''দেশের সব নাগরিক টিকার আওতায় আসবে''


Published: 2021-05-13 21:18:45 BdST, Updated: 2021-06-18 17:04:24 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নাগরিকদের করোনাভাইরাসের টিকার আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। ভারত রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় টিকা সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কথা জানান তিনি। এ অবস্থায় সরকার বিকল্প সোর্স থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় শুরু হওয়া এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সম্প্রচার করে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাষণ সম্প্রচারিত হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে কার্যকর এবং পরীক্ষিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়েই আমরা গণটিকাকরণ কার্যক্রম শুরু করেছি। আপনারা জেনেছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ টিকা রফতানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা বিকল্প উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে রাশিয়া ও চীনের টিকা উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। উপহার হিসেবে ইতোমধ্যেই চীনের কাছ থেকে আমরা টিকা পেয়েছি। আমরা টিকা পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও অনুরোধ জানিয়েছি।

তিনি বলেন, বিশ্ব টিকাকরণ সংস্থা কোভ্যাক্সের কাছ থেকেও আমরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টিকা পাব। বিভিন্ন উৎস থেকে আমরা এক কোটি টিকা কেনার ব্যবস্থা করছি। খুব শিগগিরই দেশে টিকা আসতে শুরু করবে। এছাড়াও দেশেই যাতে টিকা উৎপাদন করতে পারি সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। নিজেদের টিকা তৈরিতে কয়েক মাস সময় লাগবে। আমরা দেশের সব নাগরিককে টিকার আওতায় নিয়ে আসব, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ব এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। কভিড-১৯ নামক এক মারণব্যাধি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অন্তরার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এ ভাইরাস একদিকে যেমন অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিসাধন করছে মানুষের জীবন-জীবিকার। আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং অর্থনীতির ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এ ভাইরাস। গত বছরের শেষদিকে যখন বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ অনেকটা কমতে শুরু করেছিল, তখন সবার সঙ্গে আমরাও আশান্বিত হয়েছিলাম যে বিশ্ববাসী বুঝি এ মহামারি ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি থেকে দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের সব পরিকল্পনা ও প্রত্যাশাকে নস্যাৎ করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, মানুষের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়ায়। কাজেই জনসমাগম এড়াতে না পারলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। এ কারণে কষ্ট হবে জেনেও আমরা বাধ্য হয়েছি মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করতে। দোকানপাট, শপিংমলসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখতে হচ্ছে। একই কারণে গণপরিবহন চলাচলের ওপরও বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় এবং আমাদের সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে আমরা বিগত এক বছর করোনা মহামারিজনিত আর্থিক অভিঘাত খুব ভালোভাবেই সামাল দিতে পেরেছি। আমরা যখন প্রথম ঢেউ সামলে অর্থনীতিকে আগের অবস্থার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসার পর্যায়ে, তখনই মার্চে দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হেনেছে। এতে আমাদের প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধিতে হয়তো খানিকটা ভাটা পড়তে পারে।

ঢাকা, ১৩ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।