অনেক কাউন্সিলর মাস্তানিই করেন,কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়ইরফান বরখাস্ত: ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন


Published: 2020-10-27 19:22:43 BdST, Updated: 2020-12-03 10:25:57 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ক্ষমতার দাপট দেখাতে পারেনি তিনি। এবার ফেঁসে গেছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। উপসচিব আ ন ম ফয়জুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ধারা ১২ এর উপ-ধারা (১) এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০নং সাধারণ ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর পদ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হল।

মঙ্গলবার সকালে এ বিষয়ে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, আইন অনুসারে প্রথমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। এরপর স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে। যেহেতু বিচারাধীন বিষয়, তাই তার বিষয়ে কোর্টের আদেশ আমলে নিয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। মন্দ কাজ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

এদিকে নৌবাহিনীর এক ক্যাপ্টেনকে মারধর ও হত্যার হুমকির মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে সাতদিনের রিমান্ডে চেয়েছে পুলিশ। ইরফান ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে।

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে বুধবার এ আবেদনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ অক্টোবর রাতে সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান সিগন্যালের পাশে এ ঘটনা ঘটে। রোববার রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও সোমবার ভোরে ইরফানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

সোমবার এ মামলায় ইরফানকে গ্রেফতার করে র্যাব। এছাড়া পুরান ঢাকায় তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, অস্ত্রসহ একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়। বাসায় বিদেশি মদ ও অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি রাখায় কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদকে এক বছর করে জেল দেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাতেই তাদের কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরফান সেলিমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবি সিদ্দিকী দিপুকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডিএমপির রমনা গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল টাঙ্গাইল থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

এদিকে ২৭ অক্টোবর সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের পুত্র এবং নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর জামাতা। ২৫ অক্টোবর রাতে এমপি হাজী মো. সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান সিগন্যালের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ওইদিন রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও সোমবার ভোরে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সোমবার দুপুরে ইরফানকে গ্রেফতার করে র্যাব। পুরান ঢাকার তার বাসায় অভিযানও পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, গুলিসহ একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।

বাসায় বিদেশি মদ ও অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি রাখায় কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদকে এক বছর করে জেল দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাতেই তাদের কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ইরফান সেলিমের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘যে কাউন্সিলরের কথা জানতে চাচ্ছেন, সেই অভিযোগটি আমাদের নথিভুক্ত হয়েছে। আমরা প্রসেস করছি।

তিনি বলেন, ‘তাকে বরখাস্ত করার পর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে।’ আমরা বলতে পারি আপনারা বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রজ্ঞাপনটা দিয়ে দেবেন- এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এক্সাক্টলি।’ অনেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ আসে, তারা এক ধরনের মাস্তানিই করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ আছে কিনা- জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো শ্রেণি পেশা বা পদ-পদবিকে ভিন্নভাবে বিবেচনা করব না।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় বাংলাদেশে সকল পেশা সকল পদের লোকজনের মধ্যে ভালো-মন্দের দুই কাজের মিশ্রণ প্রত্যক্ষভাবে লক্ষ্য করি। সব কাউন্সিলর খারাপ কাজ করেন, এটা আমি মনে করি না। কিছু কিছু কাউন্সিলর দৃষ্টিকটু, অনিয়ম এবং অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজের সঙ্গে কেউ কেউ কখনও কখনও সম্পৃক্ত হয়নি এটা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, যেটা হয়েছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’ কাউন্সিলর ইরফানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্ত আমলে নেয়া হবে।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যার হুমকির মামলায় ইরফান সেলিমকে সাতদিনের রিমান্ডে চাইবে পুলিশ। ২৭ অক্টোবর দুপুরে ধানমন্ডি থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান থানার ওসি ইকরাম আলি মিয়া স্পস্ট করেছেন।

 

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।