন তাতে। শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরি বাংলাবাজার ঘাটে এসে আনলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে ফেরিতে উঠে পড়েন। এ সময় জরুরি সেবার গাড়ি, রোগীর গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ফেরিতে তুলতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। গণপরিবহন, লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে মানুষের ঢল নামে শিমুলিয়া ও বাংলাবাজার ফেরিঘাটে। পরে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল দিনের বেলায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বিআইডব্লিউটিসি।

হঠাৎ করে ফেরি বন্ধ করে দেয়ায় শনিবার সকাল থেকে উভয় ঘাটে অসংখ্য যাত্রীর পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনসহ মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ে। মানবিক কারণে রোববার দুপুরের পরে সীমিত আকারে ২/৩টি ফেরি চলাচল করে। এ সময় যাত্রী চাপ কিছুটা কমে আসে। তখন কিছু পণ্যবাহী ট্রাক, জরুরি রোগীবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স পার করা হয়। কিন্তু বিকালে যাত্রীর চাপ আবার বেড়ে যায়।

সোমবার ঈদের ঘুরমুখো যাত্রীদের মানবিকতার কথা বিবেচনা করে সব রুটে ফেরি চলাচলের অনুমতি দেয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। তবে সেখানে কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। যে যার মতো চলছে। ছুটছে তো ছুটছেই। এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষ লকডাউনের সামান্য শিথিলতার সুযোগ নিয়ে যেভাবে দলবেঁধে স্বাস্থ্যবিধির কোন রকম তোয়াক্কা না করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করছে, তা একেবারে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শামিল।

ঢাকা, ১০ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।