41315

যৌবন হারিয়েছে কয়রা উপজেলা যুবলীগ

যৌবন হারিয়েছে কয়রা উপজেলা যুবলীগ

2021-04-07 21:12:42

ইকবাল হোসেন, খুলনা (কয়রা): খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার যুবলীগের নতুন কমিটি না হওয়ায় এক যুগেরও বেশি পুরানো যুবলীগের কমিটি হারিয়েছে যৌবন, থেমে আছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। বয়স্ক, নিষ্ক্রিয়, বিদ্রোহী, বিতর্কিত ও নানামুখী অপরাধে অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে দলের দুঃসময়ে নির্যাতিত, ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন, সাবেক ছাত্রনেতা এবং তারুণ্যনির্ভর ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি করার দাবি জানিয়েছেন কয়রা উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৭ সালে কয়রা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয়-জেলা যুবলীগ। ওই কমিটিতে এস এম শফিকুল ইসলামকে সভাপতি এবং জাফরুল ইসলাম পাড়কে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছর পরেও কয়রা উপজেলায় যুবলীগের নতুন কোন কমিটি হয়নি। এতে যুবলীগের বর্তমান কমিটি সাংগঠনিক গতিশীলতা তথা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, বর্ধিত সভা, দলীয় নির্দেশনা স্থবির হয়ে গেছে। যুবলীগের অনেকেই এখন আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা। এছাড়া যুবলীগের সভাপতি এস এম শফিকুল ইসলাম গত উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান হন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম পাড় বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন।

এভাবে কয়রা উপজেলার যুবলীগের দায়িত্বশীল নেতারা আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত। এতে একদিকে যেমন হারাতে বসেছে যুবলীগের অতীত ইতিহাস এবং ঐতিহ্য। অন্যদিকে কয়রা উপজেলায় যুবলীগ যৌবন হারিয়ে ঝিমিয়ে পড়েছে। এমনটাই দাবী করছেন যুবলীগের পদ প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় যুবলীগ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রার্থী হিসেবে আসন্ন কমিটিতে পদ পেতে কাজ শুরু করেছে কয়রা উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ সহ অনেকে। এতে নড়বড়ে কমিটি ছাড়াও ওয়ার্ড, ইউনিট পর্যায়ের একাধিক নেতা আসন্ন যুবলীগের কমিটিতে স্থান পেতে জোর লবিং চালাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা যুবলীগের নতুন কমিটি সম্মেলন কিংবা ঘোষণা, যেভাবে হোক যুবলীগের কমিটিতে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে মরিয়া দীর্ঘদিন ধরে পদ প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। সাংগঠনিক সম্পাদক সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে লবিং করছে সাবেক অনেক ছাত্রলীগ নেতারা। ছাত্ররাজনীতির সম্মুখ শ্রেণিতে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা দীর্ঘদিন যুবলীগের কমিটি না হওয়ায় তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত। যত দ্রুত সম্ভব মেয়াদোত্তীর্ণ কয়রা যুবলীগের আসন্ন নতুন কমিটির নেতৃত্বে আসতে তারা দলের ঊধ্বর্তন দায়িত্বশীলদের আশীর্বাদ চেয়েছেন।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও কয়রা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ্যাড. কেরামত আলীর ছেলে সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমান যুবলীগকে সুসংগঠিত করতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে যুবলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এ্যাড. আরাফাত হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, দীর্ঘদিন সংগঠনের কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান কমিটির অনেকে বিতর্কিত, বয়স্ক ও দলের বিদ্রোহী। কমিটির কোন কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ে না। বাংলাদেশ যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কয়রা যুবলীগের নতুন কমিটি দিয়ে হতাশাগ্রস্থ, যৌবন হারা যুবলীগকে চাঙ্গা করার ব্যবস্থা করবেন।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজামান বাবু ভাইয়ের দিক নির্দেশনায় যুবলীগকে সংগঠিত করতে সাবেক ছাত্রলীগকে সংগঠিত করছি। দল আমাকে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যোগ্য মনে করলে আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। করোনায় গরীব-অসহায় যুবলীগের কর্মীসহ হাজার হাজার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে যুবলীগের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু ভাইয়ের সহযোগিতায় খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা সামগ্রী ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে আমি সব সময় সাধারণ জনগণের পাশে থেকেছি, মানবিক সহায়তা করেছি আর ভবিষ্যতে করবো।

কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ইমদাদুল হক টিটু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, দীর্ঘদিন সম্মেলন হচ্ছে না। এক কমিটি আর কতো দিন, কবে কমিটি হবে? অনেক বছর পার হয়ে গেছে। নতুন কমিটি না হওয়ার কারণে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমি প্রতিটি কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে প্রতিরোধ করি। সম্প্রতি সকল অরাজকতা ও নাশকতা বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ কর্মসূচিতেও আমরা ছিলাম। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঝিমিয়ে পড়া, যৌবন হারা যুবলীগকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছি।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা। সাংগঠনিক নিয়মানুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘদিনে তা আর হয়ে উঠেনি কয়রা উপজেলায়। উপজেলার সবগুলো ইউনিয়ন কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। নেতৃত্ব শূণ্যতায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে যুবলীগের কার্যক্রম। এতে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা হচ্ছেন বঞ্চিত, এমনটাই অভিযোগ দুই ভাগে বিভক্ত উপজেলা যুবলীগ নেতাকর্মীদের।

উল্লেখ্য, কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ধারায় বিভক্ত। এক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। অন্য গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম। সম্প্রতি দুটি গ্রুপের পক্ষ থেকে যুবলীগের দুটি কমিটির প্যানেল কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি।

ঢাকা, ০৭ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

প্রধান সম্পাদক: আজহার মাহমুদ
যোগাযোগ: হাসেম ম্যানসন, লেভেল-১; ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, তেজগাঁ, ঢাকা-১২১৫
মোবাইল: ০১৬৮২-৫৬১০২৮; ০১৬১১-০২৯৯৩৩
ইমেইল:[email protected]