44425

জিডি থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সিটি ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধে মামলা

জিডি থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সিটি ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধে মামলা

2021-08-09 18:55:27

লাইভ প্রতিবেদক: উপায় নেই। কি আর করবেন। অবশেষে জিডিতেও তিনি তুষ্ট হলেন না। শেষমেষ যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে তার বসের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা ঠুকে দিলেন। বললেন কারণে অকারণে এমডিগংরা আমাকে ডাকাডাকি করতো, মাঝে মধ্যে আমাকে যৌন হয়রানি করেছে। বার বার বিচার চেয়েও কোন বিচার পাইনি। কি আর করা। কোন উপায় না দেখে মামলা করতে বাধ্য হলাম। যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে সিটি ব্যাংকের এমডিসহ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্যাংকটির সাবেক এক সিনিয়র নারী কর্মকর্তা রোববার মামলাটি দায়ের করেন। ওই মহিলা কর্মকর্তার কথা। তার নাম মনিরা সুলতানা পপি। তিনি সিটি ব্যাংকের সাবেক সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট। বা এভিপি।মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে গুলশান থানার ওসি এসএম কামরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করে ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ ও বোর্ড সেক্রেটারি কাফি খানকে। মামলার বাদী সিটি ব্যাংকের সাবেক সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরা সুলতানা পপি। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার বাদী বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্য দুই আসামি আমাকে অব্যাহতভাবে ইভটিজিং করেন। তাদের কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় আমাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

এমনকি শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন তার কাছে ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুতির চিঠি পাঠানো হয়। বাদী আরও বলেন, আমার সঙ্গে এ তিন কর্মকর্তার কুরুচিপূর্ণ আচরণের বিষয়টি বহু আগেই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে জানিয়েছি। কিন্তু তেমন কোনো ফল পাইনি। বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। মামলাটি করা হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪০৬/৫০৬ ধারায়। যেখানে শ্লীলতাহানি ও শ্লীলতাহানিতে সহায়তা প্রদান করা এবং অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকি প্রদর্শনের অপরাধের কথা বলা আছে।

Caption

 

ওই এজাহারে আরও বলা হয়, ব্যাংকে যোগদান করার পরপরই মাসরুর আরেফিনের নিয়মিত ইভটিজিংয়ের শিকার হন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এমডির এসব আচরণ সহ্য করেই তাকে কাজ করতে হয়। ২০১১ সালে অপর আসামি হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ গাড়িতে লিফট দেয়ার নাম করে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে বসেন। লিফটের ভেতরে, সিঁড়িতে অফিস চলাকালীন তার হয়রানির শিকার হতে হয়।

এ ঘটনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার টিটো এবং তাবাসসুম কায়সার জানেন। বোর্ডে আলোচনায় আসার পর কনসালট্যান্ট রাজা দেবনাথ লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। এরপর ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। এ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে একই ফ্লোরে কাজের পরিবেশ নেই জানানোর পর সেপ্টেম্বরে মনিরা সুলতানাকে ট্রান্সফার করা হয়। এরপর ৩১ ডিসেম্বর ডিএমডি (অপারেশন) মাহিয়া জুনেদ এবং মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান তাকে চাকরি খুঁজতে বলেন।

মনিরা সুলতানা পপি আরও বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে লাকি শিপ বিল্ডার্সকে বিপুল অঙ্কের লোন দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় আমি যুক্ত হতে রাজি হইনি। এ কারণেও আমাকে ব্যাংকের রোষানলে পড়তে হয়। ২১ জানুয়ারি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের সঙ্গে দেখা করে অন্যত্র চাকরি খুঁজতে বলার কারণ জানতে চাইলে এমডি ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার কথা অনুযায়ী না চলা এবং নোংরা আবেদনে সাড়া না দেয়া ও দুর্নীতিগ্রস্ত ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ায় জড়িত না থাকাই আমার অপরাধ।

