ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি: প্রত্যাখ্যান করে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম একাংশের


Published: 2021-06-17 20:14:29 BdST, Updated: 2021-08-06 09:11:22 BdST

ইবি লাইভ: দীর্ঘ ১১ বছর ৩ মাস পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। ঘোষণার পরপরই কমিটি নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনে অনিয়ম, পদপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারী, অছাত্রত্ব ও বিবাহের অভিযোগ তুলেছেন পদপ্রত্যাশী ও সংগঠনটির সাবেক নেতারা।

অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন কমিটি প্রত্যাখান করে কমিটি বাতিল চেয়ে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে পদপ্রত্যাশীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজসহ অন্যান্য পদপ্রত্যাশীরা এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ‘নতুন কমিটিতে যারা পদ পেয়েছে তাদের সিংহভাগ অপরিচিত। অধিকাংশই দলের মিটিং-মিছিলে উপস্থিত ছিল না। দলের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের ষড়যন্ত্র করতে রাখা হয়েছে। কমিটিতে ত্যাগী ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই পকেট, সিন্ডিকেট ও লোক দেখানো কমিটি ঘৃণ্যভরে প্রত্যাখ্যান করছি। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এই কমিটি বাতিল না করলে আমরা ১০ জন পদত্যাগ করবো।’

তারা বলেন, ‘নতুন কমিটির আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালে তার এক বান্ধবীকে পানির বোতলে প্রশাব ভরে খাওয়ান। সেই ঘটনার পর তার বান্ধবীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক বছর বহিষ্কৃত ছিলেন। এছাড়া সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুনের ছাত্রত্ব নেই এবং তিনি বিবাহিত। সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী অছাত্র ও বিবাহিতদের সংগঠনে ন্যূনতম সদস্য হওয়ারও যোগ্যতা নেই।’

সম্মেলনে আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি দল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সুপার ফাইভের সাথে বৈঠকে একমাত্র আমাকেই সদস্য সচিব প্রস্তাব করা হয়েছিল। আমার সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। পাশাপাশি ত্যাগী ও কারাবরণকারীদেরও বঞ্চিত করা হয়েছে। সাংগঠনিক অভিভাভক তারেক রহমানের কাছে আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

সংগঠনটির আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বান্ধবীর সাথে সংঘটিত ঘটনাটি ২০০৮ সালের। সেই ঘটনার সাথে রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। সেটি নিতান্তই বিভাগীয় বিষয়। আর আমি রাজনীতিতে ২০১০ সালে পদে এসেছি।’

কমিটি গঠনে অনিয়ম হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র খোঁজখবর নিয়েই কমিটি দিয়েছে। সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে আনিত বিবাহের অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিয়ে করলে আমরা জানতাম। অভিযোগকারী ডকুমেন্ট দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি অভিযোগ সত্য হয় তাহলে সে পতত্যাগ করবে অথবা সেন্ট্রাল ব্যবস্থা নেবে।’

বিবাহের বিষয় অস্বীকার করে সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন সাংবাদিককের বলেন, ‘আমার উপর আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগকারী দালিলিক প্রমাণ দিতে পারলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবো। এমন কর্মকাণ্ডে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে অসম্মান করা হচ্ছে। এসময় দলের এই ক্রান্তি লগ্নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১০ সালের ১৭ মার্চ ইবি শাখা ছাত্রদলের ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। এতে আইন বিভাগের ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষের ওমর ফারুককে সভাপতি ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের রাশেদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

পরে গতকাল বুধবার (১৬ জুন) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের সাহেদ আহম্মেদকে আহ্বায়ক এবং ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের মাসুদ রুমী মিথুনকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

ঢাকা, ১৭ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।