40243

ইবির হলে চুরি, তদন্ত কমিটিতে অনিয়ম!

ইবির হলে চুরি, তদন্ত কমিটিতে অনিয়ম!

2021-03-03 19:23:54

ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সাদ্দাম হোসেন হলে চুরির ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে হল প্রভোস্ট। বুধবার হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান ও আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে এক জরুরি সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।

তবে তদন্ত কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে চুরির বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া তদন্ত কমিটিতে এক সহকারী প্রক্টরকে সদস্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘গতকাল মঙ্গলবার সাদ্দাম হোসেন হলের ২১৭ নং কক্ষে তালা ভাঙা ও বাথরুমের শাওয়ার ভাঙা পাওয়া যায়।’

এ বিষয়ে সাদ্দাম হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত কমিটিকে চুরির বিষয়েই তদন্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি লেখার সময় একটু ভুল হয়েছিল। আমি সেটা দেখেছি। পরে সংশোধন করে নিতে বলেছি।’

সহকারী প্রক্টরকে তদন্ত কমিটিতে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দিকগুলো দেখে। তাই প্রক্টরের সাথে কথা বলে তদন্ত স্বার্থে সহকারী প্রক্টরকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।’

এ বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘প্রভোস্ট জানতে চেয়েছিল কোন কোন সহকারী প্রক্টর ক্যাম্পাসে থাকছে। আমি তাদের নাম বলেছি। অনুমতির বিষয়ে প্রভোস্টের সাথে কথা হয়নি। তবে সহকারী প্রক্টরকে তদন্ত কমিটিতে রাখা যাবে কিনা এমন কোনো নিয়ম নেই।’

কমিটিতে আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের অ্যাসিস্ট্যাট প্রফেসর আমজাদ হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেকচারার এস এম জহুরুল হক এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগর লেকচারার ও সহকারী প্রক্টর হাফিজুল ইসলাম। আগামী ৭ দিনের মধ্যে কমিটিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সাদ্দাম হোসেন হলের ২১৭ নং কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিদ নূর কক্ষে প্রবেশ করলে চুরির ঘটনা নজরে আসে। এসময় তিনি তার কক্ষের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখত পান। কক্ষের আরও তিনজনের বই, জামা-কাপড়, জুতা, আলমারি ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র চুরি হয়েছে। তার পাশের কক্ষের তালা ভাঙারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষার্থী হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর ও বিভাগীয় সভাপতি বরাবর অভিযোগ করেন। তবে প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন কোনো অভিযোগ পায়নি বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো ক্যাম্পাসেই আছি। কোনো অভিযোগ হাতে পাইনি। অফিস থেকেও কোনো কিছু জানায়নি।’

এছাড়াও সাদ্দাম হোসেন হলের উত্তর ব্লকের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার ওয়াশরুমের শাওয়ারের রডসহ অন্যান্য প্রয়াজনীয় জিনিসপত্রও চুরি হয়েছে। এর আগে বঙ্গবন্ধু হল পকেট গেটের সামনে ছিনতাই, শেখ রাসেল হলের সাবমার্সিবল পাম্প চুরি, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের চার কক্ষের আসবাবপত্র চুরি, রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে দুই ভ্যান টাইলস ও আট কার্টন ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের দায়িত্বের অবহেলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযােগ উঠেছে।

ঢাকা, ০৩ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

প্রধান সম্পাদক: আজহার মাহমুদ
যোগাযোগ: হাসেম ম্যানসন, লেভেল-১; ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, তেজগাঁ, ঢাকা-১২১৫
মোবাইল: ০১৬৮২-৫৬১০২৮; ০১৬১১-০২৯৯৩৩
ইমেইল:[email protected]