তিনি আরো বলেন, ২১ জানুয়ারি বোর্ড সেক্রেটারি আমাকে ডেকে বলেন, আমি যেন অফিসে আর না ঢুকি। এমডি মাসরুর আরেফিন, আবদুল ওয়াদুদ, কাফি খান আমার সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। সরাসরি গায়ে আপত্তিজনকভাবে হাত দেয়া, কটূক্তি ও লালসার শিকার বানানোর চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে তারা আমার দীর্ঘ ১৭ বছরের কর্পোরেট ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেন।

গুলশান থানায় মামলা

 

মামলার বাদী মনিরা সুলতানা বলেন, বহু আগে আমি পুলিশকে বিষয়টি জানাই। ১০ জুলাই এ বিষয়ে গুলশান থানায় জিডিও করি। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তারা পুলিশকে ম্যানেজ করে ফেলেন। ফলে আমি আইনগত সহায়তা পাইনি। এ কারণে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। দিনভর থানায় বসিয়ে রেখেও মামলা নেয়নি। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করি। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে পুলিশ রোববার মামলা নিতে বাধ্য হয়।

এদিকে মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালত থেকে ইতিমধ্যে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, মনিরা সুলতানার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও ব্যাংকের গাড়ি অপব্যবহারের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। যুক্তিসঙ্গত কারণেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু এখন তিনি মামলার মাধ্যমে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মনিরা সুলতানার কাছে ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকা পাওনা। এ টাকা না দেয়ার জন্যই তিনি মামলার নামে নাটক সাজিয়েছেন। মামলার অপর দুই আসামি আবদুল ওয়াদুদ বলেন, মামলার পুরো অভিযোগটি মিথ্যা। ঘটনার কোনো সত্যতা নেই। আমার অফিসের পুরোটাজুড়ে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এ অবস্থায় কারও গায়ে হাত দেয়া বা যৌন হয়রানির কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

পরীমনির ব্যাপারে সেই এমডির সাফাই ষ্ট্যাটাস:

হালের আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। তাকে ঘিরে সৃস্টি হয়েছে ধূম্রজাল। দেশ-বিদেশে চলছে তুলকালাম। তার আগ্রাসী চোখ যেন বাজ পাখিকেও হার মানায়। তার নজরে যে একবার পড়ে তার সব কিছুই যেন ধুলোয় মিশে যায়। এমন মন্তব্য করেছেন খোদ ফিল্ম পাড়ার অনেকেই। এখন কেউ সামনে এসে বা প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। পরীর আছর পড়েছে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, কলা-কোশলী, সাংবাদিক, পুলিশসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের উপর। পরীর ডানা কোথায় কখন কিভাবে উড়ে যায় তা কেউ জানে না। ডানা মেলে তবে যখন তখন নয়। তার সময়েই তিনি মেলে দেন ডানা। উড়ে চলেন দেশ-দেশান্তরে। তিনি যেন ঠিক তাই। সমাজের বহু লোকের সাথে রয়েছে তার সখ্যতা। রয়েছে একান্ত সম্পর্ক।

সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিনের একটি গাড়ি উপহার দেওয়া নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ চাউর হয়। তবে ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এই সংবাদকে মিথ্যাচার বলে দাবি করছেন। তিনি পরীমণি ও পিয়াসাকে কখনো দেখেননি বলেও দাবি করেন। এদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এনে সিটি ব্যাংকের এমডিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন মনিরা সুলতানা পপি নামের এক নারী।

এদিকে রোববার (৮ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাসরুর আরেফিন নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেন তিনি। পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

সেই পরী, সেই এমডি ও সেই বিলাসবহুল গাড়ি

 

“আমেরিকায় বিএসইসি আয়োজিত বিনিয়োগ রোড শো-তে অংশ নিয়ে আমি এখন ঢাকার পথে। এর মধ্যেই শিকার হলাম আমার জীবনের প্রবলতম মিথ্যাচারের। ইত্তেফাক লিখে দিলো : ‘একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের সঙ্গে পরীমণির অডিও রেকর্ডে একটি গাড়ি উপহার দেওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত রুবেলের সঙ্গে পরীমণির গভীর সখ্যের বিষয়টি কথোপকথনে উঠে এসেছে।’ তিনি লিখেন, “আমার বলার কোনো ভাষা নেই, কোনোকিছু বলারই কোনো ভাষা নেই। আমি আমার বাপের জীবনে, এই মর্ত্যের পৃথিবীতে, এই ধরাধামে পরীমণি নামের কাউকে দেখিনি। অতএব তার নম্বর আমার কাছে থাকার প্রশ্নই আসে না। এমনকি ‘বোট ক্লাব‘ ঘটনার আগে পর্যন্ত পরীমণি নামটিও শুনিনি। আমার মানুষকে জিজ্ঞাসা করতে হয়েছিল যে, কে এই পরীমণি? ”

