৭৩ ছাত্রীকে সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগসাইবার বুলিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত কে এই মিজান?


Published: 2021-08-22 18:40:36 BdST, Updated: 2021-10-21 10:52:41 BdST

আজাহার ইসলাম, ইবি: সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রের বিরুদ্ধে ৭৩ জন ছাত্রীকে সাইবার বুলিংয় করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মিজান বিশ্বাস। ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনী ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছেন।

মিজান নিজেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ও খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করেন। এমন ঘটনায় বিব্রত সংগঠনটির নেতা-কর্মীরাও। বিচারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ রাজনৈতিক সংগঠনগুলো।

ডান থেকে দ্বীতিয় স্থানে গোল চিহ্নিত মিজান বিশ্বাস

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০ আগস্ট রাতে একটি ফেইসবুক পেইজে আপত্তিকর ক্যাপশন জুড়ে ৭৩ জন ছাত্রীর ছবি প্রকাশ করে পেইজটির অ্যাডমিন মিজান বিশ্বাস। এরপর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে আনুমানিক ১২ টার দিকে পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন তিনি। পরদিন দুঃখ প্রকাশ করে পুনরায় পোস্ট করা হয় পেইজটিতে। এছাড়া পেইজটিতে এর আগেও অসংখ্যবার বিভিন্ন মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইবার বুলিংয়ে অভিযুক্ত মিজান বিশ্বাসের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলায়। তিনি নিজেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করেন। মিজান জানায়, একাদশ শ্রেণি থেকে এলাকায় ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলামের হাত ধরে রাজনীতি শুরু করেন প্রথম বর্ষ থেকেই। পরে ইবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির ইসলাম বাবুর ও পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমের কর্মী হিসেবে মিছিল মিটিং এ অংশ নেন।

বাঁ দিকে গোল চিহ্নিত মিজান বিশ্বাস

এদিকে ইবি ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের একটি ফেইসবুক গ্রুপে এক পোস্টে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ সুমন দাবি করেন মিজান ছাত্রলীগের কেউ নয়। এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘দেখার কেউ নাই প্রতিবাদ করারও কেউ নাই। যে ছেলে ছাত্রলীগের কেউ না তাকে ছাত্রলীগের পরিচয়ে পরিচিত করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। অন্তত আমার জানা মতে একে ছাত্রলীগ করতে দেখি নাই। এর একটা প্রতিবাদ হওয়া উচিত।’ ওই পোস্টের কমেন্টে অনেকেই সুমনের সাথে একাত্বতা পোষণ করেছেন।

এদিকে গত ২১ জানুয়ারি ইবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ওই শিক্ষার্থীকে লাঠি হাতে দেখা যায়। কয়েকটি গণমাধ্যমে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের সাথে মিছিল মিটিং এর অন্তত ৭/৮ টি ছবি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে বিভিন্ন মিছিল, মিটিং ও অনুষ্ঠানে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির ইসলাম বাবু। বাবু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘মিজান বিশ্বাসকে আমি ছাত্রলীগের মিছিল, মিটিং ও প্রোগ্রামে দেখেছি। সে বঙ্গবন্ধু হলে থাকে। সে ছাত্রলীগ বাদে অন্য কোনো দলের রাজনীতির সাথে জড়িত নেই।’

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মিজান বিশ্বাস

অপর এক ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সাগর ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, মিজান বিশ্বাস ১০০ ভাগ ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট। সে প্রথম বর্ষ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত। মিজান আগেও ছাত্রলীগ করতো, এখনো ছাত্রলীগ করে।’

মিজান বিশ্বাস নিজেকে খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করেন। একটি ব্যানারে ‘সদস্য, খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে পোস্টারে কর্মীর স্থলে ভুলবশত সদস্য লেখা হয়েছে বলে জানান মিজান। একইসাথে তিনি সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করেন। এছাড়া খোকসা-কুমারখালী ৭৮ কুষ্টিয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিওতে মিজানকে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এছাড়া ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে মিছিল, মিটিংসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের তার একাধিক ছবি রয়েছে।

এদিকে মিজান বিশ্বাস খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের কেউ নয় বলে দাবি করেছেন খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শিমুল আহমেদ খান। মিজান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিএনপি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেন তিনি। শিমুল ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘আমি মিজান বিশ্বাসের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছি। এই নামে খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগে কোন ছেলে নেই। আমি তাকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনিও না। যতদূর জানি সে ও তার পরিবার বিএনপি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে জড়িত আছে কি-না সেটা জানি না।’

খোকসায় ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জের আগমনে স্লোগানরত মিজান

এদিকে মিজানের দাবি, তিনি ২০১৩ সাল থেকে স্থানীয় ছাত্রলীগের সাথে জড়িত আছেন। মিজান বলেন, ‘একাদশ শ্রেণি থেকে আমি স্থানীয় ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট। আমিই মিছিলে স্লোগান দিতাম। এলাকায় এমপির গ্রুপে রাজনীতি করি। তাই অন্য গ্রুপের নেতা-কর্মীরা অস্বীকার করছেন। পলিটিক্স এমনই। বিপদে পড়লে সবাই লাথি মারে।’

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘ভিসি স্যার আইসিটি সেলকে অভিযুক্তের তথ্য বের করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন। প্রতিবেদন জমা দিলেই আমরা আইনী ব্যবস্থা নেব।’

ঢাকা, ২২ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।