রাজশাহীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত


Published: 2020-11-08 21:32:32 BdST, Updated: 2021-01-23 00:25:20 BdST

রাজশাহী লাইভ: বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন ৭ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রক্ষা পেয়েছিল আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তিতে এই মহান নেতার সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগণ পেয়েছিল অর্থনৈতিক মুক্তি।

এই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণ করতেই জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৭ নভেম্বর, ২০২০ তারিখ রাত ৮টায় আয়োজন করে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা। সভাটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) এর স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব নজরুল ইসলাম খান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা এমন এক সময়ে আলোচনা করছি যখন বাংলাদেশ তার সকল অর্জন হারিয়ে ফেলেছে, দেশে এক ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার যে আকাঙ্খা নিয়ে এদেশের মানুষ বিপ্লব ও সংহতির সূচনা করেছিল, সেই গণতন্ত্র আজ অনুপস্থিত। কারণ গণতন্ত্রের বাহন হলো নির্বাচন, সেই নির্বাচন পদ্ধতিকে পক্সগু করে দেয়া হয়েছে। মানুষ এখন আর ভোট দিতে যায় না। এমনকি সরকারদলীয়রাও ভোট দেয়ার প্রয়োজন মনে করে না। তিনি আরো বলেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমাদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের সূচনা হয়েছিল, বাংলাদেশ পুনরুজ্জীবন লাভ করেছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বরের পথ ধরে জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে এসেছিলেন, আর জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এসেছিল বাংলাদেশের উন্নয়ন আর শৃঙ্খলা । প্রকৃত অর্থে মানুষের আকাঙ্খার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রধান আলোচক প্রফেসর এম রফিকুল ইসলাম (সাবেক উপাচার্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া) বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পটভ‚মি এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভ‚মিকা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের রাজনীতির মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল জাতিগোষ্ঠি যেন বাংলাদেশী পরিচয়ে বসবাস করতে পারেন।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু (বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক রাসিক মেয়র এবং সাবেক এমপি, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল (যুগ্ম মহাসচিব, বিএনপি), হারুনুর রশীদ এমপি (যুগ্ম মহাসচিব, বিএনপি), মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল (সাবেক মেয়র এবং বন ও পরিবেশ বিষয়ক স¤পাদক, বিএনপি), প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম (শিক্ষা বিষয়ক স¤পাদক, বিএনপি), এড. সৈয়দ শাহীন শওকত (সহ: সাংগঠনিক স¤পাদক।

রাজশাহী বিভাগ, বিএনপি) এবং  এড. শফিকুল হক মিলন (সাধারণ স¤পাদক মহানগর বিএনপি এবং সহঃত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক স¤পাদক, বিএনপি)। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষকগণ যুক্ত ছিলেন। জনাব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ৭ নভেম্বর শুধুমাত্র ঐতিহাসিক নয়, ভৌগোলিকও। কেননা, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুসংহত হয়েছিল এই দিনে। জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ বাকশালের কঙ্কাল থেকে বেরিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছিল।

অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রতিনিয়ত বর্তমান সরকারী দল জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে অবমাননা করছে। পরশ্রীকাতর হয়ে প্রতিসিংহার রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, এই প্রতিহিংসার একমাত্র কারণ হলো জিয়াউর রহমান কেন এত জনপ্রিয় হলেন, বিএনপির জনপ্রিয়তার কাছে বারবার কেন তাদের পরাজয় হয়। এছাড়াও অন্যান্য আলোচকগণ বলেন, বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা আজ চরম সংকটে নিপতিত। দেশ পরিচালিত হচ্ছে বাকশালী কায়দায়। ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতাসহ গণতান্ত্রিক সকল অধিকার থেকে দেশের জনগণ আজ বঞ্চিত।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি সত্তে¡ও এই অবৈধ সরকার নির্বিকার। কভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় চরমভাবে ব্যর্থ। জনগণের সহায়তার নামে সরকারী দলের সমর্থকেরা কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশ পাচার করছে। সরকারী দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা নারীদের শ্লীলতাহানী, মামলা-হামলা এবং গুম-খুণ-মানহানী এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আলোচকগণ উল্লেখ করেন, মহান নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে প্রতিনিয়ত অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা দিয়ে আটক রাখা হয়েছে। আলোচকগণ আরো বলেন, দেশের এই চরম সংকটময় পরিস্থিতি থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো আরও একটি বিপ্লব। আপামর জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই।

বক্তারা সকলকে জাতীয়তাবাদী আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহŸান জানান এবং বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করেন।আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন উদযাপন কমিটির আহবায়ক এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মামুনুর রশীদ ।

ঢাকা, ০৮ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।