“আমার কাজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যাংকিং আর তারপর সাহিত্য নিয়ে পড়ে থাকা। প্রতিদিন। একই। ঢাকার একজন মানুষও (হাই সোসাইটির একজনও) বলতে পারবেন না তারা কেউ আমাকে কোনোদিন কোনো ক্লাব বা পার্টিতে দেখেছেন (এখানে আমি ক্লাব বা পার্টিতে যাওয়ার নিন্দা করছি না, সেটা যারা যাবার তারা যেতেই পারেন; আমি শুধু বোঝাচ্ছি যে মানুষ হিসেবে আমার টাইপটা কী?)। এতটাই ঘর ও অফিস/অফিস ও ঘরমুখী এক মানুষ আমি।”

“অতএব বলছি, তাকে গাড়ি দেওয়ার কথাটা আমার কানে লাগছে মঙ্গল গ্রহের ভাষায় বলা কোনো কথার মতো। আমার নিজের একটিও গাড়ি নেই। একটা সামান্য মারুতি বা ধরেন একটা টয়োটা করোলা গাড়িও না। ব্যাংক আমাকে চলার জন্য গাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে, তাতেই চড়ি। ব্যাংকের চাকরির শেষে নিশ্চয় কোনো ব্যাংক থেকে কার লোন নিয়ে একটা গাড়ি কিনে তাতে চড়ব।”  “কোনো অভিযোগের মধ্যে মিনিমাম মিনিমাম মিনিমাম এক সুতো সত্য থাকতে হয়। কিন্তু এ এক ভয়ংকর বিষয় যে, আমি যাকে চিনি না, জীবনে যার বা যাদের সঙ্গে হ্যালো বলা দূরে থাক, যাদের নামটা পর্যন্ত আমি প্রথম জানলাম এই কদিন আগে (পিয়াসা নামটা মাত্র দুদিন আগে), সেই নায়িকা বা মডেলকে আমি গাড়ি দিয়ে ফেললাম?”

“কোথায় যোগাযোগ হলো আমাদের? ফোন কল? তার নাম্বার কী? কল রেকর্ড আনা হোক। তাহলে ঘটনা কী? আমি সত্যি জানি না, ঘটনা কী। বুঝি যে, আমাকে নিয়ে (অর্থাৎ এক অর্থে সিটি ব্যাংক নিয়ে) একটা সস্তা ষড়যন্ত্র চলছে।” “ইত্তেফাক-এর খবরে ওরা দ্যাখেন সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যানের নামটা পর্যন্ত লিখতে পারেনি, লিখেছে ‘ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত রুবেলের সঙ্গে পরীমনির গভীর সখ্যের বিষয়টি...।’ শওকত রুবেল নামের মানুষটা কে? এই নামে তো কেউ নেই।”

“সাংবাদিক ভাইয়েরা, কী লিখেছেন আপনারা এসব? মানুষ ও তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন আপনাদের কাছে এতই ফেলনা যে, নামটাও ঠিক জেনে লিখবেন না? প্রিয় ইত্তেফাক, আমার ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নাম আলাদা। সেটা শওকত রুবেল না।” “আমার অনুমান এই যে, ব্যবসায়ী শওকত আজিজ রাসেল আমাদের ব্যাংক চেয়ারম্যানের ছোট ভাই। একটা গোষ্ঠী তার হয়তো ক্ষতি চায়, এবং তারা তাদের সেই চাওয়ার সঙ্গে তাকে সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যান ভেবে নিয়ে ব্যাংক প্রধান হিসেবে আমাকেও নিষ্ঠুর ও বাছবিচারহীন এক সামাজিক নর্দমার মধ্যে ঠেলে দিতে এক মুহূর্ত দ্বিধা করলেন না।”

