43965

"সহমর্মিতা আর সচেতনতায় পালিত হোক এবারের ঈদ"

"সহমর্মিতা আর সচেতনতায় পালিত হোক এবারের ঈদ"

2021-07-21 16:25:42

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রায় দেড় বছর হতে চলেছে আমরা আমাদের চিরচেনা সেই অভ্যস্ত জীবনযাপন থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন জীবন পার করছি। আমাদের চেনা জীবনের সাথে সাথে উৎসব উদযাপনের ধরনও পাল্টে গেছে। যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ঈদ আনন্দে। প্রতিবছর বর্ণিল আয়োজনে শিক্ষার্থীরা ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিলেও মহামারির কারণে এবার হয়ত সেই চিরচেনা রূপ দেখতে পাওয়া যাবে না, নামাজ শেষে কোলাকুলি করা হবে না।

ঘরে বসে সবাইকে ঈদ উদযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এতে করে ঈদের আনন্দ ম্লান হবে বলেই ধারণা করা যাচ্ছে। তারপরও নানাভাবে করোনাকালে ঈদ উদযাপন করবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন আমাদের ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম এর প্রতিনিধি- আর এস মাহমুদ হাসান।

"সুস্থ পৃথিবীতে ঈদ হোক আনন্দের"
সাজেদুল সরকার শান্ত, কৃষি বিভাগ

ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু এই করোনাকালীন সময়ে সেই ঈদের আনন্দ বিগত তিন ঈদ ধরে নেই। চারদিকে মৃত্যুর মিছিল, আগের মতো ঈদের আমেজ নেই, ঈদের বাজারেও দেখা যায়না আগের ঈদের মতো তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা। এবারের ঈদ যেন দক্ষিণ দুয়ারে এসে কড়া নাড়তে ইতস্ততবোধ করছে। করোনার কারণে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায়ও অনেক ব্যাঘাত ঘটছে। হচ্ছে না আগের মতো ক্লাস, পড়ালেখা।

সাজেদুল সরকার শান্ত

 

আমাদের অনেকেই বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে পড়ালেখা বাদ দিয়ে জড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন ধরনের কাজের সাথে। আমি আশা করি, খুব দ্রুতই পৃথিবী আবার সুস্থ হয়ে উঠবে। আমরা আগের মত হৈ-হুল্লোড় করে ঈদ উদযাপন করতে পারব। পৃথিবী সুস্থ হোক, বন্ধ হোক মৃত্যুর মিছিল এই প্রার্থনা। আর আমাদের সকলের ঈদ হোক করোনার আগের ঈদের মতো আনন্দময়।

"এক ছুটিতেই চার ঈদ উদযাপন!"
মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু কোভিড-১৯ এর ফলে সে আনন্দকে উপভোগ করতে হচ্ছে ক্ষুদ্র পরিসরে। মহামারির কারণে পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন করেছেন অনেকেই। এখন আর আগের মত ঈদের আমেজ খুজে পাওয়া যায় না। শহর জীবনে লকডাউন আর গ্রামের মায়ের ছেলে ছাড়া ঈদ উদযাপন। আত্নীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবের বাড়িতে জমে উঠে না আড্ডা, সকাল বেলা ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদে ইদের নামাজ।

মোঃ ফরিদুল ইসলাম

 

কোভিড-১৯ মানুষকে শিখিয়েছে কিভাবে কঠিন সময়েও আনন্দ-কষ্ট ভাগাভাগি করে বেঁচে থাকতে হয়। নতুন দিনের অপেক্ষায়, আবারো ঈদের আমেজ ফিরে আসুক এই ধরণীর বুকে। মহামারির কবল থেকে মুক্ত হোক বিশ্ববাসী।

"ঈদ উদযাপন হোক স্বাস্থ্যবিধি মেনে"
জাহিদা উর্মি, ইতিহাস বিভাগ

প্রায় দেড় বছর ধরে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রতি মুহুর্তেই নতুন সংক্রমণ, নতুন মৃত্যুর খবরে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আছে সবাই। প্রতিবছর কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে হাটে গিয়ে গরু কেনা, প্রিয়জনের ঈদ উপহার এবং নিজেদের দরকারি কেনাকাটার উদ্দীপনায় তৈরি হতো ভিন্ন এক উৎসবের আমেজ। তবে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবারের দৃশ্যপট টা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়েছে। ঈদকে ঘিরে নানা আয়োজন, পরিকল্পনা ও উদ্দীপনায় ভাটা পড়েছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পাল্টে দিয়েছে ঈদের চিরচেনা সেই আমেজ। সীমিত হয়ে গেছে ঈদ উদযাপনের পরিসর।

