40405

''আমরা নারী আমরাও পারি''

''আমরা নারী আমরাও পারি''

2021-03-08 19:06:18

নারী! শব্দটি শুনলেই যেন; অবজ্ঞা, অবহেলা আর তুচ্ছতাচ্ছিল্যের কথা ভেসে আসে। সমাজে ভিন্নতার চোখে দেখা এক বিশাল অংশ নারী। অথচ এই নারীরাই এখন বিশ্বে দ্রততার সাথে এগিয়ে। ছেলেদের থেকে কোনো অংশেই এখন তারা পিছিয়ে নেই। তাই প্রতি বছর ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিকভাবে নারী দিবস পালন করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন উৎসব, সম্মান আর শ্রদ্ধার সাথে পালন করা হয় দিবসটি। আর এই নারী দিবস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনার কোনো অন্তি নেই। এবারের নারী দিবস নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কী ভাবছেন? তা তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক রিদুয়ান ইসলাম।

আমরা নারী আমরাও পারি

মারিয়া জান্নাত মিষ্টি, দ্বিতীয় বর্ষ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ: প্রতি বছর একেক দেশে একেক রকম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নারী দিবস উদযাপিত হয়ে থাকে। কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ প্রাধান্য পায় আবার কোথাও নারীর আর্থিক, সামাজিক,রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা বেশি গুরুত্ব পায়। নারী-পুরুষের সমতা সৃষ্টি, বৈষম্য হ্রাস, বাল্যবিবাহ রোধ, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর প্রতি সবধরনের সহিংসতা বন্ধে আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যানার, ফেস্টুন, টকশোর আয়োজন করা হয়।

মারিয়া জান্নাত মিষ্টি

 

সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নারী দিবস পালন করা হলেও বাংলাদেশের নারীসমাজ আজও তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারছে না, স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছে না, প্রতিনিয়ত ধর্ষনের শিকার হয়ে অনেক নারীর সাজানো স্বপ্ন অঙ্কুরে বিনষ্ট হচ্ছে। নারী উন্নয়ণের প্রধান অন্তরায় হলো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। প্রতিটি পুরুষ যদি নারীকে শুধু ভোগের সামগ্রী মনে না করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় তাহলে ঘরের কোণে অনাদরে-অবহেলায় পরে থাকা নারীরাও তাদের মনের গহীনে লালন করা স্বপ্ন পূরণে অগ্রসর হতে পারবে।

নারীদের সম্মানে সবাই হোক সোচ্চার

রিপা মনি, প্রথম বর্ষ, বাংলা বিভাগ: নারীর প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ও নারীর অধিকার রক্ষায় প্রতিবছর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বব্যাপী ৮ই মার্চ নারী দিবস পালন করা হয়।গত দশক গুলোর তুলনায় নারীর অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হলেও খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে সমাজে নারীরা আজও নানা ভাবে অবহেলিত। নারীরা শিক্ষা ও আত্মউন্নয়নে এগিয়ে যাওয়ায় নিম্নবিত্ত অনেক নারীর নির্যাতন, অবহেলা সবার অগোচরে।

রিপা মনি

 

শহর অঞ্চলের সাথে সাথে গ্রামাঞ্চলেও ধর্ষণের ঘটনা আমরা শুনতে পাই। শহরে এই বিষয়টি আইনের আশ্রয় পেলেও গ্রামাঞ্চলে নানা ভাবে বিষয়টিকে চাপা দিয়ে রাখা হয়। ভাবতে অবাক লাগে নারীরা আজ নিজের ঘরেও নিরাপদ না।যদিও তারা এখন বুক ফুলিয়ে বাঁচতে শিখেছে। আশে পাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো শুনলে যেন গা শিউরে উঠে। এসব কিছুর পরেও বিশ্বে নারীরা আজ থেমে নেই, লড়াই করেই যাচ্ছে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে। তাই এই নারী দিবসে নারীর অধিকার, সম্মান রক্ষায় সবাই হোক সোচ্চার।

নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

সিদরাতুল মুনতাহা, প্রথম বর্ষ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ: নারী সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করতে এবং তাদের প্রতি সম্মান জানাতে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। কিন্তু সমাজে এখনো নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। প্রতিনিয়ত নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে, ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে, বাধ্য হচ্ছে আত্নহত্যা করতে। ফলে পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে চলা অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বর্তমানে সমাজের সকল কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে নিরাপত্তার সাথে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি।

সিদরাতুল মুনতাহা

 

প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে সাথে মেয়ে শিশুরাও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নারীদের নিরাপত্তা অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করা হলেও সেগুলোর যথাযথ কার্যকারিতা লক্ষণীয় নয়। তাই নারীদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে সরকার ও জনগণ উভয়কেই সচেতন হতে হবে এবং নারীরা যাতে স্বাধীনভাবে সকল কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আর শুধু নারী দিবসেই নারীকে সম্মান নয় বছরের প্রতিটি দিনেই নারীর সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

