42109

ইনজেকশনের দাম ১৬ কোটি রুপি, স্বপ্ন পূরণের কাহিনী

ইনজেকশনের দাম ১৬ কোটি রুপি, স্বপ্ন পূরণের কাহিনী

2021-05-08 13:25:53

লাইভ ডেস্ক: একটি দুরারোগ্য। নিস্পাপ শিশুটিকে পেয়ে বসেছে। কি তার অবস্থা। কেমন কাটছে জীবন। এসব থাকছে ওই প্রতিবেদনে। শিশুর প্রাণ বাঁচাতে চাই একটি ইঞ্জেকশন। তবে বাড়ি-ঘর বেঁচে দিলেও ওই ইঞ্জেকশনটি কেনার সামর্থ্য ছিল না রাঠোর পরিবারের। কারণ চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন পৃথিবীর সবথেকে দামী ওই ইঞ্জেকশনের একটি ডোজ়ের দাম ১৬ কোটি রুপি। ছেলেকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় অনলাইন মাধ্যমেই সাহায্য চেয়েছিলেন তাঁর মা-বাবা। আর ফল মিলল তাতেই । মাত্র ৪২ দিনেই উঠে এল সেই টাকা। অজানা, অচেনা দুই লাখেরও বেশি মানুষ, যারা ওই শিশুর প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে রাঠোর পরিবার।

আহমেদাবাদের বাসিন্দা এক দন্পতির পাঁচ মাস আগে একটি ছেলে হয়। নাম রাখা হয় ধৈর্য্যরাজ সিং রাঠোর। কিন্তু জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা জানতে পারেন যে মারণ ব্যধিতে আক্রান্ত হয়েছে একরত্তি। বিরল এই জিনগত রোগের নাম স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোপি টাইপ-১ (Spinal Muscular Atrophy Type I )। জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই এই জিনগত সমস্যা ধরা পড়ে সাধারণত।

জন্মের পর থেকে তার বিরল জেনেটিক সমস্যা। এর নাম ‘স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোপি টাইপ১’। এই রোগের জন্য তাকে একটি ইনজেকশন দিতে হবে। তার দাম ১৬ কোটি রুপি। কল্পনা করতে পারেন বিষয়টি! এমন সামর্থ্য কতজন মানুষের আছে। হাতেগোনা দু’চারজন থাকতে পারেন।

কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সারা জীবনের উপার্জনই ১৬ কোটি রুপির ধারেকাছেও নয়। তাহলে কিভাবে একটি ইনজেকশন ১৬ কোটি রুপিতে কিনবেন ধৈর্য্যরাজ সিং রাঠোরের পিতামাতা! স্বাভাবিকভাবে তারা মানুষের কাছে হাত পাতেন। তাদের আহ্বানে সাড়া দেন কমপক্ষে দুই লাখ মানুষ। এদেরকে ধৈর্য্যরাজ সিং রাঠোরের পিতামাতা চেনেন না। মানবতার ডাকে এসব মানুষ উদারতার পরিচয় দিয়েছেন।

অবশেষে তাদের বড় হোক বা ছোট দান হোক- সব মিলে ওই ইনজেকশনের দাম সংগ্রহ হয়ে গেছে। ফলে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে ধৈর্য্যরাজ সিং রাঠোরের পিতামাতা এই সব দাতাদের জন্য প্রাণখুলে আশীর্বাদ করছেন। তাদের দানে হয়তো তাদের সন্তান পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, ধৈর্য্যরাজ সিং রাঠোরের যে সঙ্কট দেখা দিয়েছে তা নার্ভাস সিস্টেম বা স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা তার অভিভাবকদের জানিয়ে দিয়েছেন রাঠোর এই অসুস্থতা নিয়ে দু’বছরের বেশি বাঁচবে না।

তবে একটি উপায় আছে। তাহলো, যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হয় তাহলে একটি ইনজেকশন দিতে হবে। এর নাম ‘জোলগেনস্মা’। এর প্রতিটি ডোজের দাম ১৬ কোটি রুপি। এটাকেই এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দামি ওষুধ বলে বিবেচনা করা হয়। চিকিৎসকদের কথায় তার পিতা রাজদিপসিংহ রাঠোর বলেন, যদি আমাদের সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে পারতাম, যদি সারাজীবনের সঞ্চয় একত্রিত করতাম, তাহলেও এই ওষুধ কেনার সামর্থ্য আমাদের হতো না।

মুম্বইয়ের পিডি হিন্দুজা হাসপাতালের শিশু নিউরোলজিস্ট ড. নীলু দেশাই বলেন, প্রতি ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের দেহে এই অসুস্থতা দেখা যায়। যদি ঠিক সময়ে এর চিকিৎসা করানো না হয়, তাহলে তা শিশুর জীবনের জন্য ভয়ঙ্কর এক ঝুঁকি হয়ে ওঠে। ছেলেকে বাঁচানো রাজদিপসিংহ রাঠোরে কাছে এক অলীক ভাবনা হয়ে ওঠে।

তবু তিনি হাল ছাড়েননি। সাহায্যের আবেদন জানান। এতে দুই লক্ষাধিক মানুষ সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন। বিষয়টি তিনি কল্পনাও করতে পারেন না। এজন্য অর্থ সংগ্রহ বিষয়ক প্লাটফর্ম ‘ইমপ্যাক্টগুরু’র আশ্রয় নেন তিনি। তাদের সহায়তায় মাত্র ৪২ দিনে কমপক্ষে ২ লাখ ৬৪ হাজার মানুষ এই তহবিলে অর্থ জমা দিয়েছেন। বুধবার নাগাদ এই অর্থের পরিমাণ ১৬ কোটি রুপিতে পৌঁছে গেছে।

ফলে রাঠোরের পিতামাতার চোখেমুখে আলোর রেখা দেখা দিয়েছে। তারা আশায় বুক বাঁধছেন- ছেলে তাদের ফিরে আসবে। এরই মধ্যে বুধবারই ধাইর‌্যাজসিংহ রাঠোরকে এক ডোজের এই ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তারপর থেকে সে ক্রমাগত ভালোর দিকে।

রাজদিপসিংহ রাঠোর বলেন, আমার এই স্বপ্নযাত্রায় যে শুধু মিলিয়নিয়াররাই অর্থ দান করেছেন এমন নয়। এতে যে যতটুকু পেরেছেন তাই দান করেছেন। তারা অতি সাধারণ মানুষ। উল্লেখ্য বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই ওষুধ জোলগেনস্মা প্রস্তুত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেকনোলজি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান এভিক্সিজ। ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নোভার্টিস এটা উৎপাদন করেছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়।

অন্যদিকে বৃটেনে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে এ বছর। বৃটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সার্ভিসের মতে, এই চিকিৎসায় একটিমাত্র ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। কারো দেহে মিস হয়ে গেছে এমন জিন ‘এসএমএন১’-এর উপস্থিতি আছে এই ইনজেকশনে। এই জিন শিশু ও কিশোরদের নড়াচড়ার সক্ষমতা তৈরি করে।

ঢাকা, ৮ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআইটি

প্রধান সম্পাদক: আজহার মাহমুদ
যোগাযোগ: হাসেম ম্যানসন, লেভেল-১; ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, তেজগাঁ, ঢাকা-১২১৫
মোবাইল: ০১৬৮২-৫৬১০২৮; ০১৬১১-০২৯৯৩৩
ইমেইল:[email protected]