জাহিদা উর্মি

 

এমন নিদারুণ বাস্তবতার প্রভাব পড়েছে সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ঈদ উদযাপনেও। যদিও করোনা মহামারির কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে ঈদ উপলক্ষে একঝাঁক স্বপ্নের বাড়ি ফেরাটা তাদের ফিকে হয়ে আসা দিনযাপনে বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে, তবুও এবারের ঈদে নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেেচনায় রাখতে হবে। এবারের ঈদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদে পালন করতে পারলে, ভবিষ্যতের ঈদগুলোও পরিবারের সকলের সাথেই সুন্দরভাবে উদযাপন করা সম্ভব হবে।

"স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভাগ করে নিতে হবে ঈদের আনন্দ"
মারুফ আহমেদ খান, অর্থনীতি বিভাগ

ঈদ মানে আনন্দ। মুসলমানদের জন্য প্রতিবছর অফুরন্ত খুশির বার্তা নিয়ে হাজির হয় ঈদ উৎসব। কিন্তু এই মহামারি করোনাভাইরাস পাল্টে দিয়েছে আমাদের সেই চিরচেনা ঈদের প্রকৃতি, আমেজ এবং গতি। করোনা আতংকে আমাদের বেছে নিতে হচ্ছে ঘর বন্দি জীবন কে। তবুও আমাদের মধ্যে রয়েছে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও একাত্মবোধের মাধ্যমে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

মারুফ আহমেদ খান

 

তাই সামর্থ্যবানদের অবশ্যই সমাজের গরিব অভাবী মানুষ সহ এই করোনাকালীন সময়ে যারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এই মহানন্দে শামিল হতে পারছে না, তাদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে হবে। এছাড়াও আমাদের মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব, পরিধান করতে হবে মাস্ক যাতে করে করোনাভাইরাস আমাদের এবং আমাদের পরিবার কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।

"সহমর্মিতা আর সচেতনতায় পালিত হোক এবারের ঈদ"
উম্মে হাবিবা শীলা, বাংলা বিভাগ

ঈদ মানে আনন্দ। আনন্দ শাশ্বত সুন্দর, এই সুন্দরের কাছে ম্লান হয়ে যায় যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট। সমস্ত শঙ্কা, জরা ও জীর্ণতা ভুলে তাই আমরা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হই। ঈদ আমাদের মিলিয়ে দেয় আনন্দের ঐকতানে। এমন ঐকতান, যা ভুলিয়ে দেয় সমস্ত বৈষম্য, বিভেদের দেয়াল। আমরা তেমন ঈদের আনন্দের প্রতীক্ষা করি। কিন্তু এবারের ঈদ এসেছে ঠিক‌ই, তবে এসেছে আতঙ্ক নিয়ে। কোভিড-১৯ এর প্রকোপে, ভয়াবহ অতিমারিতে স্তম্ভিত এই সময়ে ঈদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঘোরাঘুরি, বিবিধ পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের সচেতনতার অগ্রগতি কতদূর? এই দুষ্কালে আমরা কি যথেষ্ট মানবিক আচরণ করতে পারছি! মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছি!

উম্মে হাবিবা শীলা

 

এবারের উৎসবে মেহেদীর রঙ লাগানোর পরিবর্তে আমরা স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে পারি। মাস্কের ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলতে পারি আমাদের সহনাগরিককে। আমাদের চারপাশের সবাই ভালো আছে তো? অক্সিজেনের অভাবে একটা প্রাণ‌ও যেনো কাতরে না মরে আর। সর্বাত্মক প্রার্থনা হয়ে উঠেছে, কাছের মানুষ, আপনজন, পরিচিতজন, দূরের মানুষ যে যেখানে থাকুক নিরাপদে থাকুক। সচেতন থাকুক। এক একটা মানুষের সুস্থ মুখের হাসিই এবারের ঈদ। অনন্ত শুভকামনা আর প্রত্যাশা আবার আমাদের সুস্থ পৃথিবীতে ঈদ আসুক ঝলমলে খুশির দূত হয়ে।

