42116

"সড়কের মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নৌ, রেল"

"সড়কের মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নৌ, রেল"

2021-05-08 16:02:55

মো: মোহাইমিনুল: দেশে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর কবলে পড়ছে।হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ দুর্ঘটনায়।এরকমটা দীর্ঘ সময় ধরে হয়ে আসছে।সময়ের সাথে সাথে বরং পরিসংখ্যানের রেখা উপরের দিকেই উঠছে,কমছে না মোটেই।তিন পথে যাতায়াত ব্যবস্থার মধ্যে সড়ক পথই বছরে কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য প্রাণ।

মহাসড়কে প্রতিদিনই মানুষজন দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে।এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে,২০১৮ সালে সড়ক মৃত্যুর সংখ্যা ৪৫৮০ জন।২০১৯ এ তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫২২৭ এ উঠে এসেছে। সেই ধারা অব্যাহত রেখে ২০২০ সালেও নিহতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪৩১ জনে।এর সাথে আহতের সংখ্যা তো এর প্রায় কয়েকগুণ।

যদিও "বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি" এর মতে হতাহতের সংখ্যা আরো বেশি।এর কারণ হিসেবে বেশ কিছু বিষয় সামনে আনা হয়েছে। চালকদের মাঝে প্রায়ই অলিখিত প্রতিযোগিতায় যুক্ত হবার একটা প্রবণতা দেখা যায়।যাত্রীদের কথা তো চিন্তা না করেই তারা এরকম এক মহাবিপদের মাঝে নিজেদের যুক্ত করে অবলীলায়।

অনেক সময় দেখা যায় দৈনিক হিসেবে গাড়ি ভাড়া নেয় চালকরা।সেজন্য,তারা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আয়ের জন্য সকল কিছুকে তুচ্ছ মনে করে নিজেদের দিকটাই খেয়াল করে শুধু-যা দুর্ঘটনার অন্যতম একটা কারণ। চালকদের লাইসেন্স তো অবশ্যই থাকতে হবে,তবে সেটা নির্দিষ্ট একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জন করতে হবে।

প্রায়ই দেখা যায়,হেল্পাররাও চালকের আসনে বসে পড়ে।রাস্তাঘাটে সচরাচর এমনটা চোখে পড়ে আমাদের।পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকার ফলে দুর্ঘটনায় পতিত হতে হচ্ছে যাত্রীদের সকলকে।পথচারীদের অসচেতনা এক বিরাট সমস্যা।কিছু সাধারণ নিয়ম আছে যা সকলকে মেনে চলে পথ পাড়ি দিতে হয়,তার তোয়াক্কা অনেকেই করেন না।

কানে ইয়ারফোন বা হাটার সময় মোবাইলে কথা বলা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।গাড়ির হর্ণ না শোনা,মনোযোগ অন্যদিকে থাকা দুর্ঘটনা ঘটার অন্যতম কারণ।ফিটনেস বিহীন চলাচলের অনুপযুক্ত গাড়ির দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে।ফুটপাত দখলের কারণে জনসাধারণের চলাচল করতে সমস্যা হয়।

বড় বড় শহরগুলোর অধিকাংশ ফুটপাত দখল করেই হকাররা তাদের ব্যবসা নিয়ে বসে।এত,যেমন জন দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায় তেমনি দুর্ঘটনায় ঘটার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। কারণ,পথচারীদের হাটার জায়গার অভাবে তারা রাস্তাকেই বেছে নেন।

চালকদের এক্ষেত্রে যেমন গুরুদায়িত্ব রয়েছে তেমনি পথচারীদেরও কিছু নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে চালকদের লাইসেন্স প্রদান করতে হবে।পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহার করা উচিত সবসময়।অবশ্যই মোবাইল,ইয়ারফোনের ব্যবহার জরুরি না হলে ত্যাগ করা উচিত।

নগর পরিকল্পনাবিদ দের মতামত নিয়ে সড়কে সেভাবে সাজানো উচিত।মহাসড়কের পাশের বাজারগুলো অপসারণ করা উচিত।ফুটপাত দখলমুক্ত করা,রোড সাইনের পরিমাণ বাড়ানো,জেব্রা ক্রসিং ইত্যাদি সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে হবে।

নৌপথে যদিও প্রতিনিয়ত ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।তারপরেও,বড় কোনে দুর্ঘটনা না ঘটলে আমরা নৌ পথ নিয়ে বেশি মাথা ঘামাই না।গত বছরের জুনে বুড়িগঙ্গা নদীতে শ্যামবাজারের কাছে "ময়ূর-২" লঞ্চের ধাক্কায় "মর্নিং বার্ড" নামক একটি লঞ্চ ডুবে যায়।৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিলো তখন।

গত কয়েকদিন আগে মাদারীপুরের কাছে স্পিডবোট দুর্ঘটনার স্বীকার হয়।সেখানে ২৬ জন মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এরকম অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর মুখোমুখি আমরা প্রায়ই হচ্ছি। কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না সচরাচর, এর থেকে মুক্তির জন্য।পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়,২০১৮ সালে ছোটোবড়ো দুর্ঘটনা মিলিয়ে মোট ১২৬ জন মারা যান নৌপথে।

লেখক

 

২০১৯ সালে ২১৯ জন এবং ২০২০ এ এই মহামারীর সময়েও তা বেড়ে ৩১৩ তে পৌঁছায়।প্রতিনিয়তই মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে।নৌযানের অব্যবস্থাপনা,কারিগরি ত্রুটি এসবই প্রধান করাণ দুর্ঘটনার।প্রতিবর দুর্ঘটনার পরে দেখা যায়,তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।যদিও,এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ে না।

রেল দুর্ঘটনায়ও অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে প্রতিবছর।শুধুমাত্র,২০১৮ সালেই ৩৯৪ জন নিহত হয়েছে রেল দুর্ঘটনায়।২০১৯ সালে কসবায় রেল দুর্ঘটনায় ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।রেল লাইনের পাশে ছোটোখাটো বাজার গড়ে ওঠে।যার ফলে দুর্ঘটনায় বেশি কবলিত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

এছাড়া,অনেকেই অসাবধানতা বশত রেললাইনে হাটতে গিয়েও দুর্ঘটনার স্বীকার হয়।সড়ক পথের মতো ইয়ারফোন,মোবাইলের কারণেও কিছু দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
অপ্রত্যাশিত মৃত্যু কারাই কাম্য নয়। তারপরেও,রাত পোহালে আমরা জীবিকার তাগিয়ে ছুটতে থাকি।রাস্তায় চলাচলে সাবধানতার চেয়ে বড়ো কিছু নেই।সকলকেই যথাযথ নিয়ম মেনে নিয়ে পথ চলা প্রয়োজন। ফিটনেস বিহীন,লাইসেন্স বিহীন চালককে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এভাবেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা সড়ক,নৌ,রেলের দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে পারি।

লেখকঃ
শিক্ষার্থী,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ৮ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআইটি

প্রধান সম্পাদক: আজহার মাহমুদ
যোগাযোগ: হাসেম ম্যানসন, লেভেল-১; ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, তেজগাঁ, ঢাকা-১২১৫
মোবাইল: ০১৬৮২-৫৬১০২৮; ০১৬১১-০২৯৯৩৩
ইমেইল:[email protected]