নারীকে স্বাধীনভাবে বাচঁতে দাও

তামান্না আক্তার, দ্বিতীয় বর্ষ, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ: যখন থেকে 'মানুষ' ভেঙে 'নারী-পুরুষ' হলো তখন থেকেই কলহ টা শুরু। নারী-পুরুষ ভাগ না হয়ে শুধু মানুষ থাকলেই হয়তো সকল কলহ ঘুচে যেতো। কেউ কেউ চায় লিঙ্গের সাম্য, কেউ আবার বলে উঠে সাম্যের কি! নারীর মর্যাদা তো পুরুষের চেয়েও বেশি। কিন্তু সাম্য- অসাম্যের প্রশ্নটাই আসলো কেনো? কখনো তো কোথাও দেখিনি পুরষের অধিকার আদায় করে নিতে।

তামান্না আক্তার

 

তবে কেনো নারীর অধিকার আদায় করে নিতে হয়? নারীরা কি পারবেনা অধিকারচর্চা ছাড়া সুস্থ স্বাভাবিক স্বাধীন দৃষ্টিতে বাঁচতে! পারবে, তবে তা হয়তো একটু সময়সাপেক্ষ হবে। সময়সাপেক্ষ হলেও সেই অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে প্রতি বছর ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিকভাবে নারী দিবস পালন করা হয়। নারী সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করতেই এই নারী দিবস। তবে নারী দিবসকে কেন্দ্র করেই শুধু নারীকে সম্মান দেখানো ব্যাপার টা যেন এমন না হয়। প্রতিটি পুরুষের অন্তর থেকে নারীর প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তবেই একদিন নারী নিঃসংকোচে, নির্ভয়ে, প্রত্যয়ী হয়ে চলতে পারবে।

নারী হোক শক্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক

নাজিয়া আফরিন, প্রথম বর্ষ, ফার্মেসী বিভাগ: বছরের নির্দিষ্ট একটি দিনকে নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রয়োজনই পড়তো না যদি নারী অধিকার কিংবা নারী স্বাধীনতা বজায় থাকতো। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীসমাজ কে সম্মুখীন হতে হয় অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে, আদায় করে নিতে হয় নিজের অধিকার, নয়তো সহ্য করতে হয় অত্যাচার। এই অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্যেই নিহিত আছে নারী দিবসের অতীত ইতিহাস।

নাজিয়া আফরিন

 

আজকের দিনে দিকে দিকে নারী সাফল্যের জয়গান দেখা গেলেও, পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা এখনো অবহেলিত। নারী শব্দটির শুরুটি যেমন না দিয়ে শুরু তেমনি পুরুষশাসিত সমাজে নারীর প্রতিটি কাজে না বলার মাধ্যমে বাধার সৃষ্টি করা হয়। নারী কে নারী হিসেবে বিবেচনা না করে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে পারলেই নারী দিবস পালনের আসল উদ্দেশ্য কার্যকর হবে। আধুনিক বিশ্বে নারী হয়ে উঠুক শক্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এই হোক অঙ্গিকার।

নারী হোক আগামী দিনের কাণ্ডারি

সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি, প্রথম বর্ষ, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ: একটা মানুষের মূল্য তখনই বৃদ্ধি পায় যখন সে প্রকৃত অর্থেই একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রূপে পরিচিত হতে পারে। আর তখনই একজন মানুষের দায়িত্বশীলতার পরিচয় ঘটে যখন তার কর্ম, যোগ্যতা সকলের সামনে প্রমাণ পায়। কর্মের ক্ষেত্রে কোন ধরনের বৈষম্য গ্রহণযোগ্যতা পায় না। হোক সেটা নারী বা পুরুষের জন্য। আমরা পৃথিবীর সবার পক্ষ থেকে চাই যে নারী হোক আগামী দিনের কান্ডারী। পুরুষের কাজের সহযোগী। ভবিষ্যত রাষ্ট্র গঠনের একটি অমূল্য উপাদান নারী।

সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি

 

সকল ধরনের লিঙ্গ বৈষম্যের অবসান হোক। আমাদের কলুষিত সমাজ মুক্তি পাক এই সকল নিন্দনীয় চিন্তাভাবনা থেকে। নারীকে ভোগ বিলাসের বস্তুু বা ব্যাবহার এর সামগ্রী না ভেবে সমাজের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে ভাবা উচিত। আর নয় নারীর প্রতি বৈষম্য, চাই সকল ক্ষেত্রে নারীদের প্রতি সাম্যতা। নারী কে শুধু মাত্র নারী হিসাবেই নয় জাতির কর্ণধার হিসাবে ভাবতে পারলেই নারীরা হয়ে উঠবে আগামী দিনের কাণ্ডারি।।

ঢাকা, ০৮ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

প্রধান সম্পাদক: আজহার মাহমুদ
যোগাযোগ: হাসেম ম্যানসন, লেভেল-১; ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, তেজগাঁ, ঢাকা-১২১৫
মোবাইল: ০১৬৮২-৫৬১০২৮; ০১৬১১-০২৯৯৩৩
ইমেইল:[email protected]