"বৈষম্য ভুলে গড়ে উঠুক ভালবাসার বন্ধন"
মো: মাহবুবুল ইসলাম মানিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। যদিও বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে ঈদের এই খুশি অন্যসব সময়ের থেকে কিছুটা মলিন। তবুও থেমে থাকে না ঈদের আনন্দ, সবাই যার যার মত করে মেতে উঠে ঈদের আনন্দে। তবে আমার মনে হয় কোভিড পরিস্থিতি মাথায় রেখে পরিবারের সদস্যদের সাথেই ঈদ পালন করা উচিত।

মো: মাহবুবুল ইসলাম মানিক

 

যেহেতু এটা কোরবানির ঈদ, আর আমরা জানি আমাদের সমাজে সবার কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আমাদের যাদের কোরবানি আছে তাদের লক্ষ্য রাখা উচিত যেন আমরা আমাদের প্রতিবেশীর হকের বিষয়ে খামখেয়ালি না হয়। গরিবদের মুখে খুশির এই দিনটিতে যেন হাসি ফোটাতে পারি। ভেদাভেদ ভূলে যেন ঈদের এই খুশিটা তাদের সাথে ভাগ করে নিতে পারি। আর আমাদের সবার একটাই চাওয়া মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি লাভ করুক গোটাবিশ্ব, পৃথিবী আবার হেসে উঠুক তার আপন মহিমায়।

"সকলের ইদ সুস্থ ও ভালো ভাবে কাটুক এই প্রত্যাশা"
ফাতেমা তুজ জোহরা, লোকপ্রশাসন বিভাগ

কোরবানির ঈদ বা ঈদুল আযহা পুরো মুসলিম জাতির কাছে ত্যাগের ও আনন্দের প্রতীক। প্রতি বছরের ঈদের থেকে এই করোনাকালীন সময়ে ইদের আমেজে হয়ত কিছুটা ভাটা পড়ে গিয়েছে। তবে এই মহামারির সময় আমাদের উচিত ঈদের আনন্দের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা।

ফাতেমা তুজ জোহরা

 

কোরবানির মূল যে উদ্দেশ্য আল্লাহর খুশির জন্য সবকিছুকে ত্যাগ করা ও সেইসাথে নিজের অন্তরের পশুত্বকে বিসর্জন দেয়া এবং গরীব দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো। এছাড়া মানুষের অধিকার পূরণে যেন আমরা নিশ্চিত থাকি। সকলের ঈদ সুস্থ ও ভালো ভাবে কাটুক এই প্রত্যাশা করি।

"এখন ঈদ মানে ভিডিও কলে শুভেচ্ছা বিনিময়"
রাকিব চৌধুরী, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

'ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি' কথাটি করোনা মহামারি আসার পরে আমরা ভুলতে বসেছি। ঈদ মানে আমার কাছে ছুটিতে বাড়ি ফেরা, পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বাড়ি ফেরা। আমাদের পরিবারে সাধারণত ঈদ উপলক্ষেই সবাই একত্রিত হই। বাবা এবং ভাইদের সাথে গ্রামের সেই পুরাতন ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষে কোরবানি করে বাসায় মাংস নিয়ে আসি। কোভিড-১৯ আসার পরে গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বাসায়ই অবস্থান করছি আমি।

রাকিব চৌধুরী

 

এই মহামারির কারণে ঈদে আমার বড়ভাই আসতে পারেননি তার কর্মস্থল থেকে। তাই এখন আমার কাছে ঈদ মানে ভিডিও কলে শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়া আর কিছুই না। এই খুশির দিনে মায়ের কান্না দেখতে কার ভালো লাগে? সন্তানদের কাছে না পেয়ে মা কান্না করেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করি পৃথিবীটা ধুয়ে মুছে আগের মত হয়ে যাক, আমরা মুক্তি পায়।

ঢাকা, ২১ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

প্রধান সম্পাদক: আজহার মাহমুদ
যোগাযোগ: হাসেম ম্যানসন, লেভেল-১; ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, তেজগাঁ, ঢাকা-১২১৫
মোবাইল: ০১৬৮২-৫৬১০২৮; ০১৬১১-০২৯৯৩৩
ইমেইল:[email protected]