“তারা বুঝলেন না যে, ‘আগস্ট আবছায়া’ (বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ওপরে চার বছরের গবেষণার শেষে বাংলায় লেখা অন্যতম সেরা উপন্যাসটা আমার লেখা), ‘আলথুসার‘ বা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ নামের উপন্যাসের লেখক মাসরুর আরেফিন, বা বাংলায় ‘ফ্রানৎস কাফকা গল্পসমগ্র’ কিম্বা ‘হোমারের ইলিয়াড’-এর এই অনুবাদকের সিম্পলি সিম্পলি সিম্পলি এক পয়সা দুর্নীতির টাকাও থাকতে পারে না, যা দিয়ে (ব্যাংক লোন না নিয়ে) তিনি নিজের জন্য একটা সাধারণ বা বিলাসী গাড়ি কিনতে পারেন। অন্যের জন্য কেনার কথা বাদই দিন।”

Caption

 

“এবার লেখকসত্তার জায়গা থেকে একটা কথা বলি। আইনি বিষয় ও সামাজিক বোঝাপড়ার বিষয়গুলো বেশ তো গুলিয়ে যাচ্ছে! আমার কাউকে কোনো গাড়ি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আমার কাউকে ধরুন ভালো লাগল (যার সম্ভাবনা বাস্তবে কম, কারণ আমার দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে এক সুন্দর সংসার আছে), তখন তাকে যদি আমি আমার সামর্থ্যের মধ্যে দুই বক্স চকলেটও কিনে দিই, সেটা নিয়ে আইন ছাপিয়ে, সংবিধানের মৌলিক অধিকার ছাপিয়ে ‘সমাজের বিচার’ নামের যে-এক ড্রাগন আছে, সে এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে হাউ হাউ করে উঠবে।”

“ব্যক্তি স্বাধীনতার সঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্নকে টেনে টেনে এনে আইনের আরও ঊর্ধ্বেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দৈনন্দিনের বাছ-বিচারগুলোকে। এরকম সমাজে অনেকের লাভ, কারণ আমরা সাধারণ মানুষেরা তখন ইতিহাসের ল্যাবরেটরিতে কাঁউ-কাঁউ করে বেড়ানো ইঁদুর হয়ে থেকে যাই। আমাদেরকে সেই ইঁদুর হওয়ার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতি মুহূর্তের একটা ‘অনগোয়িং ওয়ার্ক’। এই রাষ্ট্র আমাদের স্বাধীনতাগুলো—স্বাধীনতার যে কাজটুকু অন্যের জন্য ক্ষতিকর না—এভাবে কেড়ে না নিক। বাস্তবেই অনেক ক্ষতিকর কিছু ঘটছে অনেক দিকে, অনেক অবিচার ও আর্তনাদের ময়লা উড়ছে অনেক অনেক কোনায়। সেদিকে চোখ থাকুক আমাদের।”

“শেষ কথা একটাই, আমি আমার মানব জীবনে এই নায়িকা বা মডেলদেরকে দেখিনি। তাদের সঙ্গে না-দেখা জগতের ফোনের যে-হ্যালো, সেটাও কোনোদিন বলিনি। তারা কারা তাও আমি জানতাম না ‘বোট ক্লাব’ কাণ্ডের আগে। সবচাইতে বড় কথা তাদের নামটাও আমি শুনিনি।” “এখন তাহলে এক ব্যক্তির ওপরে, এক সাধারণ মানুষের ওপরে, এক লেখক ও কবির ওপরে, এক ‘কেউ-না এমন এক মানুষের ওপরে’ অবিচারের মাত্রাটা বুঝুন। বাকি বিচার এই সমাজের, সমাজই যেহেতু আছে বিচারকের ভূমিকায়।”

০৯ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

 

প্রধান সম্পাদক: আজহার মাহমুদ
যোগাযোগ: হাসেম ম্যানসন, লেভেল-১; ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, তেজগাঁ, ঢাকা-১২১৫
মোবাইল: ০১৬৮২-৫৬১০২৮; ০১৬১১-০২৯৯৩৩
ইমেইল:[email protected]