নির্বাচনী হালচাল: এবার সহিংসতায় ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু


Published: 2021-01-15 22:32:21 BdST, Updated: 2021-02-28 01:09:43 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: বিভিন্ন নির্বাচনে সরকারী দলের ভেতরে নতুন নতুন দল-উপ-দল গজিয়েছে। বেসামাল হয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও মুলদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। যে যেভাবে যখন তখন হচ্ছেন আক্রমনের শিকার। এ ক্ষেত্রে বিএনপিও কম নয়। তারাও যেখানে সেখানে হামলা করছে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের। আবার হামলার শিকার হচ্ছেন হর হামেশাই। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহিংসতায় আওয়ামী লীগ কর্মী বাবুল হত্যাকান্ডের তিন দিনের মাথায় এবার ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো ছাত্রলীগ কর্মী আশিকুর রহমান রোহিতের (২২)।

শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে বলে জানা গেছে। নিহত আশিকুর রহমান রোহিত ওমরগণি এমইএস কলেজের ছাত্রলীগের কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর বাকলিয়া থানার ডিসি রোড এলাকার বাসিন্দা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ভুঁইয়া শুক্রবার সকালে এ তথ্য জানান।

পরিদর্শক জহিরুল জানান, আশিকুর রহমান রোহিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর দিন ৮ই জানুয়ারি আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রচারণায় অংশ নেন। এ সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত হন তিনি। এরপর তাকে চমেক হাসপাতালের ২৪ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ৯ই জানুয়ারি আশিকুর রহমানের ভাই জাহিদুর রহমান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, মহিউদ্দিন, বাবু এবং সাবু। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলাচ্ছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াসির আরাফাত।

এদিকে শুক্রবার সকালে আশিকুর রহমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নগরীর চকবাজার গুলজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ এসে তাদেরে সরিয়ে দেয়। নির্বাচনী সহিংসতায় আশিকুর রহমান রোহিত চট্টগ্রামে দ্বিতীয় হত্যাকান্ডের শিকার বলে জানান ছাত্রলীগ নেতারা।

প্রসঙ্গত, গত ১২ই জানুয়ারি মঙ্গলবার নগরীর ২৮ নং পাঠানটুলি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে একজন নিহত হয়। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহিংসতায় আওয়ামী লীগ কর্মী বাবুল হত্যাকান্ডের তিন দিনের মাথায় এবার ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো ছাত্রলীগ কর্মী আশিকুর রহমান রোহিতের (২২)।

শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে বলে জানা গেছে। নিহত আশিকুর রহমান রোহিত ওমরগণি এমইএস কলেজের ছাত্রলীগের কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর বাকলিয়া থানার ডিসি রোড এলাকার বাসিন্দা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ভুঁইয়া শুক্রবার সকালে এ তথ্য জানান।

জহিরুল ইসলাম জানান, আশিকুর রহমান রোহিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর দিন ৮ই জানুয়ারি আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রচারণায় অংশ নেন। এ সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত হন তিনি। এরপর তাকে চমেক হাসপাতালের ২৪ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে ৯ই জানুয়ারি আশিকুর রহমানের ভাই জাহিদুর রহমান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, মহিউদ্দিন, বাবু এবং সাবু। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলাচ্ছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াসির আরাফাত।

বাসায় ডেকে কোপালেন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী:

এদিকে বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এক কর্মীকে বাসায় ডেকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ এক নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে। আহত ওই কর্মীর নাম মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। তিনি বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নিপা আক্তারের কর্মী। আহতাবস্থায় উদ্ধার করে তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেলোয়ারকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর নাম নাসরীন নাহার সুমি। একই ওয়ার্ডে তিনি অটোরিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে বরগুনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন নাসরীন নাহার সুমির বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আহত দেলোয়ার হোসেন বলেন, বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নিপা আক্তারের টেলিফোন প্রতীকের পক্ষে বাসায় বাসায় গিয়ে ভোট চাইতে আমি শহীদ মিনার এলাকায় যাই। এসময় নিপা আক্তারের প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী নাসরিন নাহার সুমি আমাকে তার বাসা থেকে দেখে ফেলেন।

পরে তিনি আমাকে ডেকে বাসায় ডেকে নেন। এসময় আমি কার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি, তা তিনি জানাতে চান। আমি নিপা আক্তারের টেলিফোন প্রতীকের প্রচারণা চালাচ্ছি, এটা বলতেই তিনি আমাকে গালাগাল শুরু করেন। আমি এর প্রতিবাদ করতেই তিনি একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার মাথায় কোপ বসিয়ে দেন। আর পরবর্তীতে তার বাসার আসেপাশে টেলিফোন প্রতীকের প্রচারণা চালাতে না যাওয়ার জন্য সতর্কও করে দেন। পরবর্তীতে ওই এলাকায় ভোট চাইতে গেলে অবস্থা খারাপ হবে বলেও আমাকে হুমকি দেন তিনি।

অভিযুক্ত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নাসরিন নাহার সুমির বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ মোটেই সত্য নয়। আমার জনপ্রিয়তায় ভাটা লাগাতে আমার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিচ্ছেন। বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যেই অবগত হয়েছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দুই সমর্থককে কুপিয়ে জখম:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদের সমর্থক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান ও তার ভাগ্নে আরিফ হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র মুক্তার আলীর সমর্থকরা।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নুরনগর গ্রামের এই ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরাও আড়ানী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন। হামলার শিকার বজলুর রহমান অন্য এক কাউন্সিলর প্রার্থীকে সমর্থন করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, হামলার শিকার ব্যক্তিরা ও হামলাকারীরা আপন চাচাত ভাই। তারা একে অপরকে সমর্থন করে শুনেছি। তবে ঘটনা জানার পর তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে বজলুর রহমানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নৌকার পক্ষে নির্বাচন করায় তার চাচাত ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত।

প্রসঙ্গত, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর নির্বাচনে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় আড়ানী পৌরবাজারের তালতলা এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নৌকার নির্বাচন কমিটির আহবায়ক আবদুল মতিন মতি বাদি হয়ে মুক্তার আলীকে প্রধান আসামি করে ৫০ জনে নাম উল্লেখ করে ৫০০/৬০০ জনের নামে মামলা বিস্ফোরণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় মিলন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ:

এদিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী শ্রীধাম দাশ গুপ্তকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও আদাঐর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক পাঠান জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টায় কেন্দ্রীয় নেতাদের বিদায় জানাতে সড়ক ও জনপথের ডাক বাংলোর সামনে প্রার্থীসহ আমারা দাঁড়িয়ে ছিলাম।

এ সময় প্রার্থীকে লক্ষ্য করে পর পর তিনটি ককলেট বোমা নিক্ষেপ করা হয়। অল্পের জন্য আমাদের শরীরে লাগেনি। এ ব্যপারে রাতেই শ্রীধাম দাশ গুপ্ত বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পংকজ সাহার সহোদর বর্তমান মেয়র হীরেন্দ্র লাল সাহাকে এক নাম্বার করে ৫৫জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগে আরো অজ্ঞাত রয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ জন।

শ্রীধাম দাশ গুপ্ত বলেন, আমাকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দিতেই এ ধরনের হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি মেয়র হীরেন্দ্র লাল সাহাকে আসামী করে মামলা দিয়েছি।
জানতে চাইলে পৌর মেয়র হীরেন্দ্র লাল সাহা বলেন, আমি এ ধরনের কোন ঘটনা কোথায় ঘটেছে শুনিনি। আমাকে আসামী করা হয়েছে এটি অবাক হওয়ার বিষয়।

মাধবপুর থানার পরিদর্শক(তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি।
এখন পর্যন্ত অভিযোগটি এফআইআর করা হয়নি।

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।