42177

রাবিতে নিয়োগের দরকষাকষি: 'কত দিতে সামর্থ্য আছে?'

রাবিতে নিয়োগের দরকষাকষি: 'কত দিতে সামর্থ্য আছে?'

2021-05-10 15:39:43

উমর ফারুক, রাবি থেকে: কিছুদিন ধরেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চলছে নিয়োগ নিয়ে চলছে লঙ্কা কান্ড। বিদায়ী ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান গত ৬ মে মেয়াদের শেষ সময়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের ১২ (৫) এর নির্বাহী ক্ষমতাবলে অ্যাডহকের ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে ১৩৭ জন শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে নিয়োগ দেন।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য দেশ জুড়েই তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে। শিক্ষক -শিক্ষার্থী ও গুণীজনরা নানা মন্তব্য করে যাচ্ছেন পুরো ব্যাপারটা নিয়েই। তিনি অ্যাডহকের ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন, কিন্তু যেসব বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে সেসব বিভাগ থেকে শিক্ষক নিয়োগে প্লানিং কমিটির কোন সুপারিশ নেই।

তাছাড়া অ্যাডহক নিয়োগ দেয়া হয় 'জরুরী প্রয়োজনে। কিন্তু তিনি যেই মুহুর্তে এই নিয়োগ দেন তখন কার্যত কোন 'জরুরী প্রয়োজন' কিংবা 'ভ্যাকান্সি' কোন টাই ছিল না। এমতাবস্থায় এমন নিয়োগ সম্পূর্ন অযৌক্তিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই নিয়োগ দেয়ায় সম্পূর্ন নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তে কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় কমিটির সদস্যরা। দফায়-দফায় মিটিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, সাদা দল এবং বর্তমান রুটিন দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহার সাথে।

এর আগে উপাচার্য কার্যালয়ে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর এম আবদুস সোবহানের বিতর্কিত নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেরা করা হয়। একে একে মিটিং করা হয় নিয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

বিতর্কিত নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেরা শেষে তদন্ত কমিটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী ভিসি আবদুস সোবহান কর্তৃক প্রদত্ত নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করায় তদন্ত কার্য পরিচালনা করতে এসেছি। নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কাগজপত্রাদি আমাদের হাতে এসেছে তা আমরা বিচার-বিশ্লেষণ করে এর দায়ভার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করব।

এদিকে, বিদায়ী ভিসির দেয়া চাকরীতে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত করেছ কর্তৃপক্ষ।

বিদায়ী ভিসি মানবিক নিয়োগ কান্ড শেষ না হতে হতেই এবার নিয়োগ নিয়ে দরকষাকষির কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়েছে। নিয়োগ নিয়ে চলমান বিতকের্র মধ্যে ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে পরিবহন দপ্তরের সাবেক প্রশাসক ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলী হায়দারের কথোপকথনটি। কথোপকথনে তাকে একজন চাকরিপ্রার্থীকে 'কত দিতে সামর্থ্য আছে?' এমনটি বলতে শোনা যায়। তবে এই কথোপকথনটি তার নয় বলে তিনি দাবি করেছেন। তাকে ফাঁসাতে কেউ কারসাজির মাধ্যমে এটি করেছে বলে তার দাবি।

ফাঁস হওয়া দু'জনের কথোপকথনটি ক্যাম্পাসলাইভ পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো-

আলী হায়দার: এখন ঘটনা হচ্ছে কী শোনো, আমি বলি। আসলে সেখানে লোকজন আছে তো; সিনিয়র লোকজন। ওরা আবার বিভিন্ন ধান্দায় থাকে; বোঝো না?

চাকরিপ্রার্থী: স্যার, যা থাকে আপনি ম্যানেজ করেন। আপনি শুধু ওগুলা আমাকে বলবেন।

আলী হায়দার: ওরা আবার খুব ভয় পায়। বোঝো না?

চাকরিপ্রার্থী: কোনো সমস্যা নেই স্যার। বললাম, শুধু এটা আপনি আর আমার মধ্যে।

আলী হায়দার: তোমার সামর্থ্য কতটুকু?

চাকরিপ্রার্থী: স্যার, এটা আপনি বললে তারপর সামর্থ্য অনুযায়ী আমি চেষ্টা করব।

আলী হায়দার: আমি এই কাজ করব না যে, তুমি একটা জিনিস বিক্রি করে এনে দাও। এটা করা যাবে না।

চাকরিপ্রার্থী: এখন আমার বাবা হয়তো বা আমি খোলাখুলি বলি স্যার, তিনি এখন যে অবস্থায় আছেন; ৮-১০ পর্যন্ত উঠতে পারবেন।

আলী হায়দার: ওইটুকুই ওইটুকুই? আমি তোমাকে বলি, আমি বলব না- ওইটুকুতেই হবে। তোমার যা আছে তা বিক্রি করার দরকার নেই।

চাকরিপ্রার্থী: বুঝেছি স্যার।

আলী হায়দার: তোমার অ্যাকাউন্ট আছে না?

চাকরিপ্রার্থী: জি স্যার।

আলী হায়দার: তোমার ওই অ্যাকাউন্ট থেকে পার করে দিবা।

চাকরিপ্রার্থী: জি স্যার, আমি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছি। এই বিষয়ে স্যার আপনি নিশ্চিত থাকেন- কেউ জানবে না। আমি তামিমা এবং সুমাইয়া থেকে আপনি এবং আপনার পরিবার সম্পর্কে জেনেছি।

আলী হায়দার: (একজনের নাম অস্পষ্ট) দু'লাখ প্রথমে দিয়েছে তারপর আবার দিয়েছে। তুমি নিশ্চিত থাকো, যাও।

চাকরিপ্রার্থী: ইনশাল্লাহ স্যার।

তবে আলী হায়দারের সঙ্গে কথোপকথনকারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও তাদের আলোচনার মধ্যে থাকা তামিমা ও সুমাইয়ার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আলী হায়দার ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমি কারও সঙ্গে টাকার লেনদেন করিনি। কাউকে ক্যাম্পাসে চাকরিও দিইনি। ভিসি স্যারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো ছিল। তাই কেউ এমনটি ষড়যন্ত্র করছে।

ঢাকা, ১০ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

প্রধান সম্পাদক: আজহার মাহমুদ
যোগাযোগ: হাসেম ম্যানসন, লেভেল-১; ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, তেজগাঁ, ঢাকা-১২১৫
মোবাইল: ০১৬৮২-৫৬১০২৮; ০১৬১১-০২৯৯৩৩
ইমেইল:[email protected]