এনএসইউ: 'আফগানিস্তানে তালেবান যোদ্ধাদের উত্থান' শীর্ষক ওয়েবিনার সম্পন্ন


Published: 2021-08-10 06:19:37 BdST, Updated: 2021-10-26 18:13:03 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিনিধি এবং সিনিয়র উপদেষ্টা, হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অব ইসলামিক রিপাবলিক অফ আফগানিস্তানের ডাঃ এম মুস্তাফা মাস্তুর বলেছেন,"আমরা তালেবানদের সাথে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছি এবং বুঝতে পারি যে তারা আফগানিস্তান পরিচালনার জন্য তাদের নিজস্ব ইসলামিক ধাঁচের সরকার বাস্তবায়নে অনড়। এটিই বর্তমান সংঘাতের একটি প্রধান কারণ বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তান ইস্যুতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আগের মতো শক্তিশালী নয়। আশা করি ভবিষ্যতে এটি আরো জোরদার হবে। তিনি সুদূর কাবুল থেকে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের একটি ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে এই বক্তব্য রাখেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সাউথ এশিয়ান ইন্সিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (এসআইপিজি)’র উদ্যোগে “বর্তমান আফগান পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ” শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেছেন। ৯ আগস্ট, আয়োজিত ওয়েবিনারের উদ্দেশ্য ছিল আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি কিভাবে বাংলাদেশ ও পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে- এ বিষয়ে আলোচনা করা ।

প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, বলেন,“আমরা আফগানিস্তানে চলমান শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জানাই। জাতিসংঘকে তার প্রচেষ্টা আরো বাড়াতে বলি। আমরা আমাদের দক্ষিণ এশীয় এবং সার্ক সদস্য রাষ্ট্র আফগানিস্তানকে আর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেখতে চাই না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ চলমান শান্তি আলোচনার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, বহুত্ববাদী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে আফগান জনগণের নিজস্ব অধিকারকে সমর্থন জানায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আফগানিস্তানের উন্নয়ন অংশীদার হওয়ার জন্য জোর দিচ্ছে এবং পারস্পরিক সুবিধার জন্য আফগানিস্তানকে সকল দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। পররাষ্ট্র সচিব মোমেন আরও উল্লেখ করেন যে, পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ার সাথে সাথেই বাংলাদেশ কাবুলে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু করবে।

ওয়েবিনারের মূল বক্তা সিনিয়র ফেলো, এসআইপিজি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল এবং বাংলাদেশে বর্তমান আফগান সঙ্কটের ভূ -রাজনীতি এবং পরিণতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, যে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা অতীতের মতো বিরূপ প্রভাব ফেলবে যা এই অঞ্চলের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিপন্ন করতে পারে। তিনি আরও বলেন যে, বাংলাদেশকে আফগানিস্তানসহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার কথা বিবেচনা করা উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, তালেবানের উগ্র এবং নমনীয় আচরণ উভয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। তালেবানরা তেলের দাম এবং ইসলামিক বিবাহে মোহরানার পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে আফগান জনসাধারণের হৃদয় জয় করার চেষ্টা করছে।

ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, দুর্বল শাসন ব্যবস্থা এবং ব্যবসা করার উচ্চ খরচ সহ নিরাপত্তা সেখানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানে শান্তি স্থাপন ও উন্নয়নের জন্য প্রথমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত শহীদুল হক ( নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসআইপিজির প্রফেসোরিয়াল ফেলো) বলেন, যদিও পাকিস্তান, ভারত, ইরান সকলেই আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের দৌড়ে আছে, কিন্তু ন্যাটো এবং মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের মাধ্যমে তৈরি শূন্যতা পূরণে চীনের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

জাতীয় আফগান সরকার, সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সদস্য হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ই এসসিও সদস্য হওয়ায় এটি কোন দিকে মোড় নেয় তা দেখতে আকর্ষণীয় হবে। তিনি আরও বলেন, "আফগানিস্তানে শান্তি ও নিরাপত্তা আনার জন্য, তাদের শাসন বাইরের কারো হস্তক্ষেপ ছাড়া তাদের দেশের জনগণের দ্বারাই করা উচিত"।

ওয়েবিনারের সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন যে, যদিও তালেবানের উত্থান পাকিস্তানের জন্য প্রাথমিক কৌশলগত লাভের দিকে ইঙ্গিত করে, কিন্তু পাকিস্তান আরও বিশৃঙ্খলা এবং আফগানিস্তান থেকে শরণার্থীদের আগমনের ঝুঁকিতে আছে যদি সেখানে আরেকটি গৃহযুদ্ধ শুরু হয় । তিনি আরও বলেন যে ভারতের ভয় পাওয়ার ভাল কারণ রয়েছে কারণ চীন আফগানিস্তানের উপরও তীক্ষ্ণ নজর রাখবে। চীন ইতিমধ্যেই তালেবান নেতাদের সাথে দেখা করেছে কারণ তারা জিনজিয়াং এবং বিআরআই প্রকল্পে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ চায় না।

আফগান জনগণের জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে একটি আফগান লোকগান বাজানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, ব্যাংকক, ইতালি, যুক্তরাজ্য, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

